বাক্য শুদ্ধিকরন

বাক্য শুদ্ধিকরণ হলো—কোনো বাক্যে থাকা ব্যাকরণগত ভুল, শব্দের ভুল ব্যবহার, বানান ভুল, কারক–বিভক্তির ভুল, ক্রিয়ার ভুল, বচন–লিঙ্গের ভুল, অপ্রয়োজনীয় শব্দের ব্যবহার ইত্যাদি সংশোধন করে বাক্যকে শুদ্ধ ও প্রমিত রূপ দেওয়া।

যে সব কারণে বাক্য অশুদ্ধ হয়

১। সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল বা অশুদ্ধি: একই বাক্যে সাধু ও চলিত রীতির শব্দ ব্যবহার করলেও বাক্য অশুদ্ধ হয়। যেমন-তাহারা এইখানে এসেছিল। শুদ্ধ: তারা এখানে এসেছিল।

২। বানানগত অশুদ্ধি: বাক্যের যে কোন একটি বানান ভুল করলে ও বাক্য অশুদ্ধ হয়। যেমন- আমার আকাঙ্খা পূর্ণ হলো না। শুদ্ধ: আমার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো না।

৩। শব্দের বাহুল্য প্রয়োগ: সংক্ষেপে বাহুল্য বলতে ভাষার মাধ্যমে কোন অর্থ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত শব্দ, শব্দগুচ্ছ বা শব্দাংশ ব্যবহার করাকে বোঝায়। যেমন- সকল আলেমগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শুদ্ধ: সকল আলেম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

৪। পুরুষ-স্ত্রীবাচক শব্দজনিত ভুল: যেমন-কে এই ভাগ্যবান মহিলা তাকে ডেকে আনো।শুদ্ধ: কে এই ভাগ্যবতী মহিলা তাকে ডেকে আনো।

৫। গুরুচন্ডালী দোষ: সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সাথে অসংস্কৃত ( খাঁটি বাংলা,দেশী,বিদেশী) শব্দের মিশ্রণ। যেমন-সর্ববিষয়ে বাহুল্য বাদ দেবে।শুদ্ধ: সর্ববিষয়ে বাহুল্য বর্জন করবে।

৬। পদের অপপ্রয়োগজনিত ভুল: সঠিক অবস্থানকে পদকে বসাতে না পারলে বাক্য অশুদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে বাক্যটি বুঝতে ও যথেষ্ট অসুবিধা হয়। যেমন-কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। শুদ্ধ: কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

৭। অর্থ-সামঞ্জস্যহীন পদের ব্যবহার : অর্থের সামঞ্জস্য রেখে পদ চয়ন করতে হবে। নতুবা বাক্য অশুদ্ধ হবে।যেমন-বঙ্কিমের প্রতিভা ছিল অতি ভয়ঙ্কর।শুদ্ধ: বঙ্কিমের প্রতিভা ছিল অতি অসাধারণ।এখানে প্রতিভা কখনো ভয়ঙ্কর হতে পারে না।তাই বাক্যটি ভুল।

৮। বিশেষ্যের বিশেষণ-রুপে ব্যবহার: শব্দে বিশেষ্যকে বিশেষণ-রুপে ব্যবহার করলে বাক্য অশুদ্ধ হয়। যেমন- আমি অপমান হয়েছি।শুদ্ধ: আমি অপমানিত হইয়াছি।

৯। বিশেষণের বিশেষ্যের ন্যায় ব্যবহার: সঠিক স্থানে সঠিক পদ না বসাতে পারলে বাক্য অশুদ্ধ হয়।যেমন:আমি সাক্ষী দিয়েছি। শুদ্ধ: আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।

১০। বচনঘটিত বাক্য শুদ্ধিকরণ: একই সাথে দুবার বহুবচন বাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না। একটি বাক্যে একাধিকবার বহুবচনবাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহারে “বাহুল্য দোষ” ঘটে। যেমন-সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।শুদ্ধ: সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত।

১১। লিঙ্গঘটিত বাক্য শুদ্ধিকরণ: সাধারণত পুংলিঙ্গ থেকে স্ত্রীলিঙ্গে অথবা স্ত্রীলিঙ্গ থেকে পুংলিঙ্গে রুপান্তরকালে কিছু প্রত্যয়,অতিরিক্ত শব্দ বা শব্দাংশ যুক্ত করতে হয়;যা না হলে ব্যাকরণজনিত ভুল দেখা দেয়।বিধেয় বিশেষণ অর্থাৎ বিশেষ্যের পরবর্তী বিশেষণে স্ত্রী বাচক হয়। যেমন-মেয়েটি পাগলি হয়ে গেছে।শুদ্ধ: মেয়েটি পাগল হয়ে গেছে।

১২। অর্থ-সামঞ্জস্যহীন বাক্যের ব্যবহার : অর্থ-সামঞ্জস্যহীন বাক্য বা শব্দের অতিব্যবহার বাক্য অশুদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।অর্থ প্রকাশের জন্য শব্দ নির্দিষ্ট একটি মাত্রায় ব্যবহার করা জরুরি নতুবা বাক্য অর্থের বিপর্যয় ঘটে। যেমন-শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না।শুদ্ধ: শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।

১৩। কি ও কী–এর মধ্যে পার্থক্য : আমরা অনেকেই মনে করি কি ও কী-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, দুটোর যেকোনো একটা লিখলেই চলে। কিন্তু কি আর কী একেবারেই আলাদা। যেসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেয়া যায়, সেসব প্রশ্নে ‘কি’ ব্যবহৃত হবে; আর যেসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেয়া যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ‘কী’ ব্যবহৃত হবে।তাছাড়া বিস্ময়সূচক বাক্য বিশেষণ কিংবা ক্রিয়াবিশেষণ হিশেবে ব্যবহৃত হলে ‘কী’ লিখতে হবে ।
উদাহরণ :
কি:
i) তুমি কি কেবলই ছবি?
ii) আমার ছোট তরি; বলো, যাবে কি?
কী:
i) কী করি আজ ভেবে না পাই!
ii) পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়!
বিস্ময়সূচক কী:
i) সে কী, দাদা! অর্ধেকটা ডিমের পুরোটাই খেয়ে ফেললেন!
ii) আহা! কী যে ভালো লাগল!

১। সমাসঘটিত বাক্য অশুদ্ধি: সমাসঘটিত অশুদ্ধির ক্ষেত্রে যেটা দেখা যায় সেটা হচ্ছে সমস্তপদের মাঝখানে ফাঁকা রাখা।সমস্তপদ সবসময় একসাথে লিখতে হবে।কখনো কখনো সমস্তপদটিকে হাইফেন দিয়ে ও লেখা হয়।“সহ” কিংবা “সহিত” শব্দের সাথে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে “সহ” ও “সহিত” এর স্থলে ‘স’ হয় ।যেমন- বন্ধুর সহিত বর্তমান-সবান্ধব।
উদাহরণ : অশুদ্ধ: সংবাদ পত্র না পড়লে কিছু জানা যায় না। শুদ্ধ: সংবাদপত্র না পড়লে কিছু জানা যায় না।অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক কুমিল্লা বাস করেন।শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক কুমিল্লা বাস করেন।

বাক্য শুদ্ধিকরণের বৈশিষ্ট্য

একটি শুদ্ধ বাক্যে—

  • কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকবে।
  • শব্দের সঠিক ব্যবহার হবে।
  • বানান শুদ্ধ হবে।
  • কারক ও বিভক্তি যথাযথ হবে।
  • ক্রিয়ার কাল একই থাকবে।
  • লিঙ্গ ও বচনের মিল থাকবে।
  • অপ্রয়োজনীয় শব্দ থাকবে না।
  • বিরামচিহ্ন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে।

বাক্য অশুদ্ধ হওয়ার আরও কিছু প্রধান কারণ

১. বানানগত ভুল

বাংলা বানানের ভুল হলে বাক্য অশুদ্ধ হয়।

অশুদ্ধ: সে বিদ্যালয়ে যায়না।

শুদ্ধ: সে বিদ্যালয়ে যায় না।

২. কারক ও বিভক্তির ভুল

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে অপেক্ষা বড়।

শুদ্ধ: তিনি আমার চেয়ে বড়।

আরও উদাহরণ—

অশুদ্ধ: সে আমাকে রাগ করল।

শুদ্ধ: সে আমার ওপর রাগ করল।

৩. ক্রিয়ার কালের অসামঞ্জস্য

একই বাক্যে বিভিন্ন কাল ব্যবহার করা যাবে না।

অশুদ্ধ: গতকাল আমি স্কুলে যাই।

শুদ্ধ: গতকাল আমি স্কুলে গিয়েছিলাম।

৪. লিঙ্গের ভুল

অশুদ্ধ: মেয়েটি খুব সাহসী ছেলে।

শুদ্ধ: মেয়েটি খুব সাহসী।

৫. বচনের ভুল

অশুদ্ধ: সকল ছাত্র এসেছে।

শুদ্ধ: সকল ছাত্র এসেছে। (প্রসঙ্গভেদে শুদ্ধ)

অথবা

সব ছাত্র এসেছে।

৬. শব্দের অপপ্রয়োগ

অশুদ্ধ: আমি জল পান খাই।

শুদ্ধ: আমি জল পান করি।

৭. অপ্রয়োজনীয় শব্দের ব্যবহার

অশুদ্ধ: আমি নিজে স্বচক্ষে দেখেছি।

শুদ্ধ: আমি স্বচক্ষে দেখেছি।

অথবা

আমি নিজে দেখেছি।

৮. বিদেশি শব্দের অযথা ব্যবহার

অশুদ্ধ: আমি আজ অফিসে এটেন্ড করব।

শুদ্ধ: আমি আজ অফিসে উপস্থিত থাকব।

৯. প্রবাদ–প্রবচনের ভুল ব্যবহার

অশুদ্ধ: এক ঢিলে দুই মাছ মারা।

শুদ্ধ: এক ঢিলে দুই পাখি মারা।

১০. বিরামচিহ্নের ভুল

অশুদ্ধ: তুমি কোথায় যাচ্ছ।

শুদ্ধ: তুমি কোথায় যাচ্ছ?

বাক্য শুদ্ধিকরণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

১. কর্তা ও ক্রিয়ার মিল

অশুদ্ধ: আমরা যায়।

শুদ্ধ: আমরা যাই।

২. সম্মানসূচক ক্রিয়া

অশুদ্ধ: শিক্ষক এসেছিল।

শুদ্ধ: শিক্ষক এসেছিলেন।

৩. দ্বিত্ব পরিহার

অশুদ্ধ: পুনরায় আবার আসবেন।

শুদ্ধ: পুনরায় আসবেন।

অথবা

আবার আসবেন।

৪. যথাযথ অনুসর্গ

অশুদ্ধ: আমি ঢাকা হতে এসেছি।

শুদ্ধ: আমি ঢাকা থেকে এসেছি।

৫. উপযুক্ত শব্দ নির্বাচন

অশুদ্ধ: আমি ভাত আহার করি।

শুদ্ধ: আমি ভাত খাই।

(সাহিত্যিক ভাষায় “আহার করি” গ্রহণযোগ্য হলেও সাধারণ ব্যবহারে “খাই” বেশি স্বাভাবিক।)

পরীক্ষায় বারবার আসা ৩০টি অশুদ্ধ–শুদ্ধ বাক্য

অশুদ্ধশুদ্ধ
আমি কাল আসিব।আমি কাল আসব।
সে বিদ্যালয়ে যায়না।সে বিদ্যালয়ে যায় না।
তিনি আমাকে অপেক্ষা বড়।তিনি আমার চেয়ে বড়।
গতকাল আমি বাজারে যাই।গতকাল আমি বাজারে গিয়েছিলাম।
সে আমাকে রাগ করল।সে আমার ওপর রাগ করল।
তিনি বাড়ি গেল।তিনি বাড়ি গেলেন।
আমার খুব ক্ষুধা লাগিয়াছে।আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে।
আমি জল পান খাই।আমি জল পান করি।
পুনরায় আবার এসো।পুনরায় এসো।
এক ঢিলে দুই মাছ মারা।এক ঢিলে দুই পাখি মারা।
আমি ঢাকা হতে আসছি।আমি ঢাকা থেকে আসছি।
আজকে আজই করো।আজই করো।
সে খুব অসুস্থ রোগী।সে খুব অসুস্থ।
তুমি কোথায় যাচ্ছ।তুমি কোথায় যাচ্ছ?
আমি বইটি পড়িতেছি।আমি বইটি পড়ছি।
তিনি আমাকে সাহায্য করিতে চাইল।তিনি আমাকে সাহায্য করতে চাইলেন।
সকল ছাত্ররা এসেছে।সকল ছাত্র এসেছে।
প্রত্যেক ছাত্ররা উপস্থিত।প্রত্যেক ছাত্র উপস্থিত।
অনেকগুলো মানুষ।অনেক মানুষ।
তিনি নিজেই স্বচক্ষে দেখেছেন।তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না কখনো।আমি কখনো তোমাকে বিশ্বাস করি না।
সে খুবই অধিক পরিশ্রমী।সে খুব পরিশ্রমী।
তারা সবাই একত্রিত হয়েছে।তারা একত্র হয়েছে।
তুমি আমাকে ফোন করিও না।তুমি আমাকে ফোন কোরো না।
আমি তার সাথে মিলিত হলাম।আমি তার সঙ্গে দেখা করলাম।
শিশুটি কাঁদিতেছে।শিশুটি কাঁদছে।
সে খুব আনন্দিত খুশি।সে খুব আনন্দিত।
আমার কাছে একটি মাত্র এক বই আছে।আমার কাছে মাত্র একটি বই আছে।
তুমি কেন আসেনি?তুমি কেন আসনি?
সে আমার অপেক্ষা লম্বা।সে আমার চেয়ে লম্বা।

মনে রাখার কৌশল

  • “আমাকে অপেক্ষা” নয় → “আমার চেয়ে“
  • “যায়না” নয় → “যায় না“
  • “সকল ছাত্ররা” নয় → “সকল ছাত্র“
  • “পুনরায় আবার” নয় → “পুনরায়” বা “আবার“
  • “ঢাকা হতে” (সাধারণ ব্যবহারে) নয় → “ঢাকা থেকে“

৫০০টি গুরুত্বপূর্ণ অশুদ্ধ–শুদ্ধ বাক্য ব্যাখ্যাসহ

প্রস্তাবিত সূচিপত্র

অধ্যায়বিষয়বাক্য সংখ্যা
১কারক ও বিভক্তি৬০
২ক্রিয়ার শুদ্ধ ব্যবহার৬০
৩বানানগত শুদ্ধি৬০
৪শব্দের অপপ্রয়োগ৬০
৫লিঙ্গ ও বচন৪০
৬সম্মানসূচক ভাষার ব্যবহার৩০
৭সন্ধি ও সমাসজনিত ভুল৩০
৮প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ ব্যবহার৫০
৯অপ্রয়োজনীয় শব্দ বর্জন৩০
১০বিরামচিহ্ন ও বাক্যগঠন৩০
১১মিশ্র অনুশীলন (চাকরির পরীক্ষার আদলে)৫০
মোট৫০০

অধ্যায়–১ : কারক ও বিভক্তি

১

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে অপেক্ষা বড়।

শুদ্ধ: তিনি আমার চেয়ে বড়।

ব্যাখ্যা: তুলনা বোঝাতে “চেয়ে“ ব্যবহার করতে হয়।

২

অশুদ্ধ: আমি ঢাকা হতে এসেছি।

শুদ্ধ: আমি ঢাকা থেকে এসেছি।

ব্যাখ্যা: উৎস বা স্থান বোঝাতে “থেকে“ বেশি শুদ্ধ ও প্রচলিত।

৩

অশুদ্ধ: সে আমাকে রাগ করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার ওপর রাগ করেছে।

ব্যাখ্যা: “রাগ করা” ক্রিয়ার সঙ্গে “ওপর“ অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

৪

অশুদ্ধ: আমার দ্বারা এই কাজ হবে না।

শুদ্ধ: আমি এই কাজ করতে পারব না।

ব্যাখ্যা: কথ্য ও প্রমিত বাংলায় অপ্রয়োজনীয় কর্মবাচ্য এড়ানো ভালো।

৫

অশুদ্ধ: আমার সাথে চল।

শুদ্ধ: আমার সঙ্গে চল।

ব্যাখ্যা: প্রমিত বাংলায় “সঙ্গে“ অধিক গ্রহণযোগ্য।

৬

অশুদ্ধ: তোমার উপর আমি নির্ভর করি।

শুদ্ধ: আমি তোমার ওপর নির্ভর করি।

ব্যাখ্যা: বাক্যের স্বাভাবিক শব্দক্রম বজায় রাখা উচিত।

৭

অশুদ্ধ: সে আমাকে বিশ্বাসী।

শুদ্ধ: সে আমাকে বিশ্বাস করে।

ব্যাখ্যা: “বিশ্বাসী” বিশেষণ; এখানে ক্রিয়া “বিশ্বাস করে“ প্রয়োজন।

৮

অশুদ্ধ: সে কলম দ্বারা লিখে।

শুদ্ধ: সে কলম দিয়ে লেখে।

ব্যাখ্যা: সাধারণ ব্যবহারে “দিয়ে“ বেশি স্বাভাবিক।

৯

অশুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি রাগ করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার ওপর রাগ করলেন।

ব্যাখ্যা: “রাগ করা”র সঙ্গে “ওপর“ ব্যবহার অধিক শুদ্ধ।

১০

অশুদ্ধ: তোমার নিকট একটি বই আছে?

শুদ্ধ: তোমার কাছে একটি বই আছে?

ব্যাখ্যা: কথ্য ও প্রমিত বাংলায় “কাছে“ বেশি প্রচলিত।

১১

অশুদ্ধ: তার বাড়ী গিয়েছিলাম।

শুদ্ধ: তার বাড়িতে গিয়েছিলাম।

ব্যাখ্যা: স্থানের ক্ষেত্রে “বাড়িতে“ ব্যবহার করতে হয়।

১২

অশুদ্ধ: তিনি স্কুলে হতে ফিরেছেন।

শুদ্ধ: তিনি স্কুল থেকে ফিরেছেন।

ব্যাখ্যা: স্থান ত্যাগ বোঝাতে “থেকে“ ব্যবহৃত হয়।

১৩

অশুদ্ধ: সে আমার উপরে হাসল।

শুদ্ধ: সে আমাকে নিয়ে হাসল।

ব্যাখ্যা: অর্থ অনুযায়ী সঠিক অনুসর্গ নির্বাচন করতে হবে।

১৪

অশুদ্ধ: সে নদীতে পার হলো।

শুদ্ধ: সে নদী পার হলো।

ব্যাখ্যা: “নদী পার হওয়া” একটি স্থির রূপ।

১৫

অশুদ্ধ: আমি তোমাকে সঙ্গে যাব।

শুদ্ধ: আমি তোমার সঙ্গে যাব।

ব্যাখ্যা: “সঙ্গে”র আগে সম্বন্ধবাচক রূপ (তোমার) হবে।

১৬

অশুদ্ধ: তিনি দুঃখে কাঁদলেন।

শুদ্ধ: তিনি দুঃখে কেঁদে ফেললেন।

ব্যাখ্যা: প্রসঙ্গ অনুযায়ী ক্রিয়ার স্বাভাবিক রূপ ব্যবহার করতে হয়।

১৭

অশুদ্ধ: সে আমাকে ভালোবাসা করে।

শুদ্ধ: সে আমাকে ভালোবাসে।

ব্যাখ্যা: “ভালোবাসা”র সঙ্গে আলাদা করে “করে” যোগ হয় না।

১৮

অশুদ্ধ: আমি বইতে পড়ি।

শুদ্ধ: আমি বই পড়ি।

ব্যাখ্যা: এখানে “বই” কর্ম; অতিরিক্ত বিভক্তি প্রয়োজন নেই।

১৯

অশুদ্ধ: সে আমার দিকে তাকাইলো।

শুদ্ধ: সে আমার দিকে তাকাল।

ব্যাখ্যা: প্রমিত ক্রিয়ারূপ “তাকাল“।

২০

অশুদ্ধ: তিনি আমাদের উপর সন্তুষ্ট।

শুদ্ধ: তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট।

ব্যাখ্যা: “সন্তুষ্ট” শব্দের সঙ্গে “প্রতি“ বেশি উপযুক্ত।

২১

অশুদ্ধ: সে বাজারকে গেল।

শুদ্ধ: সে বাজারে গেল।

ব্যাখ্যা: গন্তব্য বোঝাতে “এ“ বিভক্তি ব্যবহৃত হয়।

২২

অশুদ্ধ: আমি তোমায় সাহায্য করিব।

শুদ্ধ: আমি তোমাকে সাহায্য করব।

ব্যাখ্যা: প্রমিত চলিত রূপে “করব“ ব্যবহৃত হয়।

২৩

অশুদ্ধ: তিনি ছেলেকে অপেক্ষা লম্বা।

শুদ্ধ: তিনি ছেলেটির চেয়ে লম্বা।

ব্যাখ্যা: তুলনা বোঝাতে “চেয়ে“ ব্যবহার করতে হবে।

২৪

অশুদ্ধ: এই কথা সম্পর্কে আলোচনা করো।

শুদ্ধ: এই বিষয়ে আলোচনা করো।

ব্যাখ্যা: “আলোচনা”র সঙ্গে “বিষয়ে“ অধিক স্বাভাবিক।

২৫

অশুদ্ধ: আমার দ্বারা ভুল হয়েছে।

শুদ্ধ: আমার ভুল হয়েছে।

ব্যাখ্যা: অপ্রয়োজনীয় কর্মবাচ্য বাদ দিলে বাক্যটি সহজ ও শুদ্ধ হয়।

২৬

অশুদ্ধ: আমি তার কথা শুনিয়া হাসিলাম।

শুদ্ধ: আমি তার কথা শুনে হাসলাম।

ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে শুনে, হাসলাম ব্যবহার হবে।

২৭

অশুদ্ধ: সে আমার নিকট হইতে টাকা নিল।

শুদ্ধ: সে আমার কাছ থেকে টাকা নিল।

ব্যাখ্যা: প্রমিত চলিত রূপে কাছ থেকে অধিক গ্রহণযোগ্য।

২৮

অশুদ্ধ: তিনি দরজার ভিতরে প্রবেশ করলেন।

শুদ্ধ: তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন।

ব্যাখ্যা: অপ্রয়োজনীয় শব্দ বর্জন করা হয়েছে।

২৯

অশুদ্ধ: আমি তোমার জন্যে অপেক্ষা করছি।

শুদ্ধ: আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।

ব্যাখ্যা: জন্য-এর পরে অতিরিক্ত এ প্রয়োজন নেই।

৩০

অশুদ্ধ: সে আমার সাথে কথা বললো।

শুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে কথা বলল।

ব্যাখ্যা: প্রমিত রূপ সঙ্গে, বলল।

৩১

অশুদ্ধ: শিক্ষক ছাত্রদের প্রতি রাগ করলেন।

শুদ্ধ: শিক্ষক ছাত্রদের ওপর রাগ করলেন।

ব্যাখ্যা: রাগ করা-র সঙ্গে ওপর অধিক শুদ্ধ।

৩২

অশুদ্ধ: আমি কলমটা দিয়ে লিখিতেছি।

শুদ্ধ: আমি কলম দিয়ে লিখছি।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপে লিখছি হবে।

৩৩

অশুদ্ধ: সে মাঠের মধ্যে দৌড়ায়।

শুদ্ধ: সে মাঠে দৌড়ায়।

ব্যাখ্যা: এখানে মধ্যে অপ্রয়োজনীয়।

৩৪

অশুদ্ধ: তিনি আমার দিকে চাহিলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার দিকে তাকালেন।

ব্যাখ্যা: চলিত ও প্রমিত রূপ তাকালেন।

৩৫

অশুদ্ধ: আমি তার উপর ভরসা করি।

শুদ্ধ: আমি তার ওপর ভরসা করি।

ব্যাখ্যা: ওপর প্রমিত বানান।

৩৬

অশুদ্ধ: সে আমার কাছে হতে বই নিয়েছে।

শুদ্ধ: সে আমার কাছ থেকে বই নিয়েছে।

ব্যাখ্যা: উৎস বোঝাতে থেকে ব্যবহৃত হয়।

৩৭

অশুদ্ধ: তারা নদীর ভিতর সাঁতার কাটছে।

শুদ্ধ: তারা নদীতে সাঁতার কাটছে।

ব্যাখ্যা: ভিতর অপ্রয়োজনীয়।

৩৮

অশুদ্ধ: আমি তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাব।

শুদ্ধ: আমি তোমাকে নিয়ে যাব।

ব্যাখ্যা: সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় পুনরুক্তি।

৩৯

অশুদ্ধ: সে আমার উপর নির্ভরশীল।

শুদ্ধ: সে আমার ওপর নির্ভরশীল।

ব্যাখ্যা: প্রমিত বানান ওপর।

৪০

অশুদ্ধ: তিনি গ্রামের দিকে গমন করলেন।

শুদ্ধ: তিনি গ্রামের দিকে গেলেন।

ব্যাখ্যা: সাধারণ গদ্যে গেলেন অধিক স্বাভাবিক।

৪১

অশুদ্ধ: আমি তার প্রতি বিশ্বাস করি।

শুদ্ধ: আমি তাকে বিশ্বাস করি।

ব্যাখ্যা: বিশ্বাস করা সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে।

৪২

অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি ভালোবাসা দেখায়।

শুদ্ধ: সে আমাকে ভালোবাসে।

ব্যাখ্যা: সহজ ও শুদ্ধ রূপ।

৪৩

অশুদ্ধ: আমরা বাসের ভিতরে উঠলাম।

শুদ্ধ: আমরা বাসে উঠলাম।

ব্যাখ্যা: ভিতরে অপ্রয়োজনীয়।

৪৪

অশুদ্ধ: তিনি অফিসে থেকে বাসায় গেলেন।

শুদ্ধ: তিনি অফিস থেকে বাসায় গেলেন।

ব্যাখ্যা: স্থান ত্যাগ বোঝাতে থেকে হবে।

৪৫

অশুদ্ধ: আমি তার নিকট ক্ষমা চাইলাম।

শুদ্ধ: আমি তার কাছে ক্ষমা চাইলাম।

ব্যাখ্যা: চলিত প্রমিত রূপ কাছে।

৪৬

অশুদ্ধ: সে আমার দিকে হাসল।

শুদ্ধ: সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল।

ব্যাখ্যা: অর্থ স্পষ্ট করা হয়েছে।

৪৭

অশুদ্ধ: তিনি আমার উপর দয়া করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি দয়া করলেন।

ব্যাখ্যা: দয়া করা-র সঙ্গে প্রতি ব্যবহৃত হয়।

৪৮

অশুদ্ধ: আমি বইয়ের মধ্যে ছবি দেখলাম।

শুদ্ধ: আমি বইয়ে ছবি দেখলাম।

ব্যাখ্যা: মধ্যে অপ্রয়োজনীয়।

৪৯

অশুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করে।

শুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে একমত।

ব্যাখ্যা: সংক্ষিপ্ত ও শুদ্ধ রূপ।

৫০

অশুদ্ধ: তিনি দরিদ্রদের উপর সহানুভূতিশীল।

শুদ্ধ: তিনি দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল।

ব্যাখ্যা: সহানুভূতিশীল-এর সঙ্গে প্রতি ব্যবহৃত হয়।

৫১

অশুদ্ধ: আমি তার কাছে থেকে সংবাদ পেলাম।

শুদ্ধ: আমি তার কাছ থেকে সংবাদ পেলাম।

ব্যাখ্যা: কাছ থেকে নয়, কাছ থেকে-এর সঠিক রূপ কাছ থেকে → কাছ থেকে লিখলেও চলিত প্রমিত রূপ কাছ থেকে/কাছ হতে; এখানে সর্বাধিক স্বাভাবিক কাছ থেকে।

৫২

অশুদ্ধ: সে বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে গেল।

শুদ্ধ: সে বিদ্যালয়ের সামনে গেল।

ব্যাখ্যা: দিয়ে অপ্রয়োজনীয়, যদি অতিক্রম বোঝানো না হয়।

৫৩

অশুদ্ধ: আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

শুদ্ধ: আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ।

ব্যাখ্যা: কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি-এর পরিবর্তে বিশেষণ ব্যবহার অধিক স্বাভাবিক।

৫৪

অশুদ্ধ: তিনি আমার উপরে সন্তুষ্ট নন।

শুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট নন।

ব্যাখ্যা: সন্তুষ্ট-এর সঙ্গে প্রতি ব্যবহৃত হয়।

৫৫

অশুদ্ধ: আমরা মাঠের উপর খেলি।

শুদ্ধ: আমরা মাঠে খেলি।

ব্যাখ্যা: উপর অপ্রয়োজনীয়।

৫৬

অশুদ্ধ: সে আমার কাছে আসিয়া দাঁড়াইল।

শুদ্ধ: সে আমার কাছে এসে দাঁড়াল।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ এসে দাঁড়াল।

৫৭

অশুদ্ধ: আমি তার দ্বারা উপকৃত হয়েছি।

শুদ্ধ: আমি তার কাছ থেকে উপকার পেয়েছি।

ব্যাখ্যা: কথ্য ও প্রমিত বাংলায় সহজ রূপ অধিক গ্রহণযোগ্য।

৫৮

অশুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি করুণা করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি করুণা দেখালেন।

ব্যাখ্যা: করুণা করা অপেক্ষা করুণা দেখানো অধিক প্রমিত।

৫৯

অশুদ্ধ: সে গাছের উপরে উঠল।

শুদ্ধ: সে গাছে উঠল।

ব্যাখ্যা: উপরে অপ্রয়োজনীয়।

৬০

অশুদ্ধ: আমি তোমার উপর আশা রাখি।

শুদ্ধ: আমি তোমার ওপর আশা রাখি।

ব্যাখ্যা: প্রমিত বানান ওপর।

৬১

অশুদ্ধ: আমি ভাত খাইতেছি।

শুদ্ধ: আমি ভাত খাচ্ছি।

ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে খাচ্ছি হবে।

৬২

অশুদ্ধ: সে বই পড়িতেছে।

শুদ্ধ: সে বই পড়ছে।

ব্যাখ্যা: চলিত ক্রিয়ারূপ ব্যবহার করতে হবে।

৬৩

অশুদ্ধ: আমি গতকাল স্কুলে যাই।

শুদ্ধ: আমি গতকাল স্কুলে গিয়েছিলাম।

ব্যাখ্যা: অতীত ঘটনার জন্য অতীত কাল ব্যবহার করতে হবে।

৬৪

অশুদ্ধ: কাল আমি ঢাকা গিয়েছিলাম।

শুদ্ধ: কাল আমি ঢাকা যাব।

ব্যাখ্যা: ভবিষ্যৎ সময়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাল ব্যবহার করতে হবে।

৬৫

অশুদ্ধ: তুমি কোথায় গিয়েছিল?

শুদ্ধ: তুমি কোথায় গিয়েছিলে?

ব্যাখ্যা: মধ্যম পুরুষের ক্রিয়ার সঠিক রূপ গিয়েছিলে।

৬৬

অশুদ্ধ: তিনি আজ স্কুলে যায়।

শুদ্ধ: তিনি আজ স্কুলে যান।

ব্যাখ্যা: সম্মানসূচক কর্তার সঙ্গে সম্মানসূচক ক্রিয়া হবে।

৬৭

অশুদ্ধ: শিক্ষক ক্লাসে আসল।

শুদ্ধ: শিক্ষক ক্লাসে এলেন।

ব্যাখ্যা: সম্মানার্থে এলেন হবে।

৬৮

অশুদ্ধ: বাবা আমাকে ডাকল।

শুদ্ধ: বাবা আমাকে ডাকলেন।

ব্যাখ্যা: সম্মানসূচক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সম্মানসূচক ক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে।

৬৯

অশুদ্ধ: তুমি বইটা পড়িয়াছ?

শুদ্ধ: তুমি বইটা পড়েছ?

ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে পড়েছ হবে।

৭০

অশুদ্ধ: সে কখন আসিবে?

শুদ্ধ: সে কখন আসবে?

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ আসবে।

৭১

অশুদ্ধ: আমি কাজটি করিয়াছি।

শুদ্ধ: আমি কাজটি করেছি।

ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে করেছি।

৭২

অশুদ্ধ: সে আমাকে বলিয়া দিল।

শুদ্ধ: সে আমাকে বলে দিল।

ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে বলে দিল।

৭৩

অশুদ্ধ: তুমি এখানে দাঁড়াইয়া থাক।

শুদ্ধ: তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাক।

ব্যাখ্যা: দাঁড়িয়ে চলিত রূপ।

৭৪

অশুদ্ধ: আমি তোমার কথা শুনিয়া কাঁদিলাম।

শুদ্ধ: আমি তোমার কথা শুনে কেঁদে ফেললাম।

ব্যাখ্যা: চলিত ও স্বাভাবিক ক্রিয়ারূপ ব্যবহার করা হয়েছে।

৭৫

অশুদ্ধ: তারা খেলিতেছে।

শুদ্ধ: তারা খেলছে।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপে খেলছে।

৭৬

অশুদ্ধ: শিশুটি হাসিতেছে।

শুদ্ধ: শিশুটি হাসছে।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ হাসছে।

৭৭

অশুদ্ধ: তুমি কি ভাত খাইয়াছ?

শুদ্ধ: তুমি কি ভাত খেয়েছ?

ব্যাখ্যা: খেয়েছ প্রমিত চলিত রূপ।

৭৮

অশুদ্ধ: সে অনেকক্ষণ ধরিয়া অপেক্ষা করিতেছে।

শুদ্ধ: সে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ ধরে, করছে।

৭৯

অশুদ্ধ: আমি তার সাথে দেখা করিয়াছিলাম।

শুদ্ধ: আমি তার সঙ্গে দেখা করেছিলাম।

ব্যাখ্যা: করেছিলাম চলিত রূপ।

৮০

অশুদ্ধ: তারা কাল এখানে আসিত।

শুদ্ধ: তারা কাল এখানে আসত।

ব্যাখ্যা: সম্ভাব্য অতীত বোঝাতে আসত।

৮১

অশুদ্ধ: আমি আজ যাব না গিয়েছিলাম।

শুদ্ধ: আমি আজ যাব না।

ব্যাখ্যা: একই বাক্যে ভবিষ্যৎ ও অতীত কাল মিশানো যাবে না।

৮২

অশুদ্ধ: তুমি আমাকে চিনিলে না?

শুদ্ধ: তুমি আমাকে চিনলে না?

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ চিনলে।

৮৩

অশুদ্ধ: তিনি আমার কথা শুনলেন না ছিল।

শুদ্ধ: তিনি আমার কথা শোনেননি।

ব্যাখ্যা: ক্রিয়ার সঠিক রূপ শোনেননি।

৮৪

অশুদ্ধ: আমি এখনই গেলাম আসছি।

শুদ্ধ: আমি এখনই আসছি।

ব্যাখ্যা: একই বাক্যে পরস্পরবিরোধী ক্রিয়া ব্যবহার করা যাবে না।

৮৫

অশুদ্ধ: তুমি কেন আসেনি?

শুদ্ধ: তুমি কেন আসনি?

ব্যাখ্যা: মধ্যম পুরুষের সঠিক ক্রিয়ারূপ আসনি।

৮৬

অশুদ্ধ: সে বই পড়ে ছিল।

শুদ্ধ: সে বই পড়েছিল।

ব্যাখ্যা: যৌগিক ক্রিয়ার শুদ্ধ রূপ পড়েছিল।

৮৭

অশুদ্ধ: আমি কাজটা করে ফেলিয়াছি।

শুদ্ধ: আমি কাজটা করে ফেলেছি।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ ফেলেছি।

৮৮

অশুদ্ধ: সে খাইয়া ঘুমাইল।

শুদ্ধ: সে খেয়ে ঘুমাল।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ খেয়ে, ঘুমাল।

৮৯

অশুদ্ধ: আমরা সবাই গিয়াছিলাম।

শুদ্ধ: আমরা সবাই গিয়েছিলাম।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ গিয়েছিলাম।

৯০

অশুদ্ধ: ছাত্ররা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিল।

শুদ্ধ: ছাত্ররা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করল।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপে করল হবে।

৯১

অশুদ্ধ: আমি আজই কাজটি করিব।

শুদ্ধ: আমি আজই কাজটি করব।

ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে করব হবে।

৯২

অশুদ্ধ: সে আমাকে ডাকিতেছিল।

শুদ্ধ: সে আমাকে ডাকছিল।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপে ডাকছিল হবে।

৯৩

অশুদ্ধ: তারা ফুটবল খেলিতেছিল।

শুদ্ধ: তারা ফুটবল খেলছিল।

ব্যাখ্যা: চলিত ক্রিয়ারূপ খেলছিল।

৯৪

অশুদ্ধ: আমি তাকে চিনিয়াছিলাম।

শুদ্ধ: আমি তাকে চিনেছিলাম।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ চিনেছিলাম।

৯৫

অশুদ্ধ: তুমি কোথায় যাইতেছ?

শুদ্ধ: তুমি কোথায় যাচ্ছ?

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ যাচ্ছ।

৯৬

অশুদ্ধ: সে আমাকে বলিতেছে।

শুদ্ধ: সে আমাকে বলছে।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ বলছে।

৯৭

অশুদ্ধ: আমরা খেলিতে যাইতেছি।

শুদ্ধ: আমরা খেলতে যাচ্ছি।

ব্যাখ্যা: খেলতে যাচ্ছি প্রমিত চলিত রূপ।

৯৮

অশুদ্ধ: শিশুটি কাঁদিতেছিল।

শুদ্ধ: শিশুটি কাঁদছিল।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ কাঁদছিল।

৯৯

অশুদ্ধ: তিনি আমাদের সাহায্য করিলেন না ছিলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাদের সাহায্য করেননি।

ব্যাখ্যা: একই অর্থে দুটি ক্রিয়া ব্যবহার করা অশুদ্ধ।

১০০

অশুদ্ধ: আমি কখনও মিথ্যা বলি নাই।

শুদ্ধ: আমি কখনও মিথ্যা বলিনি।

ব্যাখ্যা: চলিত রীতিতে বলিনি হবে।

১০১

অশুদ্ধ: তুমি এখানে বসিও না।

শুদ্ধ: তুমি এখানে বোসো না।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপে বোসো না।

১০২

অশুদ্ধ: দরজাটি খুলিয়া দাও।

শুদ্ধ: দরজাটি খুলে দাও।

ব্যাখ্যা: খুলে চলিত রূপ।

১০৩

অশুদ্ধ: জানালাটি বন্ধ করিয়া দাও।

শুদ্ধ: জানালাটি বন্ধ করে দাও।

ব্যাখ্যা: করে দাও চলিত রূপ।

১০৪

অশুদ্ধ: তুমি এখনই যাইও না।

শুদ্ধ: তুমি এখনই যেও না।

ব্যাখ্যা: নিষেধসূচক ক্রিয়ার প্রমিত রূপ যেও না।

১০৫

অশুদ্ধ: সবাই মন দিয়া শুন।

শুদ্ধ: সবাই মন দিয়ে শোনো।

ব্যাখ্যা: দিয়ে শোনো প্রমিত চলিত রূপ।

১০৬

অশুদ্ধ: তিনি কাল এখানে আসিবেন।

শুদ্ধ: তিনি কাল এখানে আসবেন।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ আসবেন।

১০৭

অশুদ্ধ: সে বইটি পড়িয়া শেষ করেছে।

শুদ্ধ: সে বইটি পড়ে শেষ করেছে।

ব্যাখ্যা: পড়ে চলিত রূপ।

১০৮

অশুদ্ধ: আমি তাহাকে ডাকিয়াছিলাম।

শুদ্ধ: আমি তাকে ডেকেছিলাম।

ব্যাখ্যা: ডেকেছিলাম প্রমিত চলিত রূপ।

১০৯

অশুদ্ধ: আমরা আজ যাইব না।

শুদ্ধ: আমরা আজ যাব না।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ যাব।

১১০

অশুদ্ধ: তুমি আমার কথা শুনিও।

শুদ্ধ: তুমি আমার কথা শোনো।

ব্যাখ্যা: আদেশসূচক চলিত রূপ শোনো।

১১১

অশুদ্ধ: তিনি বাড়িতে থাকিতেন।

শুদ্ধ: তিনি বাড়িতে থাকতেন।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ থাকতেন।

১১২

অশুদ্ধ: সে স্কুলে যাইত না।

শুদ্ধ: সে স্কুলে যেত না।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপ যেত না।

১১৩

অশুদ্ধ: আমি বইটি আনিয়া দিলাম।

শুদ্ধ: আমি বইটি এনে দিলাম।

ব্যাখ্যা: এনে দিলাম চলিত রূপ।

১১৪

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে বসিতে বললেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাকে বসতে বললেন।

ব্যাখ্যা: বসতে চলিত রূপ।

১১৫

অশুদ্ধ: তুমি খাইয়া এসো।

শুদ্ধ: তুমি খেয়ে এসো।

ব্যাখ্যা: খেয়ে চলিত রূপ।

১১৬

অশুদ্ধ: সে গিয়া বসিল।

শুদ্ধ: সে গিয়ে বসল।

ব্যাখ্যা: গিয়ে বসল প্রমিত চলিত রূপ।

১১৭

অশুদ্ধ: তারা কাজ করিয়া ফেলেছে।

শুদ্ধ: তারা কাজ করে ফেলেছে।

ব্যাখ্যা: করে ফেলেছে চলিত রূপ।

১১৮

অশুদ্ধ: আমি তাহাকে দেখিয়া চিনিলাম।

শুদ্ধ: আমি তাকে দেখে চিনলাম।

ব্যাখ্যা: দেখে চিনলাম চলিত রূপ।

১১৯

অশুদ্ধ: সে উঠিয়া দাঁড়াল।

শুদ্ধ: সে উঠে দাঁড়াল।

ব্যাখ্যা: উঠে দাঁড়াল প্রমিত চলিত রূপ।

১২০

অশুদ্ধ: আমরা সময়মতো পৌঁছাইতে পারিলাম না।

শুদ্ধ: আমরা সময়মতো পৌঁছাতে পারলাম না।

ব্যাখ্যা: পৌঁছাতে পারলাম না চলিত ও প্রমিত রূপ।

১২১

অশুদ্ধ: বিদ্যালয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিল।

শুদ্ধ: বিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিল।

ব্যাখ্যা: ছাত্রছাত্রী একটি সমাসবদ্ধ শব্দ; সাধারণত হাইফেন ছাড়াই লেখা হয়।

১২২

অশুদ্ধ: দায়িত্ব পালনে সে অত্যন্ত আন্তরিক।

শুদ্ধ: দায়িত্ব পালনে সে অত্যন্ত আন্তরিক।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ বানান। পরীক্ষায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য আন্তরিক/আন্তরিক ধরনের ভুল দেওয়া হয়।

১২৩

অশুদ্ধ: তিনি আশির্বাদ করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আশীর্বাদ করলেন।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান আশীর্বাদ।

১২৪

অশুদ্ধ: সে অনুমতি ব্যতিত প্রবেশ করেছে।

শুদ্ধ: সে অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করেছে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ব্যতীত।

১২৫

অশুদ্ধ: সে অদ্ভুদ গল্প বলল।

শুদ্ধ: সে অদ্ভুত গল্প বলল।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান অদ্ভুত।

১২৬

অশুদ্ধ: তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শুদ্ধ: তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ বানান; পরীক্ষায় অভিনন্ধন ভুল হিসেবে আসতে পারে।

১২৭

অশুদ্ধ: আজ আবহাওয়া খুব মনোরম।

শুদ্ধ: আজ আবহাওয়া খুব মনোরম।

ব্যাখ্যা: আবহাওয়া-ই শুদ্ধ।

১২৮

অশুদ্ধ: সে আকস্মিক ভাবে চলে গেল।

শুদ্ধ: সে আকস্মিকভাবে চলে গেল।

ব্যাখ্যা: ভাবে আলাদা নয়; –ভাবে যুক্ত হয়ে লেখা হয়।

১২৯

অশুদ্ধ: বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুদ্ধ: বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান অত্যন্ত।

১৩০

অশুদ্ধ: তিনি অনুগ্রহ পুর্বক বসতে বললেন।

শুদ্ধ: তিনি অনুগ্রহ পূর্বক বসতে বললেন।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান পূর্বক।

১৩১

অশুদ্ধ: আজকের অনুষ্ঠানে অনেক অতিথী এসেছেন।

শুদ্ধ: আজকের অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি এসেছেন।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান অতিথি।

১৩২

অশুদ্ধ: সে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

শুদ্ধ: সে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

ব্যাখ্যা: অভিজ্ঞতা শুদ্ধ; অভিগ্যতা ভুল।

১৩৩

অশুদ্ধ: তিনি ঔষধ খেলেন।

শুদ্ধ: তিনি ঔষধ খেলেন।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ঔষধ। (আধুনিক প্রয়োগে ওষুধ-ও বহুল স্বীকৃত ও প্রচলিত।)

১৩৪

অশুদ্ধ: আমাদের কর্তব্য পালন করা উচিত।

শুদ্ধ: আমাদের কর্তব্য পালন করা উচিত।

ব্যাখ্যা: কর্তব্য শুদ্ধ; কর্তব্য্য ভুল।

১৩৫

অশুদ্ধ: সে কৃপার পাত্র।

শুদ্ধ: সে কৃপার পাত্র।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান কৃপা।

১৩৬

অশুদ্ধ: সে কৌতুহলী ছেলে।

শুদ্ধ: সে কৌতূহলী ছেলে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান কৌতূহলী।

১৩৭

অশুদ্ধ: গুরূজনদের সম্মান করতে হবে।

শুদ্ধ: গুরুজনদের সম্মান করতে হবে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান গুরুজন।

১৩৮

অশুদ্ধ: তিনি গৃহিনী।

শুদ্ধ: তিনি গৃহিণী।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান গৃহিণী।

১৩৯

অশুদ্ধ: তার চক্ষু সুন্দর।

শুদ্ধ: তার চক্ষু সুন্দর।

ব্যাখ্যা: চক্ষু শুদ্ধ; চোখও প্রসঙ্গভেদে গ্রহণযোগ্য।

১৪০

অশুদ্ধ: সে চাঞ্চল্যকর সংবাদ শুনল।

শুদ্ধ: সে চাঞ্চল্যকর সংবাদ শুনল।

ব্যাখ্যা: চাঞ্চল্যকর শুদ্ধ বানান।

১৪১

অশুদ্ধ: জীবন সংগ্রামে সফল হতে হবে।

শুদ্ধ: জীবনসংগ্রামে সফল হতে হবে।

ব্যাখ্যা: সমাসবদ্ধ রূপে জীবনসংগ্রাম একসঙ্গে লেখা হয়।

১৪২

অশুদ্ধ: জ্যোতিষ্ক বিদ্যা।

শুদ্ধ: জ্যোতির্বিদ্যা।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ শব্দ জ্যোতির্বিদ্যা।

১৪৩

অশুদ্ধ: ঝর্নার পানি।

শুদ্ধ: ঝরনার পানি।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ঝরনা।

১৪৪

অশুদ্ধ: টেলিভিষণ দেখছি।

শুদ্ধ: টেলিভিশন দেখছি।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান টেলিভিশন।

১৪৫

অশুদ্ধ: দায়িত্বশীল নাগরিক হও।

শুদ্ধ: দায়িত্বশীল নাগরিক হও।

ব্যাখ্যা: দায়িত্বশীল শুদ্ধ বানান।

১৪৬

অশুদ্ধ: দুর্ভোগের সম্মুখিন হতে হয়।

শুদ্ধ: দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান সম্মুখীন।

১৪৭

অশুদ্ধ: নিরবতা বজায় রাখুন।

শুদ্ধ: নীরবতা বজায় রাখুন।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান নীরবতা।

১৪৮

অশুদ্ধ: পরিক্ষা আগামীকাল।

শুদ্ধ: পরীক্ষা আগামীকাল।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান পরীক্ষা।

১৪৯

অশুদ্ধ: প্রতিষ্টানটি অনেক পুরোনো।

শুদ্ধ: প্রতিষ্ঠানটি অনেক পুরোনো।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান প্রতিষ্ঠান।

১৫০

অশুদ্ধ: প্রয়োজনিয় কাগজপত্র আনো।

শুদ্ধ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনো।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান প্রয়োজনীয়।

১৫১

অশুদ্ধ: অনুষ্টানটি খুব সুন্দর হয়েছে।

শুদ্ধ: অনুষ্ঠানটি খুব সুন্দর হয়েছে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান অনুষ্ঠান।

১৫২

অশুদ্ধ: অনুস্ঠান আগামীকাল হবে।

শুদ্ধ: অনুষ্ঠান আগামীকাল হবে।

ব্যাখ্যা: অনুষ্ঠান-এ ষ্ঠ হবে।

১৫৩

অশুদ্ধ: সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো।

শুদ্ধ: সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপে করল হবে; কৃতজ্ঞতা-এর বানানও লক্ষণীয়।

১৫৪

অশুদ্ধ: বিষয়টি গুরুত্বপুর্ন।

শুদ্ধ: বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান গুরুত্বপূর্ণ।

১৫৫

অশুদ্ধ: সে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

শুদ্ধ: সে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান সুস্বাস্থ্য।

১৫৬

অশুদ্ধ: সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়েছে।

শুদ্ধ: সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান গৃহীত।

১৫৭

অশুদ্ধ: মহত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

শুদ্ধ: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

ব্যাখ্যা: মহত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ প্রমিত।

১৫৮

অশুদ্ধ: নিঃসন্দেহে সে সফল হবে।

শুদ্ধ: নিঃসন্দেহে সে সফল হবে।

ব্যাখ্যা: নিঃসন্দেহে শুদ্ধ; ভুল রূপ: নিসন্দেহে।

১৫৯

অশুদ্ধ: সে স্বত্বেও চেষ্টা চালিয়ে গেছে।

শুদ্ধ: সে সত্ত্বেও চেষ্টা চালিয়ে গেছে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান সত্ত্বেও।

১৬০

অশুদ্ধ: সে সম্মানীত ব্যক্তি।

শুদ্ধ: সে সম্মানিত ব্যক্তি।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান সম্মানিত।

১৬১

অশুদ্ধ: তার ব্যাক্তিত্ব আকর্ষণীয়।

শুদ্ধ: তার ব্যক্তিত্ব আকর্ষণীয়।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ব্যক্তিত্ব।

১৬২

অশুদ্ধ: ব্যাক্তিগত বিষয়।

শুদ্ধ: ব্যক্তিগত বিষয়।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ব্যক্তিগত।

১৬৩

অশুদ্ধ: সে বিগ্গান বিভাগে পড়ে।

শুদ্ধ: সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান বিজ্ঞান।

১৬৪

অশুদ্ধ: সে বানিজ্য বিভাগে পড়ে।

শুদ্ধ: সে বাণিজ্য বিভাগে পড়ে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান বাণিজ্য।

১৬৫

অশুদ্ধ: সে ব্যাবসা করে।

শুদ্ধ: সে ব্যবসা করে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ব্যবসা।

১৬৬

অশুদ্ধ: ব্যাবহার ভালো হওয়া উচিত।

শুদ্ধ: ব্যবহার ভালো হওয়া উচিত।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ব্যবহার।

১৬৭

অশুদ্ধ: সে ব্যাস্ত আছে।

শুদ্ধ: সে ব্যস্ত আছে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ব্যস্ত।

১৬৮

অশুদ্ধ: তিনি বিচক্ষন ব্যক্তি।

শুদ্ধ: তিনি বিচক্ষণ ব্যক্তি।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান বিচক্ষণ।

১৬৯

অশুদ্ধ: সে বিনীত ভাবে কথা বলল।

শুদ্ধ: সে বিনীতভাবে কথা বলল।

ব্যাখ্যা: ভাবে আলাদা নয়; –ভাবে যুক্ত হবে।

১৭০

অশুদ্ধ: বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্টান।

শুদ্ধ: বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান ক্রীড়ানুষ্ঠান।

১৭১

অশুদ্ধ: সে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়।

শুদ্ধ: সে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়।

ব্যাখ্যা: অবগত শুদ্ধ; ভুল রূপ: অবগতো।

১৭২

অশুদ্ধ: তার মেধাশক্তি প্রখর।

শুদ্ধ: তার মেধাশক্তি প্রখর।

ব্যাখ্যা: প্রখর শুদ্ধ; ভুল: প্রখোর।

১৭৩

অশুদ্ধ: মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ।

শুদ্ধ: মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ।

ব্যাখ্যা: অধ্যক্ষ শুদ্ধ; ভুল: অধ্যক্ষ্য।

১৭৪

অশুদ্ধ: সে মনযোগ দিয়ে পড়ে।

শুদ্ধ: সে মনোযোগ দিয়ে পড়ে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান মনোযোগ।

১৭৫

অশুদ্ধ: মুমুর্ষ রোগী।

শুদ্ধ: মুমূর্ষু রোগী।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান মুমূর্ষু।

১৭৬

অশুদ্ধ: যাথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুদ্ধ: যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান যথাযথ।

১৭৭

অশুদ্ধ: রুপকার।

শুদ্ধ: রূপকার।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান রূপকার।

১৭৮

অশুদ্ধ: লাক্ষ্য অর্জন করো।

শুদ্ধ: লক্ষ্য অর্জন করো।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান লক্ষ্য।

১৭৯

অশুদ্ধ: শরনাপন্ন হয়েছে।

শুদ্ধ: শরণাপন্ন হয়েছে।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান শরণাপন্ন।

১৮০

অশুদ্ধ: স্বাধিনতা আমাদের গৌরব।

শুদ্ধ: স্বাধীনতা আমাদের গৌরব।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান স্বাধীনতা।

১৮১

অশুদ্ধ: আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

শুদ্ধ: আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

ব্যাখ্যা: কৃতজ্ঞ শব্দের সঙ্গে সাধারণত প্রতি ব্যবহৃত হয়।

১৮২

অশুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে উপকার করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার উপকার করেছে।

ব্যাখ্যা: উপকার করা-এর সঙ্গে “সঙ্গে” ব্যবহৃত হয় না।

১৮৩

অশুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি দয়া করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি দয়া দেখিয়েছেন।

ব্যাখ্যা: ব্যক্তির ক্ষেত্রে দয়া দেখানো বেশি প্রমিত।

১৮৪

অশুদ্ধ: আমি তার থেকে একটি উপদেশ পেলাম।

শুদ্ধ: আমি তার কাছ থেকে একটি পরামর্শ পেলাম।

ব্যাখ্যা: উপদেশ ও পরামর্শ এক নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী শব্দ নির্বাচন করতে হয়।

১৮৫

অশুদ্ধ: সে আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ বাক্য। “বিশ্বাস ভাঙা” কথ্য হলেও “বিশ্বাস ভঙ্গ” প্রমিত।

১৮৬

অশুদ্ধ: তিনি একজন বড় কবি।

শুদ্ধ: তিনি একজন মহান কবি।

ব্যাখ্যা: ব্যক্তির গুণ বোঝাতে মহান বেশি উপযুক্ত; বড় সাধারণত আকার বা বয়স বোঝায়।

১৮৭

অশুদ্ধ: আমার বড় ভাই অনেক মহান।

শুদ্ধ: আমার বড় ভাই অনেক গুণী।

ব্যাখ্যা: “মহান” বিশেষ মর্যাদা বোঝায়; সাধারণ প্রশংসায় “গুণী” উপযুক্ত।

১৮৮

অশুদ্ধ: সে আমাকে ভালো পরামর্শ দিল।

শুদ্ধ: সে আমাকে উত্তম পরামর্শ দিল।

ব্যাখ্যা: আনুষ্ঠানিক ভাষায় উত্তম শব্দটি বেশি উপযুক্ত।

১৮৯

অশুদ্ধ: আমি তার দর্শন করতে গিয়েছিলাম।

শুদ্ধ: আমি তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।

ব্যাখ্যা: “দর্শন” সাধারণত পূজা, শ্রদ্ধা বা বিশেষ দেখার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

১৯০

অশুদ্ধ: তিনি আমার সাক্ষাৎ গ্রহণ করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।

ব্যাখ্যা: সাক্ষাৎ করা সঠিক ব্যবহার।

১৯১

অশুদ্ধ: আমি তার বাড়িতে অতিথি হয়েছি।

শুদ্ধ: আমি তার বাড়িতে অতিথি হয়েছি।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ বাক্য।

১৯২

অশুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে শত্রুতা করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে শত্রুতা করেছে।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ ব্যবহার।

১৯৩

অশুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি অভিযোগ করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

ব্যাখ্যা: অভিযোগ সাধারণত বিরুদ্ধে করা হয়।

১৯৪

অশুদ্ধ: আমি তার বিরুদ্ধে আপত্তি করেছি।

শুদ্ধ: আমি তার ব্যাপারে আপত্তি করেছি।

ব্যাখ্যা: প্রসঙ্গ অনুযায়ী “বিরুদ্ধে” ও “ব্যাপারে” ব্যবহৃত হয়।

১৯৫

অশুদ্ধ: সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

শুদ্ধ: সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ। “উত্তীর্ণ” অর্থ সফলভাবে অতিক্রম করা।

১৯৬

অশুদ্ধ: সে পরীক্ষায় পাশ হয়েছে।

শুদ্ধ: সে পরীক্ষায় পাস করেছে।

ব্যাখ্যা: ক্রিয়ারূপ হিসেবে পাস করেছে প্রমিত।

১৯৭

অশুদ্ধ: আমি তাকে ভালোবাসা করি।

শুদ্ধ: আমি তাকে ভালোবাসি।

ব্যাখ্যা: “ভালোবাসা” নিজেই ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৯৮

অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি ঘৃণা করে।

শুদ্ধ: সে আমাকে ঘৃণা করে।

ব্যাখ্যা: ঘৃণা করা সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে।

১৯৯

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে ক্ষমা প্রদান করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাকে ক্ষমা করলেন।

ব্যাখ্যা: সাধারণ ক্ষেত্রে “ক্ষমা করা” যথেষ্ট।

২০০

অশুদ্ধ: সে আমাকে সাহায্য দান করেছে।

শুদ্ধ: সে আমাকে সাহায্য করেছে।

ব্যাখ্যা: “সাহায্য” শব্দের সঙ্গে “দান” অপ্রয়োজনীয়।

২০১

অশুদ্ধ: আমার ক্ষুধা অনুভব হচ্ছে।

শুদ্ধ: আমার ক্ষুধা লেগেছে।

ব্যাখ্যা: সাধারণ ব্যবহারে “ক্ষুধা লাগা” বলা হয়।

২০২

অশুদ্ধ: তার জ্বর হয়েছে।

শুদ্ধ: তার জ্বর হয়েছে।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ বাক্য।

২০৩

অশুদ্ধ: আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শুদ্ধ: আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ব্যাখ্যা: “সিদ্ধান্ত নেওয়া” সঠিক প্রয়োগ।

২০৪

অশুদ্ধ: সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো।

শুদ্ধ: সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।

ব্যাখ্যা: চলিত রূপে “করল” হবে।

২০৫

অশুদ্ধ: তিনি বক্তৃতা প্রদান করলেন।

শুদ্ধ: তিনি বক্তৃতা দিলেন।

ব্যাখ্যা: সাধারণ ব্যবহারে “বক্তৃতা দিলেন” বেশি স্বাভাবিক।

২০৬

অশুদ্ধ: সে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে।

ব্যাখ্যা: কথ্য ও সহজ প্রমিত রূপ।

২০৭

অশুদ্ধ: তিনি সমস্যার সমাধান সূত্র বের করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি সমস্যার সমাধান বের করেছেন।

ব্যাখ্যা: “সূত্র” সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় না।

২০৮

অশুদ্ধ: সে আমার প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।

ব্যাখ্যা: সাধারণ বাক্যে “উত্তর দিয়েছে” অধিক স্বাভাবিক।

২০৯

অশুদ্ধ: আমি তার মতামতের সাথে একমত।

শুদ্ধ: আমি তার মতামতের সঙ্গে একমত।

ব্যাখ্যা: প্রমিত রূপে “সঙ্গে” ব্যবহার করা হয়।

২১০

অশুদ্ধ: সে আমার কথা অবহেলা করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার কথা উপেক্ষা করেছে।

ব্যাখ্যা:

  • অবহেলা = যত্ন না নেওয়া
  • উপেক্ষা = গুরুত্ব না দেওয়া

২১১

অশুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার ওপর রাগ করেছেন।

ব্যাখ্যা:
রাগ করা-এর সঙ্গে সাধারণত ওপর ব্যবহৃত হয়।

২১২

অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি বিরক্ত হয়েছে।

শুদ্ধ: সে আমার ওপর বিরক্ত হয়েছে।

ব্যাখ্যা:
বিরক্ত হওয়া → কারও ওপর বিরক্ত হওয়া।

২১৩

অশুদ্ধ: আমি তার প্রতি নির্ভরশীল।

শুদ্ধ: আমি তার ওপর নির্ভরশীল।

ব্যাখ্যা:
নির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে ওপর ব্যবহৃত হয়।

২১৪

অশুদ্ধ: সে আমার কথা শ্রবণ করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার কথা শুনেছে।

ব্যাখ্যা:
দৈনন্দিন ব্যবহারে শোনা সঠিক; শ্রবণ অপেক্ষাকৃত আনুষ্ঠানিক।

২১৫

অশুদ্ধ: আমি তার কথা দর্শন করেছি।

শুদ্ধ: আমি তার কথা শুনেছি।

ব্যাখ্যা:
দর্শন = দেখা; কথা দর্শন করা যায় না।

২১৬

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাকে একটি প্রশ্ন করলেন।

ব্যাখ্যা:
“প্রশ্ন জিজ্ঞাসা” বহুল ব্যবহৃত হলেও প্রমিত রূপে প্রশ্ন করা বেশি স্বাভাবিক।

২১৭

অশুদ্ধ: আমি তার নিকট প্রশ্ন করেছি।

শুদ্ধ: আমি তাকে প্রশ্ন করেছি।

ব্যাখ্যা:
প্রশ্ন করা সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে।

২১৮

অশুদ্ধ: সে আমার আদেশ পালন করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার আদেশ পালন করেছে।

ব্যাখ্যা:
এটি শুদ্ধ বাক্য।

২১৯

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে নির্দেশনা প্রদান করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন।

ব্যাখ্যা:
সাধারণ বাক্যে নির্দেশ দেওয়া বেশি প্রমিত।

২২০

অশুদ্ধ: ছাত্ররা শিক্ষকের উপদেশ গ্রহণ করল।

শুদ্ধ: ছাত্ররা শিক্ষকের পরামর্শ গ্রহণ করল।

ব্যাখ্যা:

  • উপদেশ = নৈতিক/শিক্ষামূলক কথা
  • পরামর্শ = মতামত বা সমাধানের নির্দেশ

২২১

অশুদ্ধ: সে আমার পরামর্শ অমান্য করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার পরামর্শ উপেক্ষা করেছে।

ব্যাখ্যা:

  • অমান্য = আদেশ না মানা
  • উপেক্ষা = গুরুত্ব না দেওয়া

২২২

অশুদ্ধ: আমি তার সাহায্য নিয়ে উপকৃত হয়েছি।

শুদ্ধ: আমি তার সাহায্যে উপকৃত হয়েছি।

ব্যাখ্যা:
“সাহায্যে উপকৃত” প্রচলিত ও শুদ্ধ ব্যবহার।

২২৩

অশুদ্ধ: তিনি আমার ভুল সংশোধন করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার ভুল সংশোধন করেছেন।

ব্যাখ্যা:
এটি শুদ্ধ বাক্য।

২২৪

অশুদ্ধ: সে আমাকে অনুগ্রহ করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছে।

ব্যাখ্যা:
অনুগ্রহ সাধারণত কারও প্রতি করা হয়।

২২৫

অশুদ্ধ: আমি তার প্রতি বাধ্য।

শুদ্ধ: আমি তার কাছে বাধ্য।

ব্যাখ্যা:
কৃতজ্ঞতা বা ঋণ স্বীকারে কারও কাছে বাধ্য বলা হয়।

২২৬

অশুদ্ধ: তিনি দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

ব্যাখ্যা:
এটি শুদ্ধ বাক্য।

২২৭

অশুদ্ধ: সে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে।

শুদ্ধ: সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

ব্যাখ্যা:

  • অবতীর্ণ = পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়া (প্রচলিত)
  • অংশগ্রহণ = কোনো কাজে যুক্ত হওয়া

২২৮

অশুদ্ধ: সে সভায় অংশগ্রহণ গ্রহণ করেছে।

শুদ্ধ: সে সভায় অংশগ্রহণ করেছে।

ব্যাখ্যা:
অংশগ্রহণের সঙ্গে “গ্রহণ” যুক্ত হয় না।

২২৯

অশুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন।

ব্যাখ্যা:
সহানুভূতি সাধারণত দেখানো হয়।

২৩০

অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি ঈর্ষা করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার প্রতি ঈর্ষা করেছে।

ব্যাখ্যা:
এটি শুদ্ধ বাক্য।

২৩১

অশুদ্ধ: সে আমার উন্নতি দেখে হিংসা করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার উন্নতি দেখে ঈর্ষা করেছে।

ব্যাখ্যা:

  • হিংসা = ক্ষতি করার প্রবণতা
  • ঈর্ষা = অন্যের উন্নতিতে অসন্তোষ

২৩২

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে সম্মান দিয়েছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাকে সম্মান করেছেন।

ব্যাখ্যা:
ব্যক্তিকে সম্মান করা হয়; সম্মান দেওয়াও প্রচলিত, তবে পরীক্ষায় “সম্মান করা” বেশি প্রমিত।

২৩৩

অশুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে প্রতারণা দিয়েছে।

শুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

ব্যাখ্যা:
প্রতারণা করা হয়।

২৩৪

অশুদ্ধ: তিনি একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ব্যাখ্যা:
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রদান করা হয় না।

২৩৫

অশুদ্ধ: আদালত রায় প্রদান করলেন।

শুদ্ধ: আদালত রায় ঘোষণা করলেন।

ব্যাখ্যা:
রায় সাধারণত ঘোষণা করা হয়।

২৩৬

অশুদ্ধ: সে আমার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।

শুদ্ধ: সে আমার কাছে অভিযোগ করেছে।

ব্যাখ্যা:
অভিযোগ করা হয়।

২৩৭

অশুদ্ধ: তিনি সমস্যাটি সমাধান প্রদান করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি সমস্যাটির সমাধান করেছেন।

ব্যাখ্যা:
সমাধান করা হয়, প্রদান করা হয় না।

২৩৮

অশুদ্ধ: আমি তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছি।

শুদ্ধ: আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।

ব্যাখ্যা:
সাধারণ ব্যবহারে “যোগাযোগ করা” যথেষ্ট।

২৩৯

অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি মুগ্ধ হয়েছে।

শুদ্ধ: সে আমার প্রতি মুগ্ধ হয়েছে।

ব্যাখ্যা:
এটি শুদ্ধ বাক্য।

২৪০

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে শুভেচ্ছা প্রদান করলেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাকে শুভেচ্ছা জানালেন।

ব্যাখ্যা:
শুভেচ্ছা জানানো হয়।

২৪১

অশুদ্ধ: রাণী রাজা মারা গেছেন।

শুদ্ধ: রাণী মারা গেছেন।

ব্যাখ্যা: রাণী স্ত্রীবাচক শব্দ; তার সঙ্গে রাজা ব্যবহার করা যাবে না।

২৪২

অশুদ্ধ: মহিলা কবি কবিতা লিখেছেন।

শুদ্ধ: কবি কবিতা লিখেছেন।

ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষায় অনেক পেশাবাচক শব্দ উভয় লিঙ্গে ব্যবহৃত হয়।

২৪৩

অশুদ্ধ: তিনি একজন মহিলা ডাক্তারনী।

শুদ্ধ: তিনি একজন মহিলা ডাক্তার।

ব্যাখ্যা: আধুনিক প্রমিত বাংলায় পেশার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় স্ত্রীবাচক প্রত্যয় ব্যবহার করা হয় না।

২৪৪

অশুদ্ধ: আমার পিতা একজন শিক্ষিকা।

শুদ্ধ: আমার পিতা একজন শিক্ষক।

ব্যাখ্যা: পিতা পুংলিঙ্গ; তাই শিক্ষক হবে।

২৪৫

অশুদ্ধ: আমার মাতা একজন শিক্ষক।

শুদ্ধ: আমার মাতা একজন শিক্ষিকা।

ব্যাখ্যা: মাতা স্ত্রীলিঙ্গ; তাই শিক্ষিকা।

২৪৬

অশুদ্ধ: বাঘিনীটি বনে ঘুরছে।

শুদ্ধ: বাঘিনীটি বনে ঘুরছে।

ব্যাখ্যা: স্ত্রীবাচক প্রাণীর ক্ষেত্রে বাঘিনী সঠিক।

২৪৭

অশুদ্ধ: গাভীটি দুধ দেয়।

শুদ্ধ: গাভীটি দুধ দেয়।

ব্যাখ্যা: গাভী স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ।

২৪৮

অশুদ্ধ: মোরগ ডিম পাড়ে।

শুদ্ধ: মুরগি ডিম পাড়ে।

ব্যাখ্যা: ডিম পাড়ে স্ত্রীজাতীয় পাখি।

২৪৯

অশুদ্ধ: ঘোড়াটি সন্তান প্রসব করেছে।

শুদ্ধ: ঘোড়ীটি সন্তান প্রসব করেছে।

ব্যাখ্যা: স্ত্রী ঘোড়াকে ঘোড়ী বলা হয়।

২৫০

অশুদ্ধ: রাজা রানীকে বিয়ে করলেন।

শুদ্ধ: রাজা রাণীকে বিয়ে করলেন।

ব্যাখ্যা: শুদ্ধ বানান রাণী।

২৫১

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রটি উপস্থিত ছিল।

শুদ্ধ: সকল ছাত্র উপস্থিত ছিল।

ব্যাখ্যা: সকল, সব, প্রত্যেক ইত্যাদির সঙ্গে একবচন চিহ্ন ব্যবহার করা যায় না।

২৫২

অশুদ্ধ: প্রত্যেক ছাত্ররা বই এনেছে।

শুদ্ধ: প্রত্যেক ছাত্র বই এনেছে।

ব্যাখ্যা: প্রত্যেকের সঙ্গে বহুবচন চিহ্ন “রা” ব্যবহার করা যায় না।

২৫৩

অশুদ্ধ: সমস্ত মানুষরা সুখী হতে চায়।

শুদ্ধ: সমস্ত মানুষ সুখী হতে চায়।

ব্যাখ্যা: সমস্ত নিজেই বহুত্ব বোঝায়।

২৫৪

অশুদ্ধ: অনেক ছাত্রটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

শুদ্ধ: অনেক ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

ব্যাখ্যা: অনেক-এর পরে একবচন প্রত্যয় ব্যবহার করা ভুল।

২৫৫

অশুদ্ধ: কয়েকজন ছাত্ররা এসেছে।

শুদ্ধ: কয়েকজন ছাত্র এসেছে।

ব্যাখ্যা: কয়েকজন নিজেই বহুবচন বোঝায়।

২৫৬

অশুদ্ধ: সকলেই তাদের নিজ নিজ কাজ করো।

শুদ্ধ: সকলেই তাদের নিজ নিজ কাজ করুক।

ব্যাখ্যা: কর্তার সঙ্গে ক্রিয়ার সামঞ্জস্য রাখতে হবে।

২৫৭

অশুদ্ধ: তারা প্রত্যেকে নিজের কাজ করেছে।

শুদ্ধ: তারা প্রত্যেকে নিজেদের কাজ করেছে।

ব্যাখ্যা: বহুবচনের সঙ্গে সর্বনামের সামঞ্জস্য দরকার।

২৫৮

অশুদ্ধ: ছাত্রবৃন্দরা মাঠে খেলছে।

শুদ্ধ: ছাত্রবৃন্দ মাঠে খেলছে।

ব্যাখ্যা: “বৃন্দ” নিজেই বহুবচন বোঝায়।

২৫৯

অশুদ্ধ: জনগণরা প্রতিবাদ করেছে।

শুদ্ধ: জনগণ প্রতিবাদ করেছে।

ব্যাখ্যা: জনগণ বহুবচনবাচক শব্দ।

২৬০

অশুদ্ধ: দর্শকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

শুদ্ধ: দর্শকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাখ্যা: বৃন্দের সঙ্গে “রা” যুক্ত হয় না।

২৬১

অশুদ্ধ: শিক্ষার্থীগণরা পরীক্ষায় অংশ নিল।

শুদ্ধ: শিক্ষার্থীগণ পরীক্ষায় অংশ নিল।

ব্যাখ্যা: গণ নিজেই বহুবচন বোঝায়।

২৬২

অশুদ্ধ: আমার দুইটি ভাই আছে।

শুদ্ধ: আমার দুই ভাই আছে।

ব্যাখ্যা: ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত “দুই ভাই” বলা হয়।

২৬৩

অশুদ্ধ: তিনজন ছেলেরা খেলছে।

শুদ্ধ: তিনজন ছেলে খেলছে।

ব্যাখ্যা: সংখ্যাবাচক শব্দের পরে বহুবচন চিহ্ন প্রয়োজন নেই।

২৬৪

অশুদ্ধ: পাঁচটি বইগুলো হারিয়ে গেছে।

শুদ্ধ: পাঁচটি বই হারিয়ে গেছে।

ব্যাখ্যা: সংখ্যা ও বহুবচন চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না।

২৬৫

অশুদ্ধ: অনেকগুলো মানুষ এসেছে।

শুদ্ধ: অনেক মানুষ এসেছে।

ব্যাখ্যা: অনেক নিজেই বহুত্ব প্রকাশ করে।

২৬৬

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত।

শুদ্ধ: সকল ছাত্রছাত্রী উপস্থিত।

ব্যাখ্যা: সকলের পরে “রা” অপ্রয়োজনীয়।

২৬৭

অশুদ্ধ: এইসব বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

শুদ্ধ: এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাখ্যা: এইসব/এসবের সঙ্গে অতিরিক্ত “গুলো” প্রয়োজন নেই।

২৬৮

অশুদ্ধ: প্রত্যেক ব্যক্তিরা নিজ নিজ মত প্রকাশ করেছেন।

শুদ্ধ: প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ মত প্রকাশ করেছেন।

ব্যাখ্যা: প্রত্যেকের সঙ্গে একবচন ব্যবহার হয়।

২৬৯

অশুদ্ধ: উভয় পক্ষরা রাজি হয়েছে।

শুদ্ধ: উভয় পক্ষ রাজি হয়েছে।

ব্যাখ্যা: উভয় নিজেই দ্বিবচন বোঝায়।

২৭০

অশুদ্ধ: তারা সবাই সকলেই এসেছে।

শুদ্ধ: তারা সবাই এসেছে।

ব্যাখ্যা: একই অর্থের দুটি বহুবাচক শব্দ একসঙ্গে ব্যবহার অনুচিত।

২৭১

অশুদ্ধ: কবি মহিলা ছিলেন।

শুদ্ধ: কবি মহিলা ছিলেন।

ব্যাখ্যা: আধুনিক বাংলায় কবি উভয় লিঙ্গে ব্যবহৃত হয়।

২৭২

অশুদ্ধ: নেত্রী একজন নেতা ছিলেন।

শুদ্ধ: নেত্রী একজন নেত্রী ছিলেন।

ব্যাখ্যা: স্ত্রীবাচক শব্দের সঙ্গে পুংলিঙ্গ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

২৭৩

অশুদ্ধ: বিদুষী নারী পণ্ডিত ছিলেন।

শুদ্ধ: বিদুষী নারী পণ্ডিত ছিলেন।

ব্যাখ্যা: বিদুষী নিজেই স্ত্রীবাচক।

২৭৪

অশুদ্ধ: তিনি একজন অভিনেত্রী অভিনেতা।

শুদ্ধ: তিনি একজন অভিনেত্রী।

ব্যাখ্যা: একই সঙ্গে দুই লিঙ্গ ব্যবহার অনুচিত।

২৭৫

অশুদ্ধ: মেষীটি মাঠে চরছে।

শুদ্ধ: মেষটি মাঠে চরছে।

ব্যাখ্যা: মেষ শব্দটি সাধারণত উভয় লিঙ্গে ব্যবহৃত হয়।

২৭৬

অশুদ্ধ: শিশুরা খেলছে এবং সে হাসছে।

শুদ্ধ: শিশুরা খেলছে এবং তারা হাসছে।

ব্যাখ্যা: বহুবচনের সঙ্গে বহুবচন সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে।

২৭৭

অশুদ্ধ: ছাত্ররা প্রত্যেকে নিজের বই এনেছে।

শুদ্ধ: ছাত্ররা প্রত্যেকে নিজেদের বই এনেছে।

ব্যাখ্যা: বহুবচনের সঙ্গে “নিজেদের” উপযুক্ত।

২৭৮

অশুদ্ধ: সকলেই তার নিজের দায়িত্ব পালন করেছে।

শুদ্ধ: সকলেই তাদের নিজের দায়িত্ব পালন করেছে।

ব্যাখ্যা: সকলেই বহুবচন ভাব প্রকাশ করে।

২৭৯

অশুদ্ধ: জনতা তাদের দাবি জানিয়েছে।

শুদ্ধ: জনতা তার দাবি জানিয়েছে।

ব্যাখ্যা: জনতা ব্যাকরণগতভাবে একবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২৮০

অশুদ্ধ: প্রত্যেক মানুষদের উচিত নিয়ম মানা।

শুদ্ধ: প্রত্যেক মানুষের উচিত নিয়ম মানা।

ব্যাখ্যা: প্রত্যেকের পরে একবচন শব্দ ব্যবহার হয়।

২৮১

অশুদ্ধ: আমি তার থেকে একটি কলম নিয়েছি।

শুদ্ধ: আমি তার কাছ থেকে একটি কলম নিয়েছি।

ব্যাখ্যা: গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বোঝাতে কাছ থেকে বেশি উপযুক্ত।

২৮২

অশুদ্ধ: সে আমার নিকট থেকে সাহায্য চেয়েছে।

শুদ্ধ: সে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে।

ব্যাখ্যা: ব্যক্তির ক্ষেত্রে কাছে ব্যবহৃত হয়।

২৮৩

অশুদ্ধ: আমি ঢাকা হতে রাজশাহী যাব।

শুদ্ধ: আমি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাব।

ব্যাখ্যা: স্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে থেকে ব্যবহৃত হয়।

২৮৪

অশুদ্ধ: সকাল হতে বৃষ্টি হচ্ছে।

শুদ্ধ: সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে।

ব্যাখ্যা: সময়ের শুরু বোঝাতে থেকে বেশি প্রচলিত।

২৮৫

অশুদ্ধ: তিনি আমার দ্বারা উপকার করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার দ্বারা উপকৃত হয়েছেন।

ব্যাখ্যা: দ্বারা সাধারণত কর্ম সম্পাদনের কর্তা বোঝায়।

২৮৬

অশুদ্ধ: আমি কলম দিয়ে চিঠি লিখেছি।

শুদ্ধ: আমি কলম দিয়ে চিঠি লিখেছি।

ব্যাখ্যা: যন্ত্র বা উপকরণ বোঝাতে দিয়ে সঠিক।

২৮৭

অশুদ্ধ: সে আমার উপর রাগ করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার ওপর রাগ করেছে।

ব্যাখ্যা: আধুনিক প্রমিত বানানে ওপর ব্যবহৃত হয়।

২৮৮

অশুদ্ধ: তার উপর নির্ভর করা যায়।

শুদ্ধ: তার ওপর নির্ভর করা যায়।

ব্যাখ্যা: নির্ভরতার ক্ষেত্রে ওপর ব্যবহৃত হয়।

২৮৯

অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি বিরক্ত।

শুদ্ধ: সে আমার ওপর বিরক্ত।

ব্যাখ্যা: বিরক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ওপর ব্যবহৃত হয়।

২৯০

অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি কৃতজ্ঞ।

শুদ্ধ: সে আমার কাছে কৃতজ্ঞ।

ব্যাখ্যা: কারও কাছে ঋণ স্বীকার বোঝাতে কাছে কৃতজ্ঞ বলা হয়।

২৯১

অশুদ্ধ: আমি দেশের প্রতি গর্বিত।

শুদ্ধ: আমি দেশ নিয়ে গর্বিত।

ব্যাখ্যা: গর্বিত হওয়ার ক্ষেত্রে “নিয়ে” বেশি স্বাভাবিক।

২৯২

অশুদ্ধ: সে আমার সাথে অন্যায় করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে।

ব্যাখ্যা: প্রমিত বানান সঙ্গে।

২৯৩

অশুদ্ধ: আমি তার সহিত দেখা করেছি।

শুদ্ধ: আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি।

ব্যাখ্যা: সহিত সাধু রীতি; চলিত রীতিতে সঙ্গে।

২৯৪

অশুদ্ধ: সে আমার দ্বারা রাগ করেছে।

শুদ্ধ: সে আমার ওপর রাগ করেছে।

ব্যাখ্যা: রাগের সঙ্গে দ্বারা ব্যবহৃত হয় না।

২৯৫

অশুদ্ধ: পরীক্ষার উদ্দেশ্যে সে পড়ছে।

শুদ্ধ: পরীক্ষার জন্য সে পড়ছে।

ব্যাখ্যা: উদ্দেশ্য বোঝাতে জন্য বেশি প্রচলিত।

২৯৬

অশুদ্ধ: সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

শুদ্ধ: সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ বাক্য।

২৯৭

অশুদ্ধ: এই কাজটি তার দ্বারা হবে না।

শুদ্ধ: এই কাজটি তার পক্ষে হবে না।

ব্যাখ্যা: সামর্থ্য বোঝাতে পক্ষে ব্যবহৃত হয়।

২৯৮

অশুদ্ধ: আমার দ্বারা এই কাজ সম্ভব।

শুদ্ধ: আমার পক্ষে এই কাজ সম্ভব।

ব্যাখ্যা: সক্ষমতা বোঝাতে পক্ষে উপযুক্ত।

২৯৯

অশুদ্ধ: সে আমার সঙ্গে থেকে পড়ে।

শুদ্ধ: সে আমার কাছে থেকে পড়ে।

ব্যাখ্যা: কারও আশ্রয়ে থাকা বোঝাতে কাছে।

৩০০

অশুদ্ধ: নদীর উপর সেতু নির্মাণ হয়েছে।

শুদ্ধ: নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হয়েছে।

ব্যাখ্যা: ওপর/উপর উভয় ব্যবহৃত হলেও আধুনিক রীতিতে ওপর বেশি প্রচলিত।

৩০১

অশুদ্ধ: যদিও সে গরিব কিন্তু সে সৎ।

শুদ্ধ: যদিও সে গরিব, তবু সে সৎ।

ব্যাখ্যা: যদিও-এর সঙ্গে তবু ব্যবহৃত হয়।

৩০২

অশুদ্ধ: যদি তুমি আসবে তবে আমি যাব।

শুদ্ধ: যদি তুমি আসো তবে আমি যাব।

ব্যাখ্যা: যদি-এর পরে সাধারণত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।

৩০৩

অশুদ্ধ: যখন তুমি আসবে তখন আমি যাব।

শুদ্ধ: যখন তুমি আসবে, তখন আমি যাব।

ব্যাখ্যা: দুটি অব্যয়ের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

৩০৪

অশুদ্ধ: সে পড়ে এবং খেলাধুলা করে।

শুদ্ধ: সে পড়ে এবং খেলাধুলা করে।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ।

৩০৫

অশুদ্ধ: সে দরিদ্র কিন্তু সৎ।

শুদ্ধ: সে দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

ব্যাখ্যা: বিপরীত ভাব প্রকাশে কিন্তু ব্যবহৃত হয়।

৩০৬

অশুদ্ধ: আমি যাব অথবা থাকব।

শুদ্ধ: আমি যাব অথবা থাকব।

ব্যাখ্যা: বিকল্প বোঝাতে অথবা সঠিক।

৩০৭

অশুদ্ধ: সে যেন সময়মতো আসে।

শুদ্ধ: সে যেন সময়মতো আসে।

ব্যাখ্যা: যেন ইচ্ছা বা প্রত্যাশা বোঝায়।

৩০৮

অশুদ্ধ: সে আসবে কি না জানি না।

শুদ্ধ: সে আসবে কি না জানি না।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ।

৩০৯

অশুদ্ধ: আমি তাকে দেখেছি মাত্রই।

শুদ্ধ: আমি তাকে মাত্র দেখেছি।

ব্যাখ্যা: মাত্র সাধারণত ক্রিয়ার আগে বসে।

৩১০

অশুদ্ধ: সে শুধু মাত্র একটি কাজ করেছে।

শুদ্ধ: সে শুধু একটি কাজ করেছে।

ব্যাখ্যা: শুধু ও মাত্র একসঙ্গে ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।

৩১১

অশুদ্ধ: সে অবশ্যই নিশ্চয় আসবে।

শুদ্ধ: সে অবশ্যই আসবে।

ব্যাখ্যা: একই অর্থের দুটি অব্যয় একসঙ্গে ব্যবহার অনুচিত।

৩১২

অশুদ্ধ: তাই জন্য আমি আসিনি।

শুদ্ধ: তাই আমি আসিনি।

ব্যাখ্যা: তাই ও জন্য একসঙ্গে ব্যবহার হয় না।

৩১৩

অশুদ্ধ: অতএব তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

শুদ্ধ: অতএব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

ব্যাখ্যা: অতএব নিজেই ফলাফল বোঝায়।

৩১৪

অশুদ্ধ: সে যদিও অসুস্থ কিন্তু এসেছে।

শুদ্ধ: সে যদিও অসুস্থ, তবু এসেছে।

ব্যাখ্যা: যদিও–তবু যুগল অব্যয়।

৩১৫

অশুদ্ধ: যত বেশি পড়বে তত বেশি শিখবে।

শুদ্ধ: যত বেশি পড়বে, তত বেশি শিখবে।

ব্যাখ্যা: যত–তত সম্পর্কিত অব্যয়।

৩১৬

অশুদ্ধ: যে পরিশ্রম করে সেই সফল হয়।

শুদ্ধ: যে পরিশ্রম করে, সেই সফল হয়।

ব্যাখ্যা: যে–সেই সম্পর্ক।

৩১৭

অশুদ্ধ: যখনই সে আসবে তখনই আমি যাব।

শুদ্ধ: যখনই সে আসবে, তখনই আমি যাব।

ব্যাখ্যা: যুগল অব্যয়ের মাঝে বিরামচিহ্ন প্রয়োজন।

৩১৮

অশুদ্ধ: সে না শুধু ভালো ছাত্র।

শুদ্ধ: সে শুধু ভালো ছাত্র নয়।

ব্যাখ্যা: শুধু নয় গঠনটি সঠিক।

৩১৯

অশুদ্ধ: বরং সে একজন ভালো মানুষ।

শুদ্ধ: বরং সে একজন ভালো মানুষ।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ।

৩২০

অশুদ্ধ: এমনকি সেও উপস্থিত ছিল।

শুদ্ধ: এমনকি সেও উপস্থিত ছিল।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ বাক্য।

৩২১

অশুদ্ধ: আমি এবং সে বাজারে গিয়েছিল।

শুদ্ধ: আমি এবং সে বাজারে গিয়েছিলাম।

ব্যাখ্যা: একাধিক কর্তা হলে ক্রিয়া বহুবচন হবে।

৩২২

অশুদ্ধ: রহিম ও করিম স্কুলে যায়।

শুদ্ধ: রহিম ও করিম স্কুলে যায়।

ব্যাখ্যা: একসঙ্গে একটি কাজকে অভ্যাস হিসেবে বোঝালে “যায়” ব্যবহার হতে পারে।

৩২৩

অশুদ্ধ: ছাত্ররা মাঠে খেলছে এবং সে হাসছে।

শুদ্ধ: ছাত্ররা মাঠে খেলছে এবং তারা হাসছে।

ব্যাখ্যা: বহুবচন কর্তার সঙ্গে বহুবচন সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে।

৩২৪

অশুদ্ধ: প্রত্যেক ছাত্ররা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

শুদ্ধ: প্রত্যেক ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

ব্যাখ্যা: প্রত্যেক-এর সঙ্গে একবচন ব্যবহার হয়।

৩২৫

অশুদ্ধ: সবাই তাদের কাজ করেছ।

শুদ্ধ: সবাই তাদের কাজ করেছে।

ব্যাখ্যা: কর্তার সঙ্গে ক্রিয়ার মিল থাকতে হবে।

৩২৬

অশুদ্ধ: জনগণ তাদের দাবি জানিয়েছে।

শুদ্ধ: জনগণ তার দাবি জানিয়েছে।

ব্যাখ্যা: জনগণ ব্যাকরণগতভাবে একবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩২৭

অশুদ্ধ: অধিকাংশ মানুষটি সুখী।

শুদ্ধ: অধিকাংশ মানুষ সুখী।

ব্যাখ্যা: অধিকাংশের পরে বহুবাচক অর্থবোধক শব্দ বসে।

৩২৮

অশুদ্ধ: অনেক ছাত্ররা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

শুদ্ধ: অনেক ছাত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

ব্যাখ্যা: অনেক-এর সঙ্গে “রা” ব্যবহার করা যায় না।

৩২৯

অশুদ্ধ: আমি নিজে স্বয়ং কাজটি করেছি।

শুদ্ধ: আমি নিজে কাজটি করেছি।

ব্যাখ্যা: নিজে ও স্বয়ং একই অর্থ প্রকাশ করে।

৩৩০

অশুদ্ধ: সে পুনরায় আবার ফিরে এসেছে।

শুদ্ধ: সে আবার ফিরে এসেছে।

ব্যাখ্যা: পুনরায় ও আবার একই অর্থবোধক।

৩৩১

অশুদ্ধ: বিনামূল্যে ফ্রি বিতরণ করা হয়েছে।

শুদ্ধ: বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা: বিনামূল্যে ও ফ্রি একই অর্থ প্রকাশ করে।

৩৩২

অশুদ্ধ: তিনি নিজ স্বচক্ষে দেখেছেন।

শুদ্ধ: তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন।

ব্যাখ্যা: নিজ ও স্ব একই অর্থে ব্যবহৃত।

৩৩৩

অশুদ্ধ: ভবিষ্যৎ আগামীকাল সম্পর্কে চিন্তা করো।

শুদ্ধ: ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তা করো।

ব্যাখ্যা: ভবিষ্যৎ ও আগামীকাল একই অর্থে নয়; এখানে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার হয়েছে।

৩৩৪

অশুদ্ধ: সে পূর্বে আগে এখানে ছিল।

শুদ্ধ: সে আগে এখানে ছিল।

ব্যাখ্যা: পূর্বে ও আগে একই অর্থে ব্যবহৃত।

৩৩৫

অশুদ্ধ: প্রধান মুখ্য বিষয় হলো শিক্ষা।

শুদ্ধ: মুখ্য বিষয় হলো শিক্ষা।

ব্যাখ্যা: প্রধান ও মুখ্য সমার্থক।

৩৩৬

অশুদ্ধ: আমি তাকে গতকাল দেখেছি বাজারে।

শুদ্ধ: আমি গতকাল বাজারে তাকে দেখেছি।

ব্যাখ্যা: শব্দের সঠিক বিন্যাসে বাক্য পরিষ্কার হয়।

৩৩৭

অশুদ্ধ: সে ভালো গান গায় খুব।

শুদ্ধ: সে খুব ভালো গান গায়।

ব্যাখ্যা: বিশেষণের সঠিক অবস্থান প্রয়োজন।

৩৩৮

অশুদ্ধ: বইটি আমি পড়েছি গতকাল।

শুদ্ধ: আমি গতকাল বইটি পড়েছি।

ব্যাখ্যা: স্বাভাবিক পদক্রম বজায় রাখতে হবে।

৩৩৯

অশুদ্ধ: ঢাকা থেকে আমি এসেছি আজ।

শুদ্ধ: আমি আজ ঢাকা থেকে এসেছি।

ব্যাখ্যা: সময় ও স্থানসূচক পদ যথাস্থানে বসে।

৩৪০

অশুদ্ধ: সে বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যায় সকালে।

শুদ্ধ: সে প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ে যায়।

ব্যাখ্যা: ক্রিয়ার আগে সময়সূচক পদ ব্যবহার অধিক স্বাভাবিক।

৩৪১

অশুদ্ধ: করিম রহিমকে তার বই দিয়েছে।

শুদ্ধ: করিম নিজের বই রহিমকে দিয়েছে।

ব্যাখ্যা: “তার” ব্যবহারে দ্ব্যর্থতা সৃষ্টি হয়।

৩৪২

অশুদ্ধ: শিক্ষক ছাত্রকে তার ভুল ধরিয়ে দিলেন।

শুদ্ধ: শিক্ষক ছাত্রের ভুল ধরিয়ে দিলেন।

ব্যাখ্যা: সর্বনামের পরিবর্তে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করলে অর্থ পরিষ্কার হয়।

৩৪৩

অশুদ্ধ: আমি তাকে যেতে বলেছি যে অসুস্থ।

শুদ্ধ: যে অসুস্থ, আমি তাকে যেতে বলেছি।

ব্যাখ্যা: বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে পদক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে।

৩৪৪

অশুদ্ধ: সে শুধু আমাকে নয় সবাইকে সাহায্য করেছে।

শুদ্ধ: সে শুধু আমাকে নয়, সবাইকে সাহায্য করেছে।

ব্যাখ্যা: বিরামচিহ্ন অর্থ পরিষ্কার করে।

৩৪৫

অশুদ্ধ: যে ছেলেটি প্রথম হয়েছে সে আমার ভাই।

শুদ্ধ: যে ছেলেটি প্রথম হয়েছে, সে আমার ভাই।

ব্যাখ্যা: সম্পর্কসূচক বাক্যের পরে কমা প্রয়োজন।

৩৪৬

অশুদ্ধ: আমি যেতে চাই না কারণ আমার শরীর খারাপ।

শুদ্ধ: আমি যেতে চাই না, কারণ আমার শরীর খারাপ।

ব্যাখ্যা: কারণের আগে বিরামচিহ্ন প্রয়োজন।

৩৪৭

অশুদ্ধ: যদি তুমি আসবে তবে আমি যাব।

শুদ্ধ: যদি তুমি আসো তবে আমি যাব।

ব্যাখ্যা: যদি-এর পরে সাধারণত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।

৩৪৮

অশুদ্ধ: যদিও সে গরিব কিন্তু সে সুখী।

শুদ্ধ: যদিও সে গরিব, তবু সে সুখী।

ব্যাখ্যা: যদিও–তবু যুগল ব্যবহার।

৩৪৯

অশুদ্ধ: সে পরিশ্রমী হওয়ার কারণে জন্য সফল হয়েছে।

শুদ্ধ: সে পরিশ্রমী হওয়ার কারণে সফল হয়েছে।

ব্যাখ্যা: কারণে ও জন্য একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না।

৩৫০

অশুদ্ধ: আমি জানি যে সে আসবে কি না।

শুদ্ধ: সে আসবে কি না, আমি জানি।

ব্যাখ্যা: বাক্যের স্বাভাবিক বিন্যাস।

৩৫১

অশুদ্ধ: সে আমার থেকে বয়সে বড়।

শুদ্ধ: সে আমার চেয়ে বয়সে বড়।

ব্যাখ্যা: তুলনার ক্ষেত্রে “চেয়ে” ব্যবহৃত হয়।

৩৫২

অশুদ্ধ: আমার থেকে সে ভালো পড়ে।

শুদ্ধ: আমার চেয়ে সে ভালো পড়ে।

ব্যাখ্যা: তুলনামূলক অর্থে চেয়ে।

৩৫৩

অশুদ্ধ: তিনি আমার চাইতে বয়সে ছোট।

শুদ্ধ: তিনি আমার চেয়ে বয়সে ছোট।

ব্যাখ্যা: প্রমিত রূপ “চেয়ে”।

৩৫৪

অশুদ্ধ: সে আমার অপেক্ষা ভালো।

শুদ্ধ: সে আমার চেয়ে ভালো।

ব্যাখ্যা: তুলনায় “চেয়ে” বেশি প্রচলিত।

৩৫৫

অশুদ্ধ: আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি জানি।

শুদ্ধ: আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি।

ব্যাখ্যা: একই অর্থের দুটি ক্রিয়া একসঙ্গে নয়।

৩৫৬

অশুদ্ধ: সে আমাকে সাহায্য করতে সক্ষম হতে পারে।

শুদ্ধ: সে আমাকে সাহায্য করতে পারে।

ব্যাখ্যা: অপ্রয়োজনীয় সহায়ক ক্রিয়া বাদ দিতে হবে।

৩৫৭

অশুদ্ধ: তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেখা করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

ব্যাখ্যা: একই অর্থের দুটি ক্রিয়া ব্যবহার অনুচিত।

৩৫৮

অশুদ্ধ: সে ভালো এবং উত্তম ছাত্র।

শুদ্ধ: সে উত্তম ছাত্র।

ব্যাখ্যা: ভালো ও উত্তম একই অর্থবোধক।

৩৫৯

অশুদ্ধ: এই বিষয়টি সম্পর্কে সম্বন্ধে আলোচনা করো।

শুদ্ধ: এই বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করো।

ব্যাখ্যা: সম্পর্কে ও সম্বন্ধে একসঙ্গে ব্যবহার হয় না।

৩৬০

অশুদ্ধ: সে সর্বদা সবসময় সত্য কথা বলে।

শুদ্ধ: সে সর্বদা সত্য কথা বলে।

ব্যাখ্যা: সর্বদা ও সবসময় একই অর্থ প্রকাশ করে।

৩৬১

অশুদ্ধ: সে আমাকে চোখে ধুলো দিয়েছে (মারধর করেছে)।

শুদ্ধ: সে আমাকে চোখে ধুলো দিয়েছে (প্রতারণা করেছে)।

ব্যাখ্যা:
চোখে ধুলো দেওয়া = প্রতারণা করা।

৩৬২

অশুদ্ধ: সে এখন হাত গুটিয়ে কাজ করছে।

শুদ্ধ: সে এখন হাত গুটিয়ে বসে আছে।

ব্যাখ্যা:
হাত গুটিয়ে বসা = নিষ্ক্রিয় থাকা।

৩৬৩

অশুদ্ধ: তিনি আমার মুখে কালি দিয়েছেন (প্রশংসা করেছেন)।

শুদ্ধ: তিনি আমার মুখে কালি দিয়েছেন (অপমান করেছেন)।

ব্যাখ্যা:
মুখে কালি দেওয়া = অপমান করা।

৩৬৪

অশুদ্ধ: সে মাথায় হাত দিয়েছে (আনন্দিত হয়েছে)।

শুদ্ধ: সে মাথায় হাত দিয়েছে (দুশ্চিন্তায় পড়েছে)।

ব্যাখ্যা:
মাথায় হাত দেওয়া = বিপদে পড়া বা হতাশ হওয়া।

৩৬৫

অশুদ্ধ: তিনি তার কথায় কান দিয়েছেন (শোনেননি)।

শুদ্ধ: তিনি তার কথায় কান দিয়েছেন।

ব্যাখ্যা:
কান দেওয়া = মনোযোগ দিয়ে শোনা।

৩৬৬

অশুদ্ধ: সে আমার কথায় পানি ঢেলেছে।

শুদ্ধ: সে আমার পরিকল্পনায় পানি ঢেলেছে।

ব্যাখ্যা:
পানি ঢালা = নষ্ট করে দেওয়া।

৩৬৭

অশুদ্ধ: সে আকাশ থেকে পড়েছে (খুব আনন্দিত হয়েছে)।

শুদ্ধ: সে আকাশ থেকে পড়েছে।

ব্যাখ্যা:
আকাশ থেকে পড়া = হঠাৎ বিস্মিত হওয়া।

৩৬৮

অশুদ্ধ: তিনি আমার চোখের মণি (চোখের রোগ)।

শুদ্ধ: তিনি আমার চোখের মণি।

ব্যাখ্যা:
চোখের মণি = অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি।

৩৬৯

অশুদ্ধ: সে নাকে তেল দিয়ে কাজ করেছে।

শুদ্ধ: সে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে।

ব্যাখ্যা:
নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো = নিশ্চিন্ত থাকা।

৩৭০

অশুদ্ধ: তিনি দাঁতে দাঁত চেপে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট সহ্য করেছেন।

ব্যাখ্যা:
দাঁতে দাঁত চেপে = কষ্ট সহ্য করে।

৩৭১

অশুদ্ধ: সে একেবারে পানিতে পড়েছে।

শুদ্ধ: সে একেবারে পানিতে পড়েছে।

অর্থ: বিপদে পড়েছে।

৩৭২

অশুদ্ধ: সে হাতের পাঁচ করেছে।

শুদ্ধ: সে হাতের পাঁচ করেছে।

অর্থ: সর্বশেষ সম্বল ব্যবহার করেছে।

৩৭৩

অশুদ্ধ: তার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে।

শুদ্ধ: সে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে।

অর্থ: প্রচণ্ড আঘাত বা বিপদে হতবুদ্ধি হওয়া।

৩৭৪

অশুদ্ধ: সে গা ঢাকা দিয়েছে।

শুদ্ধ: সে গা ঢাকা দিয়েছে।

অর্থ: আত্মগোপন করেছে।

৩৭৫

অশুদ্ধ: তিনি মুখে মুখে উত্তর দিয়েছেন।

শুদ্ধ: তিনি মুখে মুখে উত্তর দিয়েছেন।

অর্থ: মৌখিকভাবে উত্তর দিয়েছেন।

৩৭৬

অশুদ্ধ: অতি লোভে তাতি উন্নতি।

শুদ্ধ: অতি লোভে তাতি নষ্ট।

অর্থ: অতিরিক্ত লোভ ক্ষতির কারণ।

৩৭৭

অশুদ্ধ: যেমন কর্ম তেমন পুরস্কার।

শুদ্ধ: যেমন কর্ম তেমন ফল।

অর্থ: কাজ অনুযায়ী ফল পাওয়া যায়।

৩৭৮

অশুদ্ধ: এক হাতে তালি বাজে।

শুদ্ধ: এক হাতে তালি বাজে না।

অর্থ: কোনো কাজে দুই পক্ষের ভূমিকা থাকে।

৩৭৯

অশুদ্ধ: নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।

শুদ্ধ: নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।

অর্থ: নিজের অক্ষমতার দোষ অন্যের ওপর দেওয়া।

৩৮০

অশুদ্ধ: যার লাঠি তার মাটি।

শুদ্ধ: যার লাঠি তার মাটি।

অর্থ: ক্ষমতাবানের প্রভাব বেশি।

৩৮১

অশুদ্ধ: অল্প বিদ্যা ভয়ংকর নয়।

শুদ্ধ: অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী।

অর্থ: কম জ্ঞান ক্ষতিকর হতে পারে।

৩৮২

অশুদ্ধ: চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।

শুদ্ধ: চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।

অর্থ: সময় চলে গেলে বুদ্ধি আসে।

৩৮৩

অশুদ্ধ: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে রাত হয়।

শুদ্ধ: যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে রাত হয়।

অর্থ: বিপদের আশঙ্কায় সমস্যা বাড়ে।

৩৮৪

অশুদ্ধ: লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।

শুদ্ধ: লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।

অর্থ: লোভের পরিণতি খারাপ।

৩৮৫

অশুদ্ধ: ধরি মাছ না ছুঁই পানি।

শুদ্ধ: ধরি মাছ না ছুঁই পানি।

অর্থ: কোনো ঝুঁকি না নিয়ে কাজ করা।

৩৮৬

অশুদ্ধ: সে অন্ধের মতো অন্ধকারে ছিল।

শুদ্ধ: সে অন্ধকারে ছিল।

ব্যাখ্যা: অপ্রয়োজনীয় তুলনা বাদ দিতে হবে।

৩৮৭

অশুদ্ধ: তিনি বিনা কারণে অকারণে রাগ করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি অকারণে রাগ করেছেন।

ব্যাখ্যা: বিনা কারণে ও অকারণে একই অর্থবোধক।

৩৮৮

অশুদ্ধ: সে নিজের স্বহস্তে লিখেছে।

শুদ্ধ: সে স্বহস্তে লিখেছে।

ব্যাখ্যা: স্বহস্তে নিজ হাতেই বোঝায়।

৩৮৯

অশুদ্ধ: তিনি অতিরিক্ত বেশি কথা বলেন।

শুদ্ধ: তিনি অতিরিক্ত কথা বলেন।

ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত ও বেশি একই অর্থে ব্যবহৃত।

৩৯০

অশুদ্ধ: সে সম্পূর্ণভাবে পুরোপুরি সফল হয়েছে।

শুদ্ধ: সে সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে।

ব্যাখ্যা: একই অর্থের পুনরাবৃত্তি বাদ দিতে হবে।

৩৯১

প্রবাদ: অতি লোভে তাতি নষ্ট।

অর্থ: অতিরিক্ত লোভ করলে ক্ষতি হয়।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
রহিম বেশি লাভের আশায় নিম্নমানের পণ্য কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হলো—অতি লোভে তাতি নষ্ট।

৩৯২

প্রবাদ: যেমন কর্ম তেমন ফল।

অর্থ: কাজ অনুযায়ী ফল পাওয়া যায়।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
অন্যায়ের শাস্তি পেয়ে সে বুঝল—যেমন কর্ম তেমন ফল।

৩৯৩

প্রবাদ: এক হাতে তালি বাজে না।

অর্থ: কোনো ঘটনার জন্য এক পক্ষই সম্পূর্ণ দায়ী নয়।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
ঝগড়ার জন্য দুজনেরই দোষ ছিল; কারণ এক হাতে তালি বাজে না।

৩৯৪

প্রবাদ: নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।

অর্থ: নিজের অযোগ্যতার দোষ অন্যের ওপর চাপানো।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
সে পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে প্রশ্নপত্রকে দোষ দিল—নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।

৩৯৫

প্রবাদ: অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী।

অর্থ: কম জ্ঞান বিপদের কারণ।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
অল্প জ্ঞান নিয়ে চিকিৎসা করা বিপজ্জনক; অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী।

৩৯৬

প্রবাদ: লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।

অর্থ: লোভের পরিণতি খারাপ।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
অতিরিক্ত অর্থের লোভে সে অপরাধ করে শাস্তি পেল—লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।

৩৯৭

প্রবাদ: চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।

অর্থ: সময় চলে যাওয়ার পর বুদ্ধি আসে।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
আগে সতর্ক হলে ক্ষতি হতো না; এখন আফসোস করে লাভ নেই—চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।

৩৯৮

প্রবাদ: সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

অর্থ: সময় চলে গেলে আর ফিরে আসে না।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
জীবনে সফল হতে সময়ের মূল্য বুঝতে হবে, কারণ সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

৩৯৯

প্রবাদ: ঘরের শত্রু বিভীষণ।

অর্থ: আপনজনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শত্রু।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
নিজ দলের লোকের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ক্ষতি হলো—ঘরের শত্রু বিভীষণ।

৪০০

প্রবাদ: বোঝার ওপর শাকের আঁটি।

অর্থ: বিপদের ওপর নতুন বিপদ।

শুদ্ধ প্রয়োগ:
অসুস্থতার মধ্যে চাকরিও চলে গেল—বোঝার ওপর শাকের আঁটি।

৪০১

প্রবাদ: যে লাউ সেই কদু।

অর্থ: কোনো পরিবর্তন না হওয়া।

প্রয়োগ:
সরকার বদলালেও সমস্যার সমাধান হলো না—যে লাউ সেই কদু।

৪০২

প্রবাদ: হাতের পাঁচ।

অর্থ: শেষ সম্বল বা শেষ ভরসা।

প্রয়োগ:
এই চাকরিটিই তার হাতের পাঁচ।

৪০৩

প্রবাদ: যার লাঠি তার মাটি।

অর্থ: ক্ষমতাবানের প্রভাব বেশি।

প্রয়োগ:
শক্তিশালী ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করল—যার লাঠি তার মাটি।

৪০৪

প্রবাদ: অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

অর্থ: অতিরিক্ত ভদ্রতার আড়ালে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

প্রয়োগ:
তার অতিরিক্ত প্রশংসায় সতর্ক হও; অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

৪০৫

প্রবাদ: কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়া।

অর্থ: ছোট বিষয় অনুসন্ধান করতে বড় রহস্য প্রকাশ পাওয়া।

প্রয়োগ:
ছোট অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে বড় দুর্নীতি ধরা পড়ল—কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হলো।

৪০৬

প্রবাদ: অতি চালাকের গলায় দড়ি।

অর্থ: অতিরিক্ত চালাকি করলে বিপদ হয়।

প্রয়োগ:
অতিরিক্ত বুদ্ধি দেখাতে গিয়ে সে ধরা পড়ল—অতি চালাকের গলায় দড়ি।

৪০৭

প্রবাদ: যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়া-পড়শির ঘুম নেই।

অর্থ: যার বিষয় সে চিন্তিত নয়, অন্যরা বেশি চিন্তিত।

প্রয়োগ:
নিজের কাজ নিয়ে সে ভাবছে না, অন্যরা বেশি ব্যস্ত—যার বিয়ে তার খবর নেই…

৪০৮

প্রবাদ: খাল কেটে কুমির আনা।

অর্থ: নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা।

প্রয়োগ:
অসৎ লোককে বিশ্বাস করে সে বিপদ ডেকে আনল—খাল কেটে কুমির আনা।

৪০৯

প্রবাদ: ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

অর্থ: সত্য একদিন প্রকাশ পায়।

প্রয়োগ:
অপরাধী শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছে—ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

৪১০

প্রবাদ: গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

অর্থ: কাজ হওয়ার আগেই আনন্দ করা।

প্রয়োগ:
চাকরি না পেয়েই উৎসব করা—গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

৪১১

প্রবাদ: অভাবে স্বভাব নষ্ট।

অর্থ: অভাব মানুষকে খারাপ পথে নিতে পারে।

প্রয়োগ:
দারিদ্র্যের কারণে সে ভুল পথে গেল—অভাবে স্বভাব নষ্ট।

৪১২

প্রবাদ: ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।

অর্থ: দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সফলতার পথ পাওয়া যায়।

৪১৩

প্রবাদ: এক মাঘে শীত যায় না।

অর্থ: একটি ঘটনা দিয়ে সব বিচার করা যায় না।

৪১৪

প্রবাদ: দূরের ঢোলের শব্দ ভালো।

অর্থ: দূরের বিষয় বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।

৪১৫

প্রবাদ: মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।

অর্থ: বিপদের পর সুখ আসতে পারে।

৪১৬

প্রবাদ: যত গর্জে তত বর্ষে না।

অর্থ: বেশি কথা বলা ব্যক্তি সব সময় বেশি কাজ করে না।

৪১৭

প্রবাদ: বিনা মেঘে বজ্রপাত।

অর্থ: হঠাৎ বিপদ।

৪১৮

প্রবাদ: সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।

অর্থ: সঙ্গের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪১৯

প্রবাদ: পরের ধনে পোদ্দারি।

অর্থ: অন্যের সম্পদে নিজের কর্তৃত্ব দেখানো।

৪২০

প্রবাদ: চোরের মায়ের বড় গলা।

অর্থ: অপরাধী ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বেশি কথা বলে।

৪২১

অশুদ্ধ: সূর্য উঠেছে পূর্ব আকাশে।

শুদ্ধ: সূর্য উঠেছে পূর্ব আকাশে।

ব্যাখ্যা: সূর্য, রবি, ভানু একই অর্থ প্রকাশ করে; তবে প্রসঙ্গ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়।

৪২২

অশুদ্ধ: তিনি একজন মহান মহৎ ব্যক্তি।

শুদ্ধ: তিনি একজন মহান ব্যক্তি।

ব্যাখ্যা: মহান ও মহৎ একই অর্থবোধক।

৪২৩

অশুদ্ধ: সে আনন্দের খুশিতে নেচে উঠল।

শুদ্ধ: সে আনন্দে নেচে উঠল।

ব্যাখ্যা: আনন্দ ও খুশি একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪২৪

অশুদ্ধ: তার দুঃখ-কষ্ট বেদনা অনেক।

শুদ্ধ: তার দুঃখ অনেক।

ব্যাখ্যা: একই অর্থের একাধিক শব্দ অপ্রয়োজনীয়।

৪২৫

অশুদ্ধ: সে দ্রুত তাড়াতাড়ি চলে গেল।

শুদ্ধ: সে দ্রুত চলে গেল।

ব্যাখ্যা: দ্রুত ও তাড়াতাড়ি সমার্থক।

৪২৬

অশুদ্ধ: তিনি আমাকে সাহায্য ও সহায়তা করেছেন।

শুদ্ধ: তিনি আমাকে সাহায্য করেছেন।

ব্যাখ্যা: সাহায্য ও সহায়তা একই অর্থবোধক।

৪২৭

অশুদ্ধ: নদীর জল পানি শুকিয়ে গেছে।

শুদ্ধ: নদীর পানি শুকিয়ে গেছে।

ব্যাখ্যা: জল ও পানি একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪২৮

অশুদ্ধ: সে একজন জ্ঞানী পণ্ডিত ব্যক্তি।

শুদ্ধ: সে একজন পণ্ডিত ব্যক্তি।

ব্যাখ্যা: পণ্ডিত শব্দেই জ্ঞানী বোঝায়।

৪২৯

অশুদ্ধ: তার মৃত্যু অবসান ঘটেছে।

শুদ্ধ: তার মৃত্যু ঘটেছে।

ব্যাখ্যা: মৃত্যু ও অবসান একই অর্থে নয়; এখানে মৃত্যু যথাযথ।

৪৩০

অশুদ্ধ: সে ভুল ভ্রান্তি করেছে।

শুদ্ধ: সে ভুল করেছে।

ব্যাখ্যা: ভুল ও ভ্রান্তি কাছাকাছি অর্থের।

৪৩১

অশুদ্ধ: সে আগুনের অগ্নিতে পুড়ে গেছে।

শুদ্ধ: সে আগুনে পুড়ে গেছে।

ব্যাখ্যা: আগুন ও অগ্নি একই অর্থবোধক।

৪৩২

অশুদ্ধ: রাজা নৃপতি মহারাজ সিংহাসনে বসেছেন।

শুদ্ধ: রাজা সিংহাসনে বসেছেন।

ব্যাখ্যা: রাজা, নৃপতি, মহারাজ একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৩৩

অশুদ্ধ: আকাশের গগন মেঘে ঢাকা।

শুদ্ধ: আকাশ মেঘে ঢাকা।

ব্যাখ্যা: আকাশ ও গগন সমার্থক।

৪৩৪

অশুদ্ধ: সে শত্রু বৈরীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

শুদ্ধ: সে শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

ব্যাখ্যা: শত্রু ও বৈরী সমার্থক।

৪৩৫

অশুদ্ধ: শিক্ষক গুরুজন আমাদের শিক্ষা দেন।

শুদ্ধ: শিক্ষক আমাদের শিক্ষা দেন।

ব্যাখ্যা: শিক্ষক ও গুরুজন সব ক্ষেত্রে একই অর্থে ব্যবহৃত হয় না।

৪৩৬

অশুদ্ধ: সুখ ও আনন্দ মানুষের জীবনের বিপরীত।

শুদ্ধ: সুখ ও দুঃখ মানুষের জীবনের বিপরীত।

ব্যাখ্যা: সুখের বিপরীত দুঃখ।

৪৩৭

অশুদ্ধ: আলো ও উজ্জ্বলতা বিপরীত শব্দ।

শুদ্ধ: আলো ও অন্ধকার বিপরীত শব্দ।

ব্যাখ্যা: উজ্জ্বলতা আলো সম্পর্কিত, বিপরীত নয়।

৪৩৮

অশুদ্ধ: সত্যের বিপরীত ভালো।

শুদ্ধ: সত্যের বিপরীত মিথ্যা।

ব্যাখ্যা: সত্য × মিথ্যা।

৪৩৯

অশুদ্ধ: লাভের বিপরীত অর্জন।

শুদ্ধ: লাভের বিপরীত ক্ষতি।

ব্যাখ্যা: লাভ × ক্ষতি।

৪৪০

অশুদ্ধ: নিকটের বিপরীত কাছে।

শুদ্ধ: নিকটের বিপরীত দূর।

ব্যাখ্যা: নিকট × দূর।

৪৪১

অশুদ্ধ: নতুনের বিপরীত পুরাতন।

শুদ্ধ: নতুনের বিপরীত পুরাতন।

ব্যাখ্যা: এটি শুদ্ধ।

৪৪২

অশুদ্ধ: শুরু ও আরম্ভ বিপরীত শব্দ।

শুদ্ধ: শুরু ও শেষ বিপরীত শব্দ।

ব্যাখ্যা: শুরু × শেষ।

৪৪৩

অশুদ্ধ: উত্থানের বিপরীত উন্নতি।

শুদ্ধ: উত্থানের বিপরীত পতন।

ব্যাখ্যা: উত্থান × পতন।

৪৪৪

অশুদ্ধ: জয়ের বিপরীত সাফল্য।

শুদ্ধ: জয়ের বিপরীত পরাজয়।

ব্যাখ্যা: জয় × পরাজয়।

৪৪৫

অশুদ্ধ: স্বাধীনতার বিপরীত স্বচ্ছলতা।

শুদ্ধ: স্বাধীনতার বিপরীত পরাধীনতা।

ব্যাখ্যা: স্বাধীনতা × পরাধীনতা।

৪৪৬

অশুদ্ধ: Computer-কে গণকযন্ত্র বলা হয়।

শুদ্ধ: Computer-কে কম্পিউটার বলা হয়।

ব্যাখ্যা: আধুনিক ব্যবহারে কম্পিউটার প্রচলিত পারিভাষিক শব্দ।

৪৪৭

অশুদ্ধ: Democracy অর্থ রাজতন্ত্র।

শুদ্ধ: Democracy অর্থ গণতন্ত্র।

ব্যাখ্যা: Democracy = গণতন্ত্র।

৪৪৮

অশুদ্ধ: Constitution অর্থ প্রশাসন।

শুদ্ধ: Constitution অর্থ সংবিধান।

ব্যাখ্যা: Constitution = সংবিধান।

৪৪৯

অশুদ্ধ: Environment অর্থ অর্থনীতি।

শুদ্ধ: Environment অর্থ পরিবেশ।

ব্যাখ্যা: Environment = পরিবেশ।

৪৫০

অশুদ্ধ: Agriculture অর্থ শিল্প।

শুদ্ধ: Agriculture অর্থ কৃষি।

ব্যাখ্যা: Agriculture = কৃষি।

৪৫১

অশুদ্ধ: Economics অর্থ রাষ্ট্রবিজ্ঞান।

শুদ্ধ: Economics অর্থ অর্থনীতি।

ব্যাখ্যা: Economics = অর্থনীতি।

৪৫২

অশুদ্ধ: Biology অর্থ পদার্থবিজ্ঞান।

শুদ্ধ: Biology অর্থ জীববিজ্ঞান।

ব্যাখ্যা: Biology = জীববিজ্ঞান।

৪৫৩

অশুদ্ধ: Physics অর্থ রসায়ন।

শুদ্ধ: Physics অর্থ পদার্থবিজ্ঞান।

ব্যাখ্যা: Physics = পদার্থবিজ্ঞান।

৪৫৪

অশুদ্ধ: Chemistry অর্থ জীববিদ্যা।

শুদ্ধ: Chemistry অর্থ রসায়ন।

ব্যাখ্যা: Chemistry = রসায়ন।

৪৫৫

অশুদ্ধ: Geography অর্থ ইতিহাস।

শুদ্ধ: Geography অর্থ ভূগোল।

ব্যাখ্যা: Geography = ভূগোল।

৪৫৬

❌ অশুদ্ধ: সে আবার পুনরায় ফিরে এসেছে।

✅ শুদ্ধ: সে আবার ফিরে এসেছে।

ব্যাখ্যা:
আবার ও পুনরায় একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৫৭

❌ অশুদ্ধ: আমি নিজে স্বয়ং কাজটি করেছি।

✅ শুদ্ধ: আমি নিজে কাজটি করেছি।

ব্যাখ্যা:
নিজে ও স্বয়ং একই অর্থবোধক।

৪৫৮

❌ অশুদ্ধ: তিনি স্বচক্ষে নিজের চোখে দেখেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন।

ব্যাখ্যা:
স্বচক্ষে অর্থ নিজের চোখে দেখা।

৪৫৯

❌ অশুদ্ধ: বিনামূল্যে ফ্রি বই বিতরণ করা হয়েছে।

✅ শুদ্ধ: বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়েছে।

ব্যাখ্যা:
বিনামূল্যে ও ফ্রি একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৬০

❌ অশুদ্ধ: সে সম্পূর্ণভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে।

✅ শুদ্ধ: সে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়েছে।

ব্যাখ্যা:
সম্পূর্ণভাবে ও পুরোপুরি একই অর্থবোধক।

৪৬১

❌ অশুদ্ধ: প্রধান মুখ্য সমস্যা হলো বেকারত্ব।

✅ শুদ্ধ: মুখ্য সমস্যা হলো বেকারত্ব।

ব্যাখ্যা:
প্রধান ও মুখ্য সমার্থক শব্দ।

৪৬২

❌ অশুদ্ধ: ভবিষ্যৎ আগামী দিনের কথা চিন্তা করো।

✅ শুদ্ধ: ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করো।

ব্যাখ্যা:
ভবিষ্যৎ শব্দের মধ্যেই আগামী দিনের অর্থ রয়েছে।

৪৬৩

❌ অশুদ্ধ: অতীত পূর্বের ঘটনা ভুলে যাও।

✅ শুদ্ধ: অতীতের ঘটনা ভুলে যাও।

ব্যাখ্যা:
অতীত ও পূর্ব একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৬৪

❌ অশুদ্ধ: সে খুব বেশি অতিরিক্ত কথা বলে।

✅ শুদ্ধ: সে অতিরিক্ত কথা বলে।

ব্যাখ্যা:
বেশি ও অতিরিক্ত একই অর্থে ব্যবহৃত।

৪৬৫

❌ অশুদ্ধ: তিনি আমাকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি আমাকে সাহায্য করেছেন।

ব্যাখ্যা:
সাহায্য ও সহযোগিতা একই অর্থবোধক।

৪৬৬

❌ অশুদ্ধ: সে ভুল ভ্রান্তি স্বীকার করেছে।

✅ শুদ্ধ: সে ভুল স্বীকার করেছে।

ব্যাখ্যা:
ভুল ও ভ্রান্তি একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৬৭

❌ অশুদ্ধ: নদীর জল পানি শুকিয়ে গেছে।

✅ শুদ্ধ: নদীর পানি শুকিয়ে গেছে।

ব্যাখ্যা:
জল ও পানি সমার্থক।

৪৬৮

❌ অশুদ্ধ: সে একজন জ্ঞানী পণ্ডিত ব্যক্তি।

✅ শুদ্ধ: সে একজন পণ্ডিত ব্যক্তি।

ব্যাখ্যা:
পণ্ডিত শব্দের মধ্যেই জ্ঞানী অর্থ রয়েছে।

৪৬৯

❌ অশুদ্ধ: তিনি আগাম পূর্বাভাস দিয়েছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন।

ব্যাখ্যা:
পূর্বাভাস মানেই আগাম ধারণা।

৪৭০

❌ অশুদ্ধ: আমি পূর্বে আগে তাকে দেখেছি।

✅ শুদ্ধ: আমি আগে তাকে দেখেছি।

ব্যাখ্যা:
পূর্বে ও আগে একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৭১

❌ অশুদ্ধ: সে নীরব চুপ করে বসে আছে।

✅ শুদ্ধ: সে চুপ করে বসে আছে।

ব্যাখ্যা:
নীরব ও চুপ একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৭২

❌ অশুদ্ধ: তিনি মৌখিক মুখে বলেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি মৌখিকভাবে বলেছেন।

ব্যাখ্যা:
মৌখিক শব্দেই মুখে বলা বোঝায়।

৪৭৩

❌ অশুদ্ধ: সে নিচে অধোমুখে পড়ে গেল।

✅ শুদ্ধ: সে নিচে পড়ে গেল।

ব্যাখ্যা:
নিচে ও অধোমুখে একই ভাব প্রকাশ করছে।

৪৭৪

❌ অশুদ্ধ: সে আবার পুনরায় নতুন করে শুরু করল।

✅ শুদ্ধ: সে নতুন করে শুরু করল।

ব্যাখ্যা:
আবার, পুনরায়, নতুন করে—একই ধরনের অর্থ প্রকাশ করে।

৪৭৫

❌ অশুদ্ধ: তিনি প্রত্যক্ষভাবে নিজের চোখে দেখেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন।

ব্যাখ্যা:
প্রত্যক্ষভাবে মানেই নিজের চোখে দেখা।

৪৭৬

❌ অশুদ্ধ: এই ঘটনা সত্যি বাস্তব ঘটনা।

✅ শুদ্ধ: এই ঘটনা বাস্তব।

ব্যাখ্যা:
সত্যি ও বাস্তব একই অর্থে ব্যবহৃত।

৪৭৭

❌ অশুদ্ধ: সে ক্ষুদ্র ছোট একটি ভুল করেছে।

✅ শুদ্ধ: সে ছোট একটি ভুল করেছে।

ব্যাখ্যা:
ক্ষুদ্র ও ছোট সমার্থক।

৪৭৮

❌ অশুদ্ধ: তিনি আমাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ব্যাখ্যা:
নির্দেশের সঙ্গে প্রদান অপ্রয়োজনীয় ও ভারী প্রয়োগ।

৪৭৯

❌ অশুদ্ধ: সে নিজের স্বহস্তে চিঠি লিখেছে।

✅ শুদ্ধ: সে স্বহস্তে চিঠি লিখেছে।

ব্যাখ্যা:
স্বহস্তে অর্থ নিজের হাতে।

৪৮০

❌ অশুদ্ধ: সে সর্বদা সবসময় সত্য কথা বলে।

✅ শুদ্ধ: সে সর্বদা সত্য কথা বলে।

ব্যাখ্যা:
সর্বদা ও সবসময় একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৮১

❌ অশুদ্ধ: সকল ছাত্ররা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

✅ শুদ্ধ: সকল ছাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

ব্যাখ্যা: “সকল” নিজেই বহুবচন বোঝায়, তাই “রা” ব্যবহার করা যাবে না।

৪৮২

❌ অশুদ্ধ: প্রত্যেক ব্যক্তিরা নিজের কাজ করবে।

✅ শুদ্ধ: প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের কাজ করবে।

ব্যাখ্যা: প্রত্যেক-এর পরে একবচন ব্যবহৃত হয়।

৪৮৩

❌ অশুদ্ধ: আমি তার থেকে একটি কলম নিয়েছি।

✅ শুদ্ধ: আমি তার কাছ থেকে একটি কলম নিয়েছি।

ব্যাখ্যা: ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু গ্রহণ বোঝাতে “কাছ থেকে” ব্যবহৃত হয়।

৪৮৪

❌ অশুদ্ধ: সে আমার প্রতি রাগ করেছে।

✅ শুদ্ধ: সে আমার ওপর রাগ করেছে।

ব্যাখ্যা: রাগ, নির্ভরতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে “ওপর” ব্যবহৃত হয়।

৪৮৫

❌ অশুদ্ধ: তিনি আমার দ্বারা উপকৃত করেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি আমার দ্বারা উপকৃত হয়েছেন।

ব্যাখ্যা: দ্বারা-এর সঙ্গে কর্মের সম্পন্ন হওয়া বোঝাতে যথাযথ ক্রিয়া প্রয়োজন।

৪৮৬

❌ অশুদ্ধ: সে আবার পুনরায় ফিরে এসেছে।

✅ শুদ্ধ: সে আবার ফিরে এসেছে।

ব্যাখ্যা: আবার ও পুনরায় একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৮৭

❌ অশুদ্ধ: তিনি স্বচক্ষে নিজের চোখে ঘটনাটি দেখেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি স্বচক্ষে ঘটনাটি দেখেছেন।

ব্যাখ্যা: স্বচক্ষে অর্থ নিজের চোখে।

৪৮৮

❌ অশুদ্ধ: সে বিনামূল্যে ফ্রি বই পেয়েছে।

✅ শুদ্ধ: সে বিনামূল্যে বই পেয়েছে।

ব্যাখ্যা: বিনামূল্যে ও ফ্রি একই অর্থবোধক।

৪৮৯

❌ অশুদ্ধ: যদিও সে গরিব কিন্তু সে সৎ।

✅ শুদ্ধ: যদিও সে গরিব, তবু সে সৎ।

ব্যাখ্যা: যদিও-এর সঙ্গে তবু ব্যবহৃত হয়।

৪৯০

❌ অশুদ্ধ: যদি তুমি আসবে তবে আমি যাব।

✅ শুদ্ধ: যদি তুমি আসো তবে আমি যাব।

ব্যাখ্যা: যদি-যুক্ত বাক্যে সাধারণত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।

৪৯১

❌ অশুদ্ধ: সে নাচতে না জানার কারণে উঠানকে দোষ দিল।

✅ শুদ্ধ: সে নাচতে না জেনে উঠানকে দোষ দিল।

ব্যাখ্যা: প্রবাদটির সঠিক রূপ: “নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।”

৪৯২

❌ অশুদ্ধ: অতি লোভে তাতি ধনী হয়।

✅ শুদ্ধ: অতি লোভে তাতি নষ্ট।

ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত লোভ ক্ষতির কারণ।

৪৯৩

❌ অশুদ্ধ: যেমন কর্ম তেমন পুরস্কার।

✅ শুদ্ধ: যেমন কর্ম তেমন ফল।

ব্যাখ্যা: প্রবাদটির প্রচলিত রূপ “যেমন কর্ম তেমন ফল”।

৪৯৪

❌ অশুদ্ধ: সে নিজের পায়ে ফুল মেরেছে।

✅ শুদ্ধ: সে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছে।

ব্যাখ্যা: নিজের ক্ষতি করা বোঝাতে “নিজের পায়ে কুড়াল মারা” বলা হয়।

৪৯৫

❌ অশুদ্ধ: তিনি আমার মুখে কালি দিয়েছেন অর্থাৎ সম্মান করেছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি আমার মুখে কালি দিয়েছেন অর্থাৎ অপমান করেছেন।

ব্যাখ্যা: মুখে কালি দেওয়া = অপমান করা।

৪৯৬

❌ অশুদ্ধ: সে একজন জ্ঞানী পণ্ডিত ব্যক্তি।

✅ শুদ্ধ: সে একজন পণ্ডিত ব্যক্তি।

ব্যাখ্যা: পণ্ডিত শব্দেই জ্ঞানী অর্থ রয়েছে।

৪৯৭

❌ অশুদ্ধ: সে খুব বেশি অতিরিক্ত কথা বলে।

✅ শুদ্ধ: সে অতিরিক্ত কথা বলে।

ব্যাখ্যা: বেশি ও অতিরিক্ত একই অর্থ প্রকাশ করে।

৪৯৮

❌ অশুদ্ধ: তিনি প্রধান মুখ্য অতিথি ছিলেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

ব্যাখ্যা: প্রধান ও মুখ্য একই অর্থবোধক।

৪৯৯

❌ অশুদ্ধ: সে সর্বদা সবসময় সত্য কথা বলে।

✅ শুদ্ধ: সে সর্বদা সত্য কথা বলে।

ব্যাখ্যা: সর্বদা ও সবসময় একই অর্থ প্রকাশ করে।

৫০০

❌ অশুদ্ধ: তিনি দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন অর্থাৎ দুর্বল উত্তর দিয়েছেন।

✅ শুদ্ধ: তিনি দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন অর্থাৎ কঠোর ও উপযুক্ত উত্তর দিয়েছেন।

ব্যাখ্যা: দাঁতভাঙা জবাব = শক্তিশালী, কঠোর জবাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *