বর্ন ও ধ্বনি

ভূমিকা

ভাষা মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। ভাষার দুটি রূপ রয়েছে—

১. কথ্য ভাষা (Spoken Language) — যা আমরা উচ্চারণ করি।
২. লিখিত ভাষা (Written Language) — যা আমরা লিখি।

ধ্বনি হলো কথ্য ভাষার ক্ষুদ্রতম একক এবং বর্ণ হলো সেই ধ্বনির লিখিত প্রতীক।

অর্থাৎ,

ধ্বনি → উচ্চারণ
বর্ণ → লেখা


ধ্বনি (Sound)

ধ্বনি কাকে বলে?

মানুষের কণ্ঠনালী থেকে উৎপন্ন এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অঙ্গের সাহায্যে উচ্চারিত ভাষার ক্ষুদ্রতম মৌলিক একককে ধ্বনি বলে।

অন্যভাবে বলা যায়—

যে শব্দ কানে শোনা যায় কিন্তু দেখা যায় না তাকে ধ্বনি বলে।


ধ্বনির বৈশিষ্ট্য

ধ্বনির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—

  • এটি কানে শোনা যায়।
  • মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা হয়।
  • ভাষার মৌলিক উপাদান।
  • অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে।
  • ধ্বনি ছাড়া ভাষা সৃষ্টি সম্ভব নয়।
  • ধ্বনির নিজস্ব লিখিত রূপ নেই।
  • ধ্বনিকে লিখতে বর্ণের সাহায্য লাগে।

ধ্বনির উৎপত্তি

ধ্বনি উৎপন্ন হয়—

ফুসফুস → কণ্ঠনালী → স্বরতন্ত্রী → জিহ্বা → তালু → দাঁত → ঠোঁট → মুখগহ্বর

এই সমস্ত অঙ্গের সমন্বিত কাজের মাধ্যমে।


ধ্বনির শ্রেণিবিভাগ

বাংলা ভাষায় ধ্বনি প্রধানত দুই প্রকার—

১. স্বরধ্বনি

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হয় না তাকে স্বরধ্বনি বলে।

উদাহরণ

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ


স্বরধ্বনির বৈশিষ্ট্য

  • স্বাধীনভাবে উচ্চারণ করা যায়।
  • বায়ু কোথাও বাধা পায় না।
  • প্রত্যেকটি নিজেই একটি ধ্বনি।

উদাহরণ

আম

আ-ম

আ = স্বরধ্বনি


আরও উদাহরণ

ইট

ঈগল

উট

ঊষা

এক

ওজন

ঔষধ


২. ব্যঞ্জনধ্বনি

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ু মুখগহ্বরের কোনো না কোনো স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হয় তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।


বৈশিষ্ট্য

  • একা উচ্চারণ করা কঠিন।
  • উচ্চারণে স্বরধ্বনির সাহায্য লাগে।
  • মুখের কোথাও না কোথাও বাধা সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ

ক

খ

গ

ঘ

চ

ছ

জ

ট

ঠ

ড

ত

থ

দ

ধ

প

ফ

ব

ভ

ম

ল

র

স

হ


ধ্বনির উচ্চারণস্থান

বাংলা ধ্বনি বিভিন্ন স্থানে উৎপন্ন হয়।

উচ্চারণস্থানউদাহরণ
কণ্ঠ্যক খ গ ঘ
তালব্যচ ছ জ ঝ
মূর্ধন্যট ঠ ড ঢ
দন্ত্যত থ দ ধ
ওষ্ঠ্যপ ফ ব ভ ম

বর্ণ (Letter)

বর্ণ কাকে বলে?

ধ্বনিকে লিখিতভাবে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত প্রতীক বা চিহ্নকে বর্ণ বলে।

সহজ ভাষায়—

যা চোখে দেখা যায় এবং লেখা যায় তাকে বর্ণ বলে।


উদাহরণ

ধ্বনি = ক

লিখিত প্রতীক = ক

এটাই বর্ণ।


বর্ণের বৈশিষ্ট্য

  • চোখে দেখা যায়।
  • লেখা যায়।
  • ধ্বনির প্রতীক।
  • লিখিত ভাষার উপাদান।
  • বই, পত্রিকা, সংবাদপত্রে ব্যবহৃত হয়।

বাংলা বর্ণমালা

বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ রয়েছে।

স্বরবর্ণ = ১১টি

অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ


ব্যঞ্জনবর্ণ = ৩৯টি

ক খ গ ঘ ঙ

চ ছ জ ঝ ঞ

ট ঠ ড ঢ ণ

ত থ দ ধ ন

প ফ ব ভ ম

য র ল শ ষ স হ

ড় ঢ় য়

ং ঃ ঁ


বর্ণের শ্রেণিবিভাগ

স্বরবর্ণ

যে বর্ণ স্বরধ্বনির প্রতীক।

উদাহরণ—

অ

আ

ই

ঈ

উ

ঊ

ঋ

এ

ঐ

ও

ঔ


ব্যঞ্জনবর্ণ

যে বর্ণ ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক।

উদাহরণ—

ক

খ

গ

ঘ

ঙ

চ

ছ

জ

ঝ

ঞ


বর্ণ ও ধ্বনির সম্পর্ক

ধ্বনি আগে সৃষ্টি হয়েছে।

পরে মানুষ সেই ধ্বনি লেখার জন্য বর্ণ আবিষ্কার করেছে।

অর্থাৎ—

ধ্বনি → বর্ণ

উচ্চারণ → লেখা


উদাহরণ

শব্দ

কলম

লিখিত রূপ

ক ল ম

এগুলো বর্ণ।

উচ্চারণ

ক্ + অ + ল্ + অ + ম্ + অ

এগুলো ধ্বনি।


আরেকটি উদাহরণ

বাংলা

লিখিত

ব + া + ং + ল + া

উচ্চারণ

বাং-লা


ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য

ধ্বনিবর্ণ
কানে শোনা যায়চোখে দেখা যায়
উচ্চারণ করা হয়লেখা হয়
ভাষার মৌখিক রূপভাষার লিখিত রূপ
ধ্বনির প্রতীক নয়ধ্বনির প্রতীক
মুখে প্রকাশিতকাগজে প্রকাশিত

স্বরধ্বনি ও স্বরবর্ণের পার্থক্য

স্বরধ্বনিস্বরবর্ণ
উচ্চারিত শব্দলিখিত চিহ্ন
শোনা যায়দেখা যায়
মৌখিকলিখিত

ব্যঞ্জনধ্বনি ও ব্যঞ্জনবর্ণের পার্থক্য

ব্যঞ্জনধ্বনিব্যঞ্জনবর্ণ
উচ্চারণ করা হয়লেখা হয়
ধ্বনিপ্রতীক

বাংলা ভাষায় বিশেষ কয়েকটি চিহ্ন

ং (অনুস্বার)

উদাহরণ

বাংলা

সংগীত

চাঁদ


ঃ (বিসর্গ)

উদাহরণ

দুঃখ

নিঃশ্বাস

প্রাতঃকাল


ঁ (চন্দ্রবিন্দু)

উদাহরণ

চাঁদ

হাঁস

পাঁচ


মনে রাখার সহজ কৌশল

ধ্বনি

👉 মুখে উচ্চারণ করি।

👉 কানে শুনি।


বর্ণ

👉 হাতে লিখি।

👉 চোখে দেখি।


গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

✔ ধ্বনি শোনা যায়।

✔ বর্ণ দেখা যায়।

✔ ধ্বনি আগে এসেছে।

✔ বর্ণ পরে সৃষ্টি হয়েছে।

✔ ধ্বনি মৌখিক।

✔ বর্ণ লিখিত।

✔ স্বরধ্বনি স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হয়।

✔ ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে স্বরের সাহায্য লাগে।

✔ বাংলা ভাষায় ১১টি স্বরবর্ণ।

✔ প্রচলিত গণনায় ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।

✔ মোট ৫০টি বর্ণ।


চাকরির পরীক্ষার জন্য শর্ট নোট

  • ধ্বনি = শোনা যায় + উচ্চারণ করা হয় + মৌখিক
  • বর্ণ = দেখা যায় + লেখা হয় + লিখিত
  • স্বরধ্বনি = বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয় না
  • ব্যঞ্জনধ্বনি = বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয়
  • স্বরবর্ণ = ১১টি
  • ব্যঞ্জনবর্ণ = ৩৯টি (প্রচলিত)
  • মোট বর্ণ = ৫০টি (প্রচলিত গণনা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *