জীববিজ্ঞান বিস্তারিত আলোচ্না
জীববিজ্ঞান বিস্তারিত আলোচ্ন
১. জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা
জীববিজ্ঞান কী?
জীববিজ্ঞান (Biology) হলো জীব ও জীবনের গঠন, কার্যাবলি, উৎপত্তি, বৃদ্ধি, বংশগতি, বিবর্তন, পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জীবের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়নকারী বিজ্ঞান।
Bio = জীবন
Logos = জ্ঞান/অধ্যয়ন
অতএব, Biology-এর অর্থ হলো জীবন সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়ন।
জীবের প্রধান বৈশিষ্ট্য
সব জীবের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ একই নয়, তবে সাধারণভাবে জীবের মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়:
১. কোষীয় গঠন
সব পরিচিত জীব এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত।
২. বিপাকক্রিয়া
জীবদেহে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহার হয়। এটিই Metabolism বা বিপাক।
৩. বৃদ্ধি
জীব কোষের সংখ্যা বা আকার বৃদ্ধির মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
৪. প্রজনন
জীব নিজের মতো নতুন জীব সৃষ্টি করতে পারে।
প্রজনন দুই ধরনের:
- যৌন প্রজনন
- অযৌন প্রজনন
৫. উদ্দীপকে সাড়া দেওয়া
আলো, তাপ, স্পর্শ, শব্দ বা রাসায়নিক পরিবর্তনের মতো উদ্দীপনায় জীব প্রতিক্রিয়া দেখায়।
৬. শ্বসন
জীব খাদ্য থেকে শক্তি আহরণ করে। অধিকাংশ জীবের ক্ষেত্রে অক্সিজেন ব্যবহার করে বা অক্সিজেন ছাড়াই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হতে পারে।
৭. বর্জ্য অপসারণ
বিপাকের ফলে তৈরি বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করা হয়। একে রেচন (Excretion) বলে।
৮. অভিযোজন
পরিবেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন জীবের বেঁচে থাকা ও প্রজননে সহায়ক হয়।
৯. বংশগতি
জীবের বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে যেতে পারে।
জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা
| শাখা | কী নিয়ে আলোচনা করে |
| Botany | উদ্ভিদ |
| Zoology | প্রাণী |
| Microbiology | অণুজীব |
| Cytology/Cell Biology | কোষ |
| Histology | টিস্যু |
| Anatomy | দেহের গঠন |
| Physiology | দেহের কার্যাবলি |
| Genetics | বংশগতি ও জিন |
| Ecology | জীব ও পরিবেশ |
| Taxonomy | জীবের শ্রেণিবিন্যাস |
| Evolutionary Biology | বিবর্তন |
| Biotechnology | জীববৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত ব্যবহার |
গুরুত্বপূর্ণ কথা
কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের মৌলিক একক।
২. কোষ
কোষ কী?
কোষ (Cell) হলো জীবদেহের গঠন ও কার্যাবলির মৌলিক একক।
কিছু জীব মাত্র একটি কোষ দিয়ে গঠিত—যেমন অনেক ব্যাকটেরিয়া ও এককোষী জীব। আবার মানুষ, গাছ ও অধিকাংশ প্রাণী বহুকোষী।
কোষের প্রধান অংশ
সাধারণভাবে একটি ইউক্যারিওটিক কোষে:
- কোষঝিল্লি
- সাইটোপ্লাজম
- নিউক্লিয়াস
- বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু
থাকে।
কোষঝিল্লি
কোষকে বাইরের পরিবেশ থেকে পৃথক রাখে এবং কোন পদার্থ কোষে প্রবেশ করবে বা বের হবে তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
এটি selectively permeable বা নির্বাচনীভাবে ভেদ্য।
সাইটোপ্লাজম
কোষঝিল্লি ও নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী অংশের তরল/জেলির মতো উপাদান এবং এর মধ্যে থাকা অঙ্গাণুগুলোকে মিলিয়ে সাইটোপ্লাজমিক অঞ্চল বলা হয়।
নিউক্লিয়াস
নিউক্লিয়াসে অধিকাংশ জিনগত উপাদান থাকে এবং এটি কোষের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের পার্থক্য
| বিষয় | উদ্ভিদ কোষ | প্রাণী কোষ |
| কোষপ্রাচীর | আছে | নেই |
| ক্লোরোপ্লাস্ট | সাধারণত আছে | নেই |
| বড় কেন্দ্রীয় ভ্যাকিউল | সাধারণত আছে | সাধারণত নেই/ছোট ভ্যাকিউল থাকতে পারে |
| আকৃতি | তুলনামূলক নির্দিষ্ট | তুলনামূলক পরিবর্তনশীল |
| খাদ্য তৈরি | সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে | নিজেরা সালোকসংশ্লেষণ করে না |
উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু
- কোষপ্রাচীর
- ক্লোরোপ্লাস্ট
- বড় ভ্যাকিউল
- মাইটোকন্ড্রিয়া
- রাইবোসোম
- গলজি বডি
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
- নিউক্লিয়াস
৩. কোষ বিভাজন
কোষ বিভাজন হলো একটি কোষ থেকে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া।
প্রধানত দুই ধরনের:
- মাইটোসিস
- মিয়োসিস
মাইটোসিস
মাইটোসিস হলো এমন কোষ বিভাজন যাতে একটি মাতৃকোষ থেকে সাধারণত দুটি জিনগতভাবে প্রায় অভিন্ন কন্যা কোষ তৈরি হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে।
genui{“learning_viz”:{“type_id”:”MITOSIS”,”locale_override”:”bn-BD”}}
মাইটোসিসের ধাপ
সহজভাবে:
Prophase → Metaphase → Anaphase → Telophase
এর সঙ্গে কোষ বিভাজনের শেষে Cytokinesis ঘটে।
Prophase
- ক্রোমাটিন ঘনীভূত হয়ে ক্রোমোজোম দৃশ্যমান হয়।
- নিউক্লিয়ার আবরণ ভাঙতে শুরু করে।
- স্পিন্ডল গঠন শুরু হয়।
Metaphase
ক্রোমোজোমগুলো কোষের মধ্যভাগে সারিবদ্ধ হয়।
Anaphase
সিস্টার ক্রোমাটিড পৃথক হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে যায়।
Telophase
দুই প্রান্তে নতুন নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।
Cytokinesis
সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে দুটি কন্যা কোষ তৈরি হয়।
মাইটোসিসের গুরুত্ব
- দেহের বৃদ্ধি
- ক্ষত সারানো
- ক্ষয়প্রাপ্ত কোষ প্রতিস্থাপন
- অযৌন প্রজনন
- কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি
মিয়োসিস
মিয়োসিস হলো বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন, যার মাধ্যমে সাধারণত হ্যাপ্লয়েড জননকোষ তৈরি হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
একটি ডিপ্লয়েড কোষ থেকে সাধারণভাবে চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়।
মিয়োসিসের বৈশিষ্ট্য
- DNA একবার প্রতিলিপি হয়
- কোষ বিভাজন দুই ধাপে ঘটে
- Meiosis I
- Meiosis II
- ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়
- জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়
Crossing Over
Meiosis I-এর Prophase I-এ সমজাতীয় ক্রোমোজোমের মধ্যে DNA-এর অংশ বিনিময় হতে পারে। একে crossing over বলে।
এটি বংশগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ।
মাইটোসিস বনাম মিয়োসিস
| বিষয় | মাইটোসিস | মিয়োসিস |
| বিভাজন | ১ বার | ২ বার |
| কন্যা কোষ | সাধারণত ২টি | সাধারণত ৪টি |
| ক্রোমোজোম সংখ্যা | অপরিবর্তিত | অর্ধেক |
| জিনগত বৈচিত্র্য | তুলনামূলক কম | বেশি |
| Crossing over | সাধারণত নেই | আছে |
| ভূমিকা | বৃদ্ধি ও মেরামত | জননকোষ সৃষ্টি |
৪. কোষীয় অঙ্গাণু
কোষের ভেতরে বিভিন্ন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনকারী গঠনকে কোষীয় অঙ্গাণু (Cell organelles) বলা হয়।
১. নিউক্লিয়াস
নিউক্লিয়াসকে কোষের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বলা হয়।
কাজ:
- জিনগত তথ্য সংরক্ষণ
- জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ
- কোষের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা
২. মাইটোকন্ড্রিয়া
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কোষীয় শ্বসনের মাধ্যমে খাদ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনের প্রধান ধাপগুলো সম্পন্ন হয়।
তাই একে প্রায়ই “কোষের শক্তিঘর” বলা হয়।
ATP হলো কোষের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিবাহক অণু।
৩. রাইবোসোম
রাইবোসোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ।
রাইবোসোম:
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে
- Rough ER-এর গায়েও থাকতে পারে
৪. গলজি বডি
কাজ:
- প্রোটিন ও লিপিড পরিবর্তন
- সাজানো
- প্যাকেজিং
- নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো
- কিছু ভেসিকল তৈরিতে ভূমিকা
৫. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
দুই ধরনের:
Rough ER
রাইবোসোম যুক্ত থাকে এবং প্রোটিন তৈরির ও পরিবহনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
Smooth ER
রাইবোসোম থাকে না; লিপিড সংশ্লেষণ, detoxification এবং কিছু কোষে calcium storage-এ ভূমিকা রাখে।
৬. লাইসোসোম
বিভিন্ন বৃহৎ অণু ও কোষীয় বর্জ্য ভাঙতে hydrolytic enzyme সমৃদ্ধ অঙ্গাণু হিসেবে কাজ করে।
৭. ক্লোরোপ্লাস্ট
উদ্ভিদ ও কিছু শৈবালের কোষে থাকে।
এখানে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
৮. ভ্যাকিউল
উদ্ভিদ কোষের বড় কেন্দ্রীয় ভ্যাকিউল:
- পানি
- আয়ন
- বিভিন্ন দ্রবণীয় পদার্থ
সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে এবং কোষের turgor বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. জীবের শ্রেণিবিন্যাস
শ্রেণিবিন্যাস কী?
বৈশিষ্ট্যের মিল-অমিল ও বিবর্তনীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে জীবদের বিভিন্ন দলে সাজানোকে শ্রেণিবিন্যাস (Classification) বলে।
শ্রেণিবিন্যাসের প্রধান উদ্দেশ্য
- জীবকে সহজে শনাক্ত করা
- জীবের বৈচিত্র্যকে সংগঠিত করা
- জীবের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা
- বৈজ্ঞানিক নামকরণ সহজ করা
Taxonomic hierarchy
সাধারণভাবে:
Domain → Kingdom → Phylum → Class → Order → Family → Genus → Species
বাংলায়:
ডোমেইন → জগৎ → পর্ব → শ্রেণি → বর্গ → গোত্র → গণ → প্রজাতি
উদাহরণ: মানুষ
- Domain: Eukarya
- Kingdom: Animalia
- Phylum: Chordata
- Class: Mammalia
- Order: Primates
- Family: Hominidae
- Genus: Homo
- Species: Homo sapiens
শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি
- কোষের ধরন
- কোষের সংখ্যা
- কোষপ্রাচীরের বৈশিষ্ট্য
- পুষ্টির ধরন
- দেহের গঠন
- প্রজনন
- জিনগত বৈশিষ্ট্য
- বিবর্তনীয় সম্পর্ক
বৈজ্ঞানিক নাম
জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সাধারণত দ্বিপদ নামকরণ (Binomial nomenclature) পদ্ধতিতে লেখা হয়।
দুটি অংশ:
- Genus
- Species
উদাহরণ:
Homo sapiens
এখানে Homo = গণ এবং sapiens = species epithet।
৬. উদ্ভিদ শ্রেণিবিন্যাস
উদ্ভিদকে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কয়েকটি বড় দলে আলোচনা করা হয়।
১. শৈবাল — Algae
সাধারণত জলজ বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বসবাসকারী সালোকসংশ্লেষী জীব।
বৈশিষ্ট্য:
- দেহ সাধারণত সরল
- প্রকৃত মূল, কাণ্ড, পাতা থাকে না
- ক্লোরোফিল থাকে
- সালোকসংশ্লেষণ করে
উদাহরণ:
- Spirogyra
- Chlamydomonas
২. মস — Bryophytes
উদ্ভিদজগতের স্থলজ উদ্ভিদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সরল দল।
বৈশিষ্ট্য:
- প্রকৃত vascular tissue নেই
- প্রকৃত মূলের পরিবর্তে rhizoid থাকতে পারে
- আর্দ্র পরিবেশে বেশি দেখা যায়
- প্রজননে পানির প্রয়োজন হয়
উদাহরণ:
- Marchantia
- Funaria
৩. ফার্ন — Pteridophytes
এদের vascular tissue আছে।
বৈশিষ্ট্য:
- প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতা থাকে
- ফুল ও বীজ হয় না
- স্পোরের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে
উদাহরণ:
- Fern
- Marsilea
৪. নগ্নবীজী — Gymnosperms
এদের বীজ ফলের ভেতরে আবদ্ধ থাকে না।
বৈশিষ্ট্য:
- vascular tissue আছে
- বীজ উৎপন্ন করে
- প্রকৃত ফল তৈরি হয় না
- অনেক ক্ষেত্রে cone দেখা যায়
উদাহরণ:
- Cycas
- Pinus
৫. আবৃতবীজী — Angiosperms
এরা ফুল উৎপন্নকারী উদ্ভিদ এবং বীজ সাধারণত ফলের মধ্যে আবৃত থাকে।
দুটি প্রধান দল:
একবীজপত্রী — Monocot
- একটি cotyledon
- সাধারণত সমান্তরাল শিরাবিন্যাস
- fibrous root বেশি দেখা যায়
উদাহরণ:
ধান, গম, ভুট্টা।
দ্বিবীজপত্রী — Dicot
- দুটি cotyledon
- সাধারণত জালিকাবৎ শিরাবিন্যাস
- taproot বেশি দেখা যায়
উদাহরণ:
আম, শিম, মটর।
৭. প্রাণী শ্রেণিবিন্যাস
প্রাণীকে প্রধানত দুইভাবে প্রাথমিকভাবে ভাগ করা যায়:
- অমেরুদণ্ডী প্রাণী
- মেরুদণ্ডী প্রাণী
অমেরুদণ্ডী প্রাণী
যাদের দেহে মেরুদণ্ড নেই।
প্রধান কয়েকটি পর্ব:
| পর্ব | উদাহরণ |
| Porifera | Sponge |
| Cnidaria | Hydra, Jellyfish |
| Platyhelminthes | Tapeworm |
| Nematoda | Roundworm |
| Annelida | Earthworm |
| Arthropoda | Insect, Crab |
| Mollusca | Snail, Octopus |
| Echinodermata | Starfish |
Arthropoda
এটি প্রাণীজগতের অন্যতম বৃহৎ পর্ব।
বৈশিষ্ট্য:
- সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ
- বহিঃকঙ্কাল
- খণ্ডিত দেহ
উদাহরণ:
- পিঁপড়া
- প্রজাপতি
- মাকড়সা
- কাঁকড়া
মেরুদণ্ডী প্রাণী
মেরুদণ্ড বা vertebral column-যুক্ত প্রাণী।
প্রধান শ্রেণি:
১. মাছ — Pisces
- জলজ
- ফুলকা দিয়ে শ্বাস
- পাখনা থাকে
২. উভচর — Amphibia
- জল ও স্থল উভয় পরিবেশে জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকতে পারে
- যেমন ব্যাঙ
৩. সরীসৃপ — Reptilia
- ত্বক সাধারণত শুষ্ক ও আঁশযুক্ত
- যেমন সাপ, টিকটিকি
৪. পাখি — Aves
- পালক
- ঠোঁট
- ডানা
- অধিকাংশ উড়তে পারে
৫. স্তন্যপায়ী — Mammalia
- স্তন্যগ্রন্থি
- সাধারণত লোম
- অধিকাংশ জীবন্ত বাচ্চা প্রসব করে
উদাহরণ:
মানুষ, গরু, বিড়াল, হাতি।
৮. উদ্ভিদ টিস্যু
টিস্যু কী?
একই ধরনের গঠন ও নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বিশেষায়িত একাধিক কোষের সমষ্টিকে টিস্যু (Tissue) বলে।
উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দুই ধরনের:
- ভাজক টিস্যু
- স্থায়ী টিস্যু
ভাজক টিস্যু — Meristematic tissue
যেসব কোষ নিয়মিত বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করে তাদের নিয়ে গঠিত টিস্যু।
বৈশিষ্ট্য
- কোষ বিভাজন ক্ষমতা বেশি
- কোষ ছোট
- ঘন সাইটোপ্লাজম
- নিউক্লিয়াস তুলনামূলক বড়
- আন্তঃকোষীয় স্থান খুব কম
অবস্থান
- মূলের অগ্রভাগ
- কাণ্ডের অগ্রভাগ
- পার্শ্বীয় অংশ
কাজ
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি
- নতুন কোষ সৃষ্টি
স্থায়ী টিস্যু
যেসব কোষ সাধারণত বিভাজন ক্ষমতা হারিয়ে নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষায়িত হয়।
দুই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবাহী টিস্যু:
Xylem — জাইলেম
মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ উপরের দিকে পরিবহন করে।
প্রধান উপাদান:
- Tracheid
- Vessel
- Xylem fibre
- Xylem parenchyma
কাজ
পানি + খনিজ লবণ পরিবহন
Phloem — ফ্লোয়েম
পাতায় উৎপাদিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করে।
প্রধান উপাদান:
- Sieve tube
- Companion cell
- Phloem parenchyma
- Phloem fibre
কাজ
খাদ্য পরিবহন
Xylem বনাম Phloem
| বিষয় | Xylem | Phloem |
| প্রধান পরিবহন | পানি ও খনিজ | খাদ্য |
| প্রধান উৎস | মূল | পাতাসহ source tissue |
| প্রবাহ | সাধারণত মূল থেকে উপরের দিকে | source থেকে sink—দুই দিকেই হতে পারে |
| প্রধান ভূমিকা | পানি সরবরাহ | খাদ্য বণ্টন |
৯. প্রাণী টিস্যু
প্রাণীর চারটি প্রধান টিস্যু:
- আবরণী টিস্যু
- যোজক টিস্যু
- পেশি টিস্যু
- স্নায়ু টিস্যু
১. আবরণী টিস্যু — Epithelial Tissue
দেহের বাইরের আবরণ এবং বিভিন্ন অঙ্গের অভ্যন্তরীণ আবরণ তৈরি করে।
কাজ
- সুরক্ষা
- শোষণ
- নিঃসরণ
- পদার্থের আদান-প্রদান
উদাহরণ:
ত্বক, অন্ত্রের আবরণ।
২. যোজক টিস্যু — Connective Tissue
দেহের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত, সমর্থন ও সুরক্ষা দেয়।
উদাহরণ:
- রক্ত
- হাড়
- তরুণাস্থি
- চর্বি
- tendon
- ligament
রক্ত
রক্ত একটি বিশেষ ধরনের তরল যোজক টিস্যু।
কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন
- পুষ্টি পরিবহন
- হরমোন পরিবহন
- বর্জ্য পরিবহন
- রোগপ্রতিরোধ
- রক্ত জমাট বাঁধা
৩. পেশি টিস্যু — Muscle Tissue
দেহের নড়াচড়া ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চলনে সাহায্য করে।
তিন ধরনের:
কঙ্কাল পেশি
- ইচ্ছাধীন
- হাড়ের সঙ্গে যুক্ত
- দেহের নড়াচড়া ঘটায়
মসৃণ পেশি
- অনৈচ্ছিক
- অন্ত্র, রক্তনালি ইত্যাদিতে থাকে
হৃদপেশি
- হৃদ্যন্ত্রে থাকে
- অনৈচ্ছিক
- ছন্দময় সংকোচন ঘটায়
৪. স্নায়ু টিস্যু — Nervous Tissue
উদ্দীপনা গ্রহণ ও বৈদ্যুতিক/রাসায়নিক সংকেত পরিবহনে সাহায্য করে।
প্রধান কোষ:
- Neuron
- Glial cells
Neuron-এর কাজ
উদ্দীপনা গ্রহণ করে সংকেত পরিবহন করা।
১০. উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতা
উদ্ভিদের দেহের তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো:
মূল + কাণ্ড + পাতা
ক. মূল — Root
মূল কী?
উদ্ভিদের সাধারণত মাটির নিচে থাকা অঙ্গ, যা উদ্ভিদকে মাটিতে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে এবং পানি ও খনিজ লবণ শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মূলের প্রধান কাজ
১. উদ্ভিদকে মাটিতে স্থাপন
মূল উদ্ভিদকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে।
২. পানি শোষণ
মূলের root hair মাটি থেকে পানি শোষণে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. খনিজ লবণ গ্রহণ
মাটি থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ আয়ন গ্রহণ করে।
৪. খাদ্য সঞ্চয়
কিছু উদ্ভিদের মূল খাদ্য সঞ্চয় করে।
উদাহরণ:
- গাজর
- মিষ্টি আলু
মূলের অঞ্চল
মূলের অগ্রভাগে সাধারণভাবে:
Root cap → Meristematic zone → Elongation zone → Maturation zone
Maturation zone-এ root hair দেখা যায়।
খ. কাণ্ড — Stem
কাণ্ড সাধারণত উদ্ভিদের উপরের অংশকে সমর্থন করে এবং মূল ও পাতার মধ্যে পদার্থ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কাণ্ডের কাজ
১. পাতা ও ফুলকে ধারণ করা
২. পানি পরিবহন
Xylem-এর মাধ্যমে মূল থেকে পানি ও খনিজ উপরে যায়।
৩. খাদ্য পরিবহন
Phloem-এর মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়।
৪. খাদ্য সঞ্চয়
কিছু পরিবর্তিত কাণ্ড খাদ্য সঞ্চয় করে।
৫. উদ্ভিদের বৃদ্ধি
কাণ্ডের অগ্রভাগের meristem উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
গ. পাতা — Leaf
পাতা হলো উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষী অঙ্গ।
পাতার প্রধান অংশ
- Leaf base
- Petiole বা বৃন্ত
- Lamina/পাতার ফলক
- Midrib/মধ্যশিরা
- Veins/শিরা
পাতার প্রধান কাজ
১. সালোকসংশ্লেষণ
পাতার ক্লোরোফিল সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
সরল সমীকরণ:
6CO2+6H2O→chlorophylllightC6H12O6+6O26CO_2+6H_2O \xrightarrow[\text{chlorophyll}]{light} C_6H_{12}O_6+6O_2
২. গ্যাসের আদান–প্রদান
পাতার stomata বা পত্ররন্ধ্র দিয়ে CO₂ প্রবেশ এবং O₂ বের হতে পারে।
৩. বাষ্পমোচন
উদ্ভিদ থেকে জলীয়বাষ্প বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে Transpiration বা বাষ্পমোচন বলে।
৪. পানি চলাচলে সহায়তা
বাষ্পমোচন উদ্ভিদের পানি পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মূল, কাণ্ড ও পাতার তুলনা
| বৈশিষ্ট্য | মূল | কাণ্ড | পাতা |
| প্রধান অবস্থান | সাধারণত মাটির নিচে | সাধারণত মাটির ওপরে | কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত |
| প্রধান কাজ | পানি ও খনিজ শোষণ | সমর্থন ও পরিবহন | সালোকসংশ্লেষণ |
| Root hair | আছে | নেই | নেই |
| Xylem | পানি পরিবহন করে | পানি পরিবহন করে | শিরার মাধ্যমে পানি পৌঁছে |
| Phloem | খাদ্য পরিবহনে যুক্ত | খাদ্য পরিবহন করে | খাদ্য তৈরি ও পরিবহন |
| Stomata | সাধারণত নেই | সাধারণত নেই | প্রধানত পাতায় থাকে |
১১. সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণ কী?
সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোকশক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই–অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা তৈরি করে এবং সাধারণত অক্সিজেন নির্গত করে—এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলে।
genui{“learning_viz”:{“type_id”:”PHOTOSYNTHESIS”,”locale_override”:”bn-BD”}}
রাসায়নিক সমীকরণ
6CO2+6H2O→chlorophylllightC6H12O6+6O26CO_2+6H_2O \xrightarrow[\text{chlorophyll}]{\text{light}} C_6H_{12}O_6+6O_2
অর্থাৎ:
কার্বন ডাই–অক্সাইড + পানি → গ্লুকোজ + অক্সিজেন
এটি একটি সরলীকৃত সামগ্রিক সমীকরণ।
সালোকসংশ্লেষণের প্রয়োজনীয় উপাদান
১. সূর্যের আলো
আলোকশক্তি সরবরাহ করে।
২. ক্লোরোফিল
ক্লোরোপ্লাস্টে থাকা সবুজ রঞ্জক। এটি আলোকশক্তি শোষণ করে।
৩. পানি
মূলের মাধ্যমে শোষিত হয়ে জাইলেম দিয়ে পাতায় পৌঁছায়।
৪. CO₂
পাতার পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ু থেকে প্রবেশ করে।
সালোকসংশ্লেষণের স্থান
মূলত পাতার ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
ক্লোরোপ্লাস্টের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ:
- Thylakoid/গ্রানা — আলোকনির্ভর বিক্রিয়ার প্রধান স্থান
- Stroma — Calvin cycle-এর প্রধান স্থান
আলোক পর্যায়
আলোক পর্যায়ে আলো সরাসরি প্রয়োজন।
এটি প্রধানত thylakoid membrane-এ ঘটে।
প্রধান ঘটনা:
- ক্লোরোফিল আলো শোষণ করে
- পানি ভাঙে
- অক্সিজেন উৎপন্ন হয়
- ATP তৈরি হয়
- NADPH তৈরি হয়
অক্সিজেনের উৎস হিসেবে পানি গুরুত্বপূর্ণ।
অন্ধকার পর্যায়
এটিকে Light-independent reaction বা Calvin cycle বলা হয়।
এটি chloroplast-এর stroma-তে সংঘটিত হয়।
এখানে:
- CO₂ গ্রহণ করা হয়
- ATP ও NADPH-এর শক্তি/হ্রাসকারী ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়
- ধাপে ধাপে কার্বোহাইড্রেট তৈরির পথ তৈরি হয়
গুরুত্বপূর্ণ: “অন্ধকার পর্যায়” মানে এই নয় যে এটি শুধু রাতেই ঘটে। পর্যাপ্ত উপাদান ও এনজাইম সক্রিয় থাকলে এটি আলোক পর্যায় থেকে পাওয়া ATP ও NADPH ব্যবহার করে।
সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব
- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে
- পৃথিবীর খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি তৈরি করে
- বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন যোগ করে
- CO₂ গ্রহণ করে
- সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে
১২. উদ্ভিদের শ্বসন
শ্বসন কী?
কোষে খাদ্য অণু ভেঙে ব্যবহারযোগ্য শক্তি, প্রধানত ATP, উৎপন্ন হওয়ার জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে কোষীয় শ্বসন (Cellular respiration) বলা হয়।
উদ্ভিদও দিন-রাত সবসময় শ্বসন করে।
বায়বীয় শ্বসন
অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হলে তাকে বায়বীয় শ্বসন (Aerobic respiration) বলে।
সরল সমীকরণ:
C6H12O6+6O2→6CO2+6H2O+EnergyC_6H_{12}O_6+6O_2 \rightarrow 6CO_2+6H_2O+\text{Energy}
প্রধান ধাপ
- Glycolysis
- Pyruvate oxidation
- Citric acid cycle/Krebs cycle
- Electron transport chain
Glycolysis সাইটোপ্লাজমে এবং পরবর্তী প্রধান ধাপগুলো ইউক্যারিওটিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে।
অবায়বীয় শ্বসন/ফার্মেন্টেশন
অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে বা সীমিত অবস্থায় গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ ভাঙন থেকে তুলনামূলক কম শক্তি পাওয়া যায়।
উদ্ভিদ কোষে কিছু অবস্থায় fermentation হতে পারে।
উদাহরণ:
Glucose→Ethanol+CO2+EnergyGlucose \rightarrow Ethanol + CO_2 + Energy
বায়বীয় বনাম অবায়বীয়
| বিষয় | বায়বীয় | অবায়বীয় |
| O₂ | প্রয়োজন | প্রয়োজন নেই |
| গ্লুকোজের ভাঙন | তুলনামূলক সম্পূর্ণ | অসম্পূর্ণ |
| শক্তি | বেশি | কম |
| শেষ পদার্থ | CO₂ + H₂O | organism অনুযায়ী ethanol/অন্যান্য পদার্থ |
গুরুত্বপূর্ণ
সালোকসংশ্লেষণ খাদ্য তৈরি করে, শ্বসন সেই খাদ্য থেকে শক্তি মুক্ত করে।
১৩. উদ্ভিদের প্রজনন
প্রজনন কী?
জীবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জীব সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রজনন (Reproduction) বলে।
উদ্ভিদে প্রধানত:
- অযৌন প্রজনন
- যৌন প্রজনন
অযৌন প্রজনন
একজন parent থেকে সাধারণত gamete-এর মিলন ছাড়াই নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হলে তাকে অযৌন প্রজনন বলে।
বৈশিষ্ট্য
- একটি parent যথেষ্ট
- gamete fusion সাধারণত হয় না
- দ্রুত হতে পারে
- offspring সাধারণত parent-এর জিনগতভাবে খুব কাছাকাছি
উদাহরণ
Vegetative propagation
উদ্ভিদের দেহের অংশ থেকে নতুন উদ্ভিদ তৈরি।
আলু → কন্দ
আদা → rhizome
স্ট্রবেরি → runner
যৌন প্রজনন
পুরুষ ও স্ত্রী gamete-এর মিলনের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি হলে তাকে যৌন প্রজনন বলে।
ফুলধারী উদ্ভিদে:
পরাগরেণু → pollen tube → পুরুষ gamete → ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষেক → zygote
গুরুত্ব
- বংশগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে
- অভিযোজন ও বিবর্তনে ভূমিকা রাখে
১৪. পরাগায়ন ও নিষেক
পরাগায়ন কী?
পুংকেশরের পরাগধানী (anther) থেকে পরাগরেণু একই ফুল বা অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে (stigma) স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন (Pollination) বলে।
স্বপরাগায়ন
একই ফুল বা একই উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছালে স্বপরাগায়ন হয়।
সুবিধা
- পরাগায়নের সম্ভাবনা বেশি
- pollinator-এর ওপর নির্ভরতা কম হতে পারে
- parental characteristics বজায় থাকে
সীমাবদ্ধতা
জিনগত বৈচিত্র্য তুলনামূলক কম হতে পারে।
পরপরাগায়ন
একই প্রজাতির একটি উদ্ভিদের ফুল থেকে অন্য উদ্ভিদের ফুলে পরাগরেণু স্থানান্তর হলে পরপরাগায়ন (Cross-pollination) হয়।
বাহক:
- পোকামাকড়
- বাতাস
- পাখি
- অন্যান্য প্রাণী
- পানি
সুবিধা
- জিনগত বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করে
- নতুন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় হতে পারে
নিষেক
পুরুষ gamete ও স্ত্রী gamete-এর মিলনকে নিষেক (Fertilization) বলে।
ফুলধারী উদ্ভিদে সাধারণত pollen tube-এর মাধ্যমে পুরুষ gamete ovule-এর embryo sac-এ পৌঁছায়।
দ্বিনিষেক
আবৃতবীজী উদ্ভিদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো Double fertilization।
একটি পুরুষ gamete ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে:
Zygote তৈরি করে।
অন্য পুরুষ gamete polar nuclei-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে:
Endosperm গঠনের সূচনা করে।
১৫. উদ্ভিদের হরমোন
উদ্ভিদ হরমোন কী?
উদ্ভিদের অতি অল্প পরিমাণে কার্যকর এমন রাসায়নিক সংকেত, যা বৃদ্ধি, বিকাশ ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে উদ্ভিদ হরমোন বা Phytohormone বলে।
প্রধান হরমোন:
- Auxin
- Gibberellin
- Cytokinin
- ABA
- Ethylene
১. Auxin
প্রধান কাজ
- কোষের elongation
- কাণ্ডের বৃদ্ধি
- phototropism-এ ভূমিকা
- apical dominance
- শিকড় গঠনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহায়তা
উদাহরণ
উদ্ভিদ আলো থেকে দূরে/আলোর দিকে বাঁকানোর ঘটনায় auxin-এর বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ।
২. Gibberellin
কাজ:
- কাণ্ডের elongation
- বীজের dormancy ভাঙতে সাহায্য
- germination
- কিছু উদ্ভিদে flowering/fruit growth-এ ভূমিকা
৩. Cytokinin
কাজ:
- কোষ বিভাজন
- lateral bud growth
- পাতার senescence বিলম্বিত করতে পারে
৪. ABA — Abscisic Acid
ABA সাধারণত উদ্ভিদের stress hormone হিসেবে পরিচিত।
কাজ:
- খরার সময় stomatal closure-এ ভূমিকা
- seed dormancy
- প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ভিদের প্রতিক্রিয়া
৫. Ethylene
এটি একটি গ্যাসীয় উদ্ভিদ হরমোন।
কাজ:
- ফল পাকানো
- পাতার/ফুলের ঝরা বা abscission
- কিছু stress response
হরমোনের সংক্ষিপ্ত তালিকা
| হরমোন | প্রধান ভূমিকা |
| Auxin | কোষের elongation, tropism |
| Gibberellin | কাণ্ড বৃদ্ধি, germination |
| Cytokinin | কোষ বিভাজন |
| ABA | stress response, stomatal closure, dormancy |
| Ethylene | ফল পাকানো, abscission |
১৬. বংশগতি
বংশগতি কী?
জীবের বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে জিনের মাধ্যমে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বংশগতি (Heredity) বলে।
উদাহরণ:
- চোখের রঙ
- রক্তের গ্রুপ
- কিছু বংশগত রোগ
- নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য
Gene
Gene হলো DNA-এর একটি কার্যকর অংশ, যা কোনো RNA বা কার্যকর প্রোটিন/উৎপাদের জন্য তথ্য বহন করতে পারে এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যে ভূমিকা রাখে।
DNA
DNA-তে বংশগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
Chromosome
DNA ও protein-এর সংগঠিত কাঠামোকে chromosome বলা হয়।
RNA
RNA বিভিন্ন জৈবিক কাজে, বিশেষ করে gene expression ও protein synthesis-এ গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্ক
সহজভাবে:
DNA → Gene → RNA → Protein → বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ
তবে সব gene সরাসরি protein তৈরি করে না; কিছু gene functional RNA তৈরি করে।
১৭. মেন্ডেলের সূত্র
গ্রেগর মেন্ডেল মটরগাছের ওপর পরীক্ষা করে বংশগতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আবিষ্কার করেন।
গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা
Dominant
কোনো allele-এর এমন বৈশিষ্ট্য, যা heterozygous অবস্থায় phenotype-এ প্রকাশ পেতে পারে।
Recessive
সাধারণত heterozygous অবস্থায় dominant allele-এর কারণে প্রকাশ পায় না; homozygous অবস্থায় প্রকাশ পেতে পারে।
Genotype
কোনো জীবের নির্দিষ্ট genetic constitution।
উদাহরণ:
TT, Tt, tt
Phenotype
জীবের পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ:
লম্বা বা খাটো উদ্ভিদ।
মেন্ডেলের সূত্র
১. Segregation-এর সূত্র
একটি diploid জীবের gamete তৈরির সময় কোনো gene-এর দুই allele পৃথক হয়ে বিভিন্ন gamete-এ যায়।
উদাহরণ:
Tt → T বা t gamete
২. Independent Assortment
ভিন্ন gene-এর allele জোড়াগুলো gamete গঠনের সময় স্বাধীনভাবে বণ্টিত হতে পারে—যদি তারা স্বাধীনভাবে assort করে, যেমন ভিন্ন chromosome-এ থাকা gene-এর ক্ষেত্রে।
Monohybrid cross
ধরা যাক:
T = লম্বা
t = খাটো
তাহলে:
Tt × Tt
সম্ভাব্য genotype:
- TT
- Tt
- Tt
- tt
Genotypic ratio:
1 : 2 : 1
যদি সম্পূর্ণ dominance থাকে, phenotypic ratio:
3 : 1
১৮. জেনেটিক্স
Genetics কী?
জিন, বংশগতি এবং জীবের বৈশিষ্ট্যের variation নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত অধ্যয়নকে Genetics বা বংশগতিবিদ্যা বলে।
Mutation
DNA-এর nucleotide sequence-এ স্থায়ী পরিবর্তনকে Mutation বলা হয়।
Mutation হতে পারে:
- spontaneous
- radiation/রাসায়নিক mutagen-এর মতো কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত
সব mutation ক্ষতিকর নয়।
Mutation হতে পারে:
- ক্ষতিকর
- নিরপেক্ষ
- কিছু পরিবেশে উপকারী
Mutation-এর ধরন
- substitution
- insertion
- deletion
Insertion বা deletion coding region-এ হলে কখনও frameshift mutation হতে পারে।
Genetic disorder
জিন বা chromosome-এর পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট কিছু রোগ বা অবস্থাকে genetic disorder বলা হয়।
উদাহরণ:
Sickle cell disease
হিমোগ্লোবিনের gene-এর পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
Hemophilia
রক্ত জমাট বাঁধার নির্দিষ্ট উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত বংশগত রোগ।
Down syndrome
সাধারণত chromosome 21-এর অতিরিক্ত একটি কপি থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
Thalassemia
হিমোগ্লোবিন তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বংশগত রোগসমূহের একটি দল।
১৯. DNA ও RNA
DNA কী?
DNA = Deoxyribonucleic Acid
এটি অধিকাংশ জীবের বংশগত তথ্য সংরক্ষণের প্রধান অণু।
DNA-এর গঠন
DNA সাধারণত double helix।
এতে চার ধরনের nitrogenous base:
- Adenine (A)
- Thymine (T)
- Guanine (G)
- Cytosine (C)
Base pairing:
A ↔ T
G ↔ C
RNA কী?
RNA = Ribonucleic Acid
RNA সাধারণত single-stranded এবং gene expression-এ গুরুত্বপূর্ণ।
RNA-এর bases:
- Adenine (A)
- Uracil (U)
- Guanine (G)
- Cytosine (C)
RNA-তে:
A ↔ U
DNA বনাম RNA
| বৈশিষ্ট্য | DNA | RNA |
| পূর্ণ নাম | Deoxyribonucleic acid | Ribonucleic acid |
| সাধারণ গঠন | Double-stranded | সাধারণত single-stranded |
| Sugar | Deoxyribose | Ribose |
| Base | A, T, G, C | A, U, G, C |
| প্রধান ভূমিকা | Genetic information storage | Gene expression ও বিভিন্ন cellular function |
| অবস্থান | nucleus-সহ বিভিন্ন স্থানে | nucleus ও cytoplasm উভয় স্থানেই |
RNA-এর প্রধান ধরন
mRNA: DNA থেকে protein তৈরির তথ্য ribosome-এ বহন করে।
tRNA: নির্দিষ্ট amino acid ribosome-এ নিয়ে আসে।
rRNA: ribosome-এর গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং protein synthesis-এ ভূমিকা রাখে।
২০. মানবদেহ
মানবদেহ অসংখ্য কোষ নিয়ে গঠিত একটি জটিল বহুকোষী জীব।
সংগঠনের স্তর:
কোষ → টিস্যু → অঙ্গ → অঙ্গতন্ত্র → মানবদেহ
প্রধান অঙ্গতন্ত্র
১. পরিপাকতন্ত্র
প্রধান অঙ্গ:
মুখ → গলবিল → খাদ্যনালি → পাকস্থলী → ক্ষুদ্রান্ত্র → বৃহদান্ত্র → মলদ্বার
সহায়ক অঙ্গ:
- যকৃত
- অগ্ন্যাশয়
- পিত্তথলি
কাজ
খাদ্যকে ভেঙে পুষ্টি শোষণযোগ্য করা এবং বর্জ্য অপসারণ।
২. শ্বাসতন্ত্র
প্রধান অঙ্গ:
- নাক
- গলবিল
- স্বরযন্ত্র
- ট্রাকিয়া
- ব্রঙ্কাস
- ব্রঙ্কিওল
- ফুসফুস
- অ্যালভিওলাই
কাজ
অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করা।
৩. রক্তসংবহন তন্ত্র
প্রধান অংশ:
- হৃদ্যন্ত্র
- রক্ত
- ধমনি
- শিরা
- কৈশিকনালি
কাজ
- O₂ পরিবহন
- CO₂ পরিবহন
- পুষ্টি পরিবহন
- হরমোন পরিবহন
- বর্জ্য পরিবহন
৪. স্নায়ুতন্ত্র
প্রধান অংশ:
- মস্তিষ্ক
- মেরুরজ্জু
- peripheral nerves
কাজ
- উদ্দীপনা গ্রহণ
- তথ্য বিশ্লেষণ
- দেহের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ
- দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি
৫. রেচনতন্ত্র
প্রধান অঙ্গ:
কিডনি → ureter → urinary bladder → urethra
কিডনির কার্যকরী একক হলো nephron।
কাজ
- রক্ত পরিশোধন
- বর্জ্য অপসারণ
- পানি ও electrolyte নিয়ন্ত্রণ
- acid-base balance-এ ভূমিকা
৬. কঙ্কালতন্ত্র
মানবদেহের হাড় ও সংশ্লিষ্ট গঠন নিয়ে কঙ্কালতন্ত্র।
কাজ
- দেহকে আকৃতি ও সমর্থন দেওয়া
- অভ্যন্তরীণ অঙ্গ রক্ষা
- পেশির সঙ্গে কাজ করে movement
- bone marrow-এর মাধ্যমে রক্তকোষ তৈরিতে ভূমিকা
- calcium ও phosphorus সংরক্ষণ
৭. পেশিতন্ত্র
পেশির মাধ্যমে দেহের নড়াচড়া ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পন্ন হয়।
প্রধান তিন ধরনের পেশি:
- Skeletal
- Smooth
- Cardiac
৮. অন্তঃস্রাবী তন্ত্র
হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থিসমূহের তন্ত্র।
প্রধান গ্রন্থি:
- Pituitary
- Thyroid
- Adrenal
- Pancreas
- Gonads
কাজ
- বৃদ্ধি
- বিপাক
- প্রজনন
- পানি ও লবণের ভারসাম্য
- stress response
৯. প্রজননতন্ত্র
পুরুষের প্রধান অঙ্গ
- Testes
- Epididymis
- Vas deferens
- অন্যান্য সহায়ক প্রজনন অঙ্গ
নারীর প্রধান অঙ্গ
- Ovaries
- Fallopian tubes
- Uterus
- Vagina
কাজ
জননকোষ উৎপাদন এবং প্রজনন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ।
১০. রোগপ্রতিরোধ/লসিকাতন্ত্র
প্রধান অংশ:
- Lymph
- Lymph nodes
- Spleen
- Thymus
- immune cells
কাজ
- রোগজীবাণু শনাক্তকরণ
- রোগ প্রতিরোধ
- অতিরিক্ত tissue fluid-এর কিছু অংশ নিষ্কাশনে সহায়তা
মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও কাজ
| অঙ্গ | প্রধান কাজ |
| মস্তিষ্ক | নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ |
| হৃদ্যন্ত্র | রক্ত পাম্প করা |
| ফুসফুস | O₂/CO₂ বিনিময় |
| পাকস্থলী | খাদ্য পরিপাকের অংশ |
| ক্ষুদ্রান্ত্র | পুষ্টি শোষণ |
| যকৃত | বিপাক, detoxification, পিত্ত উৎপাদনসহ বহু কাজ |
| অগ্ন্যাশয় | হজমের enzyme ও হরমোন উৎপাদন |
| কিডনি | বর্জ্য ও তরল-ইলেক্ট্রোলাইট নিয়ন্ত্রণ |
| ত্বক | সুরক্ষা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও সংবেদন |
| প্লীহা | রক্ত ও immune function-এ ভূমিকা |
২১. পরিপাকতন্ত্র
পরিপাকতন্ত্র (Digestive System) হলো এমন একটি অঙ্গতন্ত্র, যা খাদ্য গ্রহণ, খাদ্যকে সরল ও শোষণযোগ্য পদার্থে ভাঙা, পুষ্টি শোষণ এবং অপাচ্য অংশ দেহ থেকে বের করার কাজ করে।
পরিপাকতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ
খাদ্যনালির প্রধান অংশগুলো হলো—
মুখ → গলবিল → খাদ্যনালি → পাকস্থলী → ক্ষুদ্রান্ত্র → বৃহদান্ত্র → মলাশয় → পায়ু
এ ছাড়া লিভার, অগ্ন্যাশয় ও পিত্তথলি পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১. মুখ
মুখে খাদ্য প্রবেশ করে। দাঁত খাদ্যকে যান্ত্রিকভাবে ছোট করে এবং জিহ্বা খাদ্যকে নাড়াচাড়া ও গিলতে সাহায্য করে।
লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়। লালায় থাকা অ্যামাইলেজ এনজাইম শর্করা বা স্টার্চের পরিপাক শুরু করে।
২. খাদ্যনালি
খাদ্যনালি বা Esophagus মুখ থেকে পাকস্থলীতে খাদ্য পৌঁছে দেয়। এর পেশির ছন্দময় সংকোচনকে পেরিস্টালসিস বলা হয়।
৩. পাকস্থলী
পাকস্থলী একটি পেশিবহুল থলি। এখানে—
- খাদ্য কিছু সময় জমা থাকে।
- পেশির সংকোচনে খাদ্য মিশ্রিত হয়।
- Hydrochloric acid (HCl) জীবাণু ধ্বংসে এবং প্রোটিন পরিপাকে সহায়তা করে।
- Pepsin প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে।
- পাকস্থলীর মিউকাস এর আবরণকে অ্যাসিড থেকে রক্ষা করে।
৪. ক্ষুদ্রান্ত্র
পরিপাক ও পুষ্টি শোষণের প্রধান স্থান হলো ক্ষুদ্রান্ত্র।
এখানে লিভারের পিত্ত এবং অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্রের বিভিন্ন এনজাইম কাজ করে।
প্রধান পরিপাক—
- শর্করা → সরল শর্করা, যেমন গ্লুকোজ
- প্রোটিন → অ্যামিনো অ্যাসিড
- চর্বি → ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলজাতীয় ক্ষুদ্র অণু
ক্ষুদ্রান্ত্রের দেয়ালে অসংখ্য ভিলাই (Villi) থাকে। এগুলো পুষ্টি শোষণের ক্ষেত্রফল বাড়ায়।
৫. বৃহদান্ত্র
বৃহদান্ত্র প্রধানত—
- পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট শোষণ করে
- অপাচ্য খাদ্যকে মলের দিকে এগিয়ে নেয়
- অন্ত্রের অণুজীবের কার্যক্রমে কিছু ভিটামিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
৬. লিভার
লিভার দেহের গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় অঙ্গ। এটি পিত্ত (Bile) তৈরি করে। পিত্ত চর্বিকে ছোট ছোট ফোঁটায় বিভক্ত করে emulsification ঘটায়, ফলে চর্বির পরিপাক সহজ হয়।
৭. অগ্ন্যাশয়
অগ্ন্যাশয় থেকে বিভিন্ন পরিপাকীয় এনজাইম নিঃসৃত হয়। যেমন—
- Amylase → শর্করা
- Proteases → প্রোটিন
- Lipase → চর্বি
অগ্ন্যাশয় একই সঙ্গে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন-এর মতো হরমোনও তৈরি করে।
পরিপাকের প্রধান ধাপ
খাদ্য গ্রহণ → যান্ত্রিক পরিপাক → রাসায়নিক পরিপাক → শোষণ → আত্মীকরণ → অপাচ্য পদার্থ নিষ্কাশন
২২. শ্বাসতন্ত্র
শ্বাসতন্ত্র (Respiratory System) হলো এমন অঙ্গতন্ত্র যার মাধ্যমে দেহ পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে।
প্রধান অঙ্গ
নাক → গলবিল → স্বরযন্ত্র → শ্বাসনালি → ব্রঙ্কাস → ব্রঙ্কিওল → অ্যালভিওলাই
১. নাক
নাক দিয়ে বায়ু প্রবেশ করে। নাকের লোম ও মিউকাস ধুলাবালি ও কিছু জীবাণু আটকে দেয়। বায়ুকে উষ্ণ ও আর্দ্র করতেও নাক সাহায্য করে।
২. শ্বাসনালি
শ্বাসনালি বা Trachea বায়ুকে ফুসফুসের দিকে নিয়ে যায়। এটি পরে ডান ও বাম Bronchus-এ বিভক্ত হয়।
৩. ব্রঙ্কিওল
ব্রঙ্কাস আরও ছোট ছোট শাখায় বিভক্ত হয়ে Bronchiole তৈরি করে।
৪. অ্যালভিওলাই
ফুসফুসে অসংখ্য ক্ষুদ্র বায়ুথলি থাকে, যেগুলোকে Alveoli বলা হয়।
এখানেই প্রধান গ্যাস বিনিময় ঘটে।
- অ্যালভিওলাই থেকে অক্সিজেন → রক্তে
- রক্ত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড → অ্যালভিওলাইতে
অ্যালভিওলাইয়ের দেয়াল খুব পাতলা এবং চারপাশে অসংখ্য কৈশিক রক্তনালি থাকে, তাই গ্যাসের আদান-প্রদান দ্রুত হয়।
শ্বাসক্রিয়া
শ্বাসক্রিয়ার দুটি প্রধান পর্যায়—
প্রশ্বাস (Inspiration): বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে।
নিঃশ্বাস (Expiration): বায়ু ফুসফুস থেকে বের হয়ে যায়।
এ কাজে ডায়াফ্রাম এবং আন্তঃপাঁজরীয় পেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শ্বাসক্রিয়া ও কোষীয় শ্বসনের পার্থক্য
| বিষয় | শ্বাসক্রিয়া | কোষীয় শ্বসন |
| অর্থ | বায়ু গ্রহণ ও ত্যাগ | খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদন |
| স্থান | ফুসফুস | প্রধানত কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া |
| প্রধান বিষয় | O₂ গ্রহণ, CO₂ ত্যাগ | ATP উৎপাদন |
২৩. রক্ত ও সংবহন
রক্ত (Blood) হলো একটি তরল সংযোজক টিস্যু, যা দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে অক্সিজেন, পুষ্টি, হরমোন, বর্জ্য ইত্যাদি পরিবহন করে।
রক্তের প্রধান উপাদান
১. প্লাজমা
২. লোহিত রক্তকণিকা বা RBC
৩. শ্বেত রক্তকণিকা বা WBC
৪. প্লাটিলেট
১. প্লাজমা
রক্তের তরল অংশ হলো প্লাজমা। এতে থাকে—
- পানি
- প্রোটিন
- লবণ
- পুষ্টি
- হরমোন
- বর্জ্য পদার্থ
২. RBC
RBC = Red Blood Cell
RBC-এর প্রধান কাজ হলো অক্সিজেন পরিবহন। এতে থাকা হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
মানুষের পরিণত RBC-তে সাধারণত নিউক্লিয়াস থাকে না।
৩. WBC
WBC = White Blood Cell
এগুলো রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. প্লাটিলেট
প্লাটিলেট বা Thrombocyte রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।
আঘাতের ফলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্লাটিলেটসহ বিভিন্ন clotting factor রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে।
হিমোগ্লোবিন
হিমোগ্লোবিন RBC-তে থাকা একটি লৌহযুক্ত প্রোটিন। এর প্রধান কাজ অক্সিজেন পরিবহন।
২৪. হৃদপিণ্ড
হৃদপিণ্ড (Heart) একটি পেশিবহুল অঙ্গ, যা রক্তকে সারা শরীরে পাম্প করে।
মানুষের হৃদপিণ্ড সাধারণত চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত—
- ডান অলিন্দ
- ডান নিলয়
- বাম অলিন্দ
- বাম নিলয়
রক্ত চলাচলের পথ
শরীর → ডান অলিন্দ → ডান নিলয় → ফুসফুস → বাম অলিন্দ → বাম নিলয় → শরীর
ডান পাশ
ডান পাশের হৃদপিণ্ড সাধারণত অক্সিজেন-স্বল্প রক্ত ফুসফুসে পাঠায়।
বাম পাশ
বাম পাশ ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে এবং সারা শরীরে পাঠায়।
হৃদপিণ্ডের ভালভ
হৃদপিণ্ডে বিভিন্ন ভালভ থাকে। এগুলো রক্তকে একদিকে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে এবং পিছনের দিকে ফিরে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
হৃদস্পন্দন
হৃদপেশির ছন্দবদ্ধ সংকোচন ও প্রসারণকে হৃদস্পন্দন (Heartbeat) বলা হয়।
হৃদপিণ্ডের নিজস্ব বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থা হৃদস্পন্দনের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে। এর প্রধান প্রাকৃতিক পেসমেকার হলো SA node।
দুই ধরনের সংবহন
ফুসফুসীয় সংবহন: হৃদপিণ্ড ↔ ফুসফুস
সিস্টেমিক সংবহন: হৃদপিণ্ড ↔ সমগ্র শরীর
২৫. রক্তের গ্রুপ
মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে সবচেয়ে পরিচিত দুটি ব্যবস্থা হলো—
- ABO blood group system
- Rh blood group system
ABO পদ্ধতি
ABO ব্যবস্থায় চারটি প্রধান গ্রুপ—
A, B, AB, O
এগুলো RBC-এর পৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট antigen এবং রক্তের প্লাজমায় থাকা antibody-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
| রক্তের গ্রুপ | RBC-তে প্রধান অ্যান্টিজেন | প্লাজমায় প্রধান অ্যান্টিবডি |
| A | A | Anti-B |
| B | B | Anti-A |
| AB | A ও B | Anti-A/B নেই |
| O | A/B নেই | Anti-A ও Anti-B |
Rh factor
RBC-তে Rh(D) antigen থাকলে তাকে সাধারণভাবে Rh-positive (+) বলা হয়।
না থাকলে Rh-negative (−) বলা হয়।
তাই রক্তের গ্রুপ যেমন হতে পারে—
- A+
- A−
- B+
- B−
- AB+
- AB−
- O+
- O−
রক্ত সঞ্চালনে গুরুত্ব
ভুল ABO বা Rh সামঞ্জস্যের রক্ত দিলে গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই রক্ত দেওয়ার আগে blood grouping ও cross-matching অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২৬. রেচনতন্ত্র
রেচনতন্ত্র (Excretory/Urinary System) দেহের বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণ এবং পানি, লবণ ও অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রধান অঙ্গ
- দুটি কিডনি
- দুটি ইউরেটার
- মূত্রথলি
- ইউরেথ্রা
কিডনি
কিডনি রক্ত থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও অতিরিক্ত পদার্থ ছেঁকে মূত্র তৈরিতে সাহায্য করে।
প্রধান বর্জ্যগুলোর একটি হলো ইউরিয়া, যা প্রোটিন বিপাকের সঙ্গে সম্পর্কিত।
নেফ্রন
নেফ্রন হলো কিডনির কার্যকরী একক।
একটি নেফ্রনের প্রধান অংশ—
- Glomerulus
- Bowman’s capsule
- Proximal tubule
- Loop of Henle
- Distal tubule
- Collecting duct
মূত্র গঠনের প্রধান ধাপ
১. Filtration
গ্লোমেরুলাসে রক্ত থেকে পানি ও ছোট দ্রবীভূত পদার্থ ছেঁকে Bowman’s capsule-এ প্রবেশ করে।
২. Reabsorption
দেহের প্রয়োজনীয় পানি, গ্লুকোজ, কিছু আয়ন ইত্যাদির বড় অংশ পুনরায় রক্তে শোষিত হয়।
৩. Secretion
কিছু পদার্থ রক্ত থেকে নেফ্রনের নালিতে সক্রিয়ভাবে নিঃসৃত হয়।
৪. মূত্র নির্গমন
চূড়ান্ত মূত্র → collecting duct → renal pelvis → ureter → bladder → urethra → বাইরে।
২৭. স্নায়ুতন্ত্র
স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করে।
প্রধান অংশ
স্নায়ুতন্ত্রকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র
CNS = Central Nervous System
এর অংশ—
- মস্তিষ্ক
- মেরুরজ্জু বা spinal cord
২. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র
PNS = Peripheral Nervous System
এতে মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্নায়ু ও সংশ্লিষ্ট গঠন থাকে।
নিউরন
Neuron হলো স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান সংকেতবাহী কোষ।
একটি সাধারণ নিউরনের অংশ—
- Dendrite
- Cell body
- Axon
ডেনড্রাইট সাধারণত সংকেত গ্রহণ করে এবং অ্যাক্সন সংকেত অন্য কোষের দিকে বহন করে।
Reflex action
কোনো উদ্দীপকের দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াকে Reflex action বলা হয়।
অনেক reflex-এর ক্ষেত্রে মেরুরজ্জু দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পথ হিসেবে কাজ করে, পরে মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছাতে পারে।
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ
- Cerebrum: চিন্তা, স্মৃতি, ভাষা, ইচ্ছাধীন কাজ
- Cerebellum: ভারসাম্য ও চলনের সমন্বয়
- Brainstem: শ্বাস, হৃদস্পন্দনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রমে ভূমিকা
২৮. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine Gland) হলো এমন গ্রন্থি যা নালির মাধ্যমে নয়, সরাসরি রক্তে হরমোন নিঃসরণ করে।
প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
| গ্রন্থি | প্রধান হরমোন | প্রধান কাজ |
| পিটুইটারি | বিভিন্ন হরমোন | বহু গ্রন্থির নিয়ন্ত্রণ |
| থাইরয়েড | থাইরক্সিন | বিপাক নিয়ন্ত্রণ |
| প্যারাথাইরয়েড | PTH | ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ |
| অ্যাড্রেনাল | অ্যাড্রেনালিন, কর্টিসল ইত্যাদি | চাপ/বিপাকসহ বিভিন্ন কাজ |
| অগ্ন্যাশয় | ইনসুলিন, গ্লুকাগন | রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ |
| ডিম্বাশয় | Estrogen, Progesterone | নারী প্রজনন ও সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন |
| অণ্ডকোষ | Testosterone | পুরুষ প্রজনন ও সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন |
পিটুইটারি গ্রন্থি
পিটুইটারি মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি। এর কিছু হরমোন শরীরের বৃদ্ধি ও অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
থাইরয়েড
থাইরয়েড প্রধানত থাইরক্সিন (T4) এবং T3-এর মতো হরমোন তৈরি করে। এগুলো দেহের বিপাকীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ।
অগ্ন্যাশয়
অগ্ন্যাশয়ের Islets of Langerhans থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগনসহ হরমোন নিঃসৃত হয়।
২৯. হরমোন
হরমোন হলো দেহের বিশেষ রাসায়নিক সংকেতবাহক, যা সাধারণত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যকোষ বা অঙ্গে গিয়ে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
গুরুত্বপূর্ণ হরমোন
১. ইনসুলিন
উৎপত্তি: অগ্ন্যাশয়
প্রধান কাজ:
- রক্তের গ্লুকোজ কমাতে সাহায্য করে
- কোষে গ্লুকোজ ব্যবহারে সহায়তা করে
- অতিরিক্ত গ্লুকোজ সঞ্চয়ে ভূমিকা রাখে
২. গ্লুকাগন
অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে এটি সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভাঙতে এবং রক্তের গ্লুকোজ বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. থাইরক্সিন
উৎপত্তি: থাইরয়েড গ্রন্থি
প্রধান ভূমিকা—
- বিপাক নিয়ন্ত্রণ
- বৃদ্ধি ও বিকাশে ভূমিকা
৪. অ্যাড্রেনালিন
উৎপত্তি: অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
জরুরি বা চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে শরীরের fight-or-flight response-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এটি হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, রক্তপ্রবাহের পুনর্বণ্টন ইত্যাদি প্রতিক্রিয়ায় সাহায্য করে।
৫. গ্রোথ হরমোন
পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত হয়। এটি শৈশব ও কৈশোরে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন টিস্যুর বিকাশে ভূমিকা রাখে।
৬. ADH
Antidiuretic Hormone (ADH) কিডনিতে পানির পুনঃশোষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
৭. অক্সিটোসিন
প্রজনন ও সন্তান জন্মদানের সময় জরায়ুর সংকোচন এবং স্তন্যদানের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
হরমোনের বৈশিষ্ট্য
- খুব অল্প পরিমাণেও কার্যকর হতে পারে।
- নির্দিষ্ট receptor-যুক্ত লক্ষ্যকোষে কাজ করে।
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক, পানি-লবণ ভারসাম্য, প্রজনন ও চাপের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
৩০. প্রজননতন্ত্র
প্রজননতন্ত্র (Reproductive System) হলো এমন অঙ্গতন্ত্র যা যৌন প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যামেট তৈরি এবং প্রজনন-সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
মানুষের প্রজননতন্ত্র প্রধানত—
- পুরুষ প্রজননতন্ত্র
- নারী প্রজননতন্ত্র
ক. পুরুষ প্রজননতন্ত্র
প্রধান অঙ্গ
- অণ্ডকোষ (Testes)
- Epididymis
- Vas deferens
- Seminal vesicles
- Prostate gland
- Urethra
- Penis
অণ্ডকোষ
অণ্ডকোষে শুক্রাণু (Sperm) তৈরি হয়।
এখানে Testosterone হরমোনও উৎপন্ন হয়।
Epididymis
শুক্রাণু এখানে পরিপক্ব হয় এবং কিছু সময় সঞ্চিত থাকে।
Vas deferens
শুক্রাণুকে epididymis থেকে পরবর্তী অংশে পরিবহন করে।
Seminal vesicle ও Prostate
এগুলো বিভিন্ন তরল যোগ করে, যা শুক্রাণুর সঙ্গে মিলে semen তৈরি করে।
পুরুষ গ্যামেট
শুক্রাণু (Sperm) হলো পুরুষের গ্যামেট। এটি haploid, অর্থাৎ এতে মানুষের স্বাভাবিক দেহকোষের তুলনায় অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
খ. নারী প্রজননতন্ত্র
প্রধান অঙ্গ
- ডিম্বাশয় (Ovary)
- Fallopian tube
- জরায়ু (Uterus)
- Cervix
- Vagina
ডিম্বাশয়
ডিম্বাশয়ে নারী গ্যামেট বা ডিম্বাণু (Ovum)-এর বিকাশ ঘটে।
এছাড়া ডিম্বাশয় থেকে প্রধানত Estrogen ও Progesterone-এর মতো হরমোন নিঃসৃত হয়।
Fallopian tube
ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ডিম্বাণু সাধারণত এই নালির মাধ্যমে অগ্রসর হয়। মানুষের ক্ষেত্রে নিষেক সাধারণত Fallopian tube-এর ampulla অঞ্চলে ঘটে।
জরায়ু
নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে বিকশিত ভ্রূণ জরায়ুর আবরণে স্থাপিত বা implant হয় এবং গর্ভাবস্থায় এখানেই বিকাশ লাভ করে।
Vagina
এটি নারী প্রজননতন্ত্রের একটি পেশিবহুল নালি এবং জন্মপথের অংশ।
নিষেক
পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক (Fertilization) বলা হয়।
শুক্রাণু + ডিম্বাণু → জাইগোট (Zygote)
জাইগোটে সাধারণত মানুষের ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে—২৩টি মাতৃসূত্রে এবং ২৩টি পিতৃসূত্রে।
এরপর—
জাইগোট → ভ্রূণীয় বিকাশ → ভ্রূণ → জন্ম
পুরুষ ও নারী প্রজননতন্ত্রের তুলনা
| বিষয় | পুরুষ | নারী |
| প্রধান গ্যামেট | শুক্রাণু | ডিম্বাণু |
| প্রধান গ্যামেট উৎপাদক অঙ্গ | অণ্ডকোষ | ডিম্বাশয় |
| প্রধান যৌন হরমোন | Testosterone | Estrogen, Progesterone |
| গ্যামেটের প্রকৃতি | ক্ষুদ্র ও গতিশীল | তুলনামূলক বৃহৎ, সাধারণত অচল |
| প্রধান প্রজনন ভূমিকা | শুক্রাণু উৎপাদন ও পরিবহন | ডিম্বাণু উৎপাদন, নিষেক ও গর্ভধারণে ভূমিকা |
মনে রাখার মতো সারসংক্ষেপ
পরিপাকতন্ত্র → খাদ্য পরিপাক ও পুষ্টি শোষণ
শ্বাসতন্ত্র → O₂ গ্রহণ ও CO₂ ত্যাগ
রক্ত → পরিবহন ও প্রতিরক্ষা
হৃদপিণ্ড → রক্ত পাম্প করে
রক্তের গ্রুপ → ABO ও Rh
রেচনতন্ত্র → বর্জ্য ও পানি-লবণ নিয়ন্ত্রণ
স্নায়ুতন্ত্র → দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
অন্তঃক্ষরা তন্ত্র → হরমোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ
হরমোন → রাসায়নিক সংকেত
প্রজননতন্ত্র → গ্যামেট ও প্রজনন প্রক্রিয়া
নিচে ৩১–৪০ নম্বর বিষয় ধারাবাহিকভাবে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার জন্য সংজ্ঞা, কারণ, উদাহরণ, লক্ষণ/ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।
৩১. মানব প্রজনন
মানব প্রজনন (Human Reproduction) হলো এমন জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করে। মানুষের প্রজনন যৌন প্রজনন এবং এতে পুরুষ ও নারী—উভয়ের গ্যামেটের অংশগ্রহণ থাকে।
নিষেক
নিষেক (Fertilization) হলো পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণুর মিলন।
শুক্রাণু + ডিম্বাণু → জাইগোট
মানুষের ক্ষেত্রে নিষেক সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবের অ্যাম্পুলা অঞ্চলে ঘটে।
জাইগোটে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে—২৩টি পিতার কাছ থেকে এবং ২৩টি মায়ের কাছ থেকে।
ভ্রূণের বিকাশ
নিষেকের পর—
জাইগোট → কোষ বিভাজন → ভ্রূণীয় বিকাশ → ভ্রূণ → নবজাতক
জাইগোট বারবার মাইটোসিসের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে প্রথমে ভ্রূণীয় বিভিন্ন পর্যায়ে যায়। পরে ভ্রূণের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্রের বিকাশ ঘটে।
গর্ভধারণ
নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে তৈরি প্রাথমিক ভ্রূণ জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আবরণে স্থাপিত হওয়াকে implantation বলা হয়।
গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ জরায়ুর মধ্যে বিকশিত হয়। প্লাসেন্টা মা ও ভ্রূণের মধ্যে অক্সিজেন, পুষ্টি ও বর্জ্য পদার্থের আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গর্ভাবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- ভ্রূণের বৃদ্ধি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ ঘটে।
- প্লাসেন্টা ভ্রূণকে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে।
- Umbilical cord ভ্রূণকে প্লাসেন্টার সঙ্গে সংযুক্ত করে।
- গর্ভাবস্থার শেষে জরায়ুর সংকোচন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
৩২. রোগ ও রোগজীবাণু
রোগ (Disease) হলো দেহের স্বাভাবিক গঠন বা কার্যক্রমে এমন পরিবর্তন, যার ফলে শারীরিক বা মানসিক স্বাভাবিকতা ব্যাহত হয়।
রোগজীবাণু (Pathogen) হলো এমন জীব বা সংক্রামক এজেন্ট যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রধান রোগজীবাণু
১. ভাইরাস
ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র সংক্রামক এজেন্ট এবং বংশবৃদ্ধির জন্য জীবন্ত কোষের ওপর নির্ভরশীল।
উদাহরণ:
- ডেঙ্গু
- ইনফ্লুয়েঞ্জা
- জলাতঙ্ক
- হাম
- COVID-19
২. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী প্রোক্যারিওটিক জীব। কিছু ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টি করে, আবার অনেক ব্যাকটেরিয়া উপকারীও।
উদাহরণ:
- যক্ষ্মা
- কলেরা
- টাইফয়েড
৩. ছত্রাক
কিছু ছত্রাক মানুষের ত্বক, চুল, নখ ইত্যাদিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
উদাহরণ:
- দাদ বা Ringworm
- Athlete’s foot
- Candidiasis
৪. প্রটোজোয়া
প্রটোজোয়া এককোষী ইউক্যারিওটিক জীব। কিছু প্রটোজোয়া মানুষের রোগ সৃষ্টি করে।
উদাহরণ:
- ম্যালেরিয়া — Plasmodium
- Amoebiasis — Entamoeba histolytica
রোগজীবাণু সংক্ষেপে
| রোগজীবাণু | উদাহরণ |
| ভাইরাস | ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, ইনফ্লুয়েঞ্জা |
| ব্যাকটেরিয়া | যক্ষ্মা, কলেরা, টাইফয়েড |
| ছত্রাক | দাদ, Candidiasis |
| প্রটোজোয়া | ম্যালেরিয়া, অ্যামিবিয়াসিস |
৩৩. সংক্রামক রোগ
সংক্রামক রোগ (Infectious Disease) হলো এমন রোগ যা রোগজীবাণুর কারণে সৃষ্টি হয় এবং সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি/প্রাণী বা পরিবেশ থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়াতে পারে।
সংক্রমণের প্রধান পথ
- বাতাস ও শ্বাসতন্ত্রের ফোঁটা
- দূষিত পানি
- দূষিত খাদ্য
- সরাসরি সংস্পর্শ
- রক্ত বা কিছু দেহীয় তরল
- মশা ও অন্যান্য বাহক
- দূষিত বস্তু
ডেঙ্গু
- রোগজীবাণু: Dengue virus
- বাহক: প্রধানত Aedes মশা
- প্রধান লক্ষণ: জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ইত্যাদি
- প্রতিরোধ: মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশার কামড় এড়ানো।
ম্যালেরিয়া
- রোগজীবাণু: Plasmodium
- বাহক: স্ত্রী Anopheles মশা
- লক্ষণ: জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম ইত্যাদি
- প্রতিরোধ: মশা নিয়ন্ত্রণ ও মশার কামড় এড়ানো।
যক্ষ্মা
- রোগজীবাণু: Mycobacterium tuberculosis
- প্রধানত ফুসফুস আক্রান্ত হয়।
- সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি/হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়াতে পারে।
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
কলেরা
- রোগজীবাণু: Vibrio cholerae
- সাধারণত দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়।
- তীব্র পানিশূন্যতা ঘটাতে পারে।
- নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও খাদ্য স্বাস্থ্যবিধি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
৩৪. ভাইরাসজনিত রোগ
ভাইরাসজনিত রোগ হলো ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট রোগ।
ভাইরাস নিজে স্বাধীনভাবে সাধারণ কোষের মতো বিপাক ও প্রজনন করতে পারে না; জীবন্ত কোষের ভেতরে প্রবেশ করে কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
ডেঙ্গু
ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয় এবং প্রধানত Aedes মশার মাধ্যমে ছড়ায়।
সাধারণ লক্ষণ—
- জ্বর
- মাথাব্যথা
- শরীর ও পেশিতে ব্যথা
- দুর্বলতা
- বমিভাব ইত্যাদি
গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ বা শকসহ জটিলতা দেখা দিতে পারে।
জলাতঙ্ক
- রোগজীবাণু: Rabies virus
- আক্রান্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালা, বিশেষত কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে।
- স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত করে।
- উপসর্গ শুরু হওয়ার আগে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইনফ্লুয়েঞ্জা
Influenza virus-এর কারণে হয়।
সাধারণ লক্ষণ—
- জ্বর
- কাশি
- গলা ব্যথা
- শরীর ব্যথা
- দুর্বলতা
ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধ
- প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ
- হাত পরিষ্কার রাখা
- অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে সতর্কতা
- নিরাপদ পানি ও খাদ্য
- বাহকনির্ভর রোগে মশা নিয়ন্ত্রণ
গুরুত্বপূর্ণ: অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।
৩৫. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
কিছু রোগ রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়।
যক্ষ্মা
রোগজীবাণু: Mycobacterium tuberculosis
প্রধানত ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, রাতের ঘাম ইত্যাদি হতে পারে।
যক্ষ্মার চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বিত কোর্স প্রয়োজন।
কলেরা
রোগজীবাণু: Vibrio cholerae
প্রধানত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রচণ্ড ডায়রিয়ার ফলে দ্রুত পানিশূন্যতা হতে পারে।
প্রতিরোধে—
- নিরাপদ পানি
- স্যানিটেশন
- হাত ধোয়া
- নিরাপদ খাদ্য
গুরুত্বপূর্ণ।
টাইফয়েড
রোগজীবাণু: Salmonella enterica serovar Typhi।
দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।
প্রধান লক্ষণ—
- দীর্ঘস্থায়ী জ্বর
- দুর্বলতা
- পেটের সমস্যা
- মাথাব্যথা
অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে
ব্যাকটেরিয়াজনিত সব সংক্রমণের চিকিৎসা একই নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে antibiotic resistance বাড়তে পারে।
৩৬. পরজীবী ও রোগ
পরজীবী (Parasite) হলো এমন জীব যা অন্য জীবের দেহে বা দেহের ওপর থেকে খাদ্য ও আশ্রয় গ্রহণ করে।
ম্যালেরিয়া
ম্যালেরিয়ার প্রধান রোগজীবাণু Plasmodium নামের প্রটোজোয়া।
জীবনচক্রে—
মানুষ ↔ Anopheles মশা
এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংক্রমণ ঘটে।
ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে লোহিত রক্তকণিকা আক্রান্ত হতে পারে, ফলে জ্বর ও কাঁপুনির মতো উপসর্গ দেখা যায়।
কৃমি
মানুষের অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের পরজীবী কৃমি থাকতে পারে।
উদাহরণ—
- Roundworm
- Hookworm
- Pinworm
- Tapeworm
সংক্রমণের পথ
- অপরিষ্কার হাত
- দূষিত খাদ্য বা পানি
- অপরিষ্কার পরিবেশ
- কিছু ক্ষেত্রে মাটি বা ত্বকের সংস্পর্শ
প্রতিরোধ
- সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
- নিরাপদ পানি পান
- ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া
- স্যানিটেশন বজায় রাখা
- নখ পরিষ্কার রাখা
৩৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) হলো রোগজীবাণু ও ক্ষতিকর বিদেশি পদার্থের বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরক্ষার ক্ষমতা।
রোগ প্রতিরোধের প্রধান ব্যবস্থা
১. জন্মগত বা Innate immunity
এটি জন্ম থেকেই থাকে।
উদাহরণ—
- ত্বক
- শ্বাসনালির মিউকাস
- পাকস্থলীর অ্যাসিড
- কিছু শ্বেত রক্তকণিকা
- প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া
২. অর্জিত বা Adaptive immunity
নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে তৈরি হয় এবং এর মধ্যে immunological memory থাকতে পারে।
অ্যান্টিজেন
Antigen হলো এমন কোনো বিদেশি অণু বা পদার্থ যা নির্দিষ্ট রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বা নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি/রিসেপ্টরের দ্বারা শনাক্ত হতে পারে।
অ্যান্টিবডি
Antibody হলো B-lymphocyte থেকে উৎপন্ন plasma cell-এর তৈরি বিশেষ প্রোটিন, যা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে চিনতে ও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে সাহায্য করে।
টিকা
টিকা (Vaccine) রোগজীবাণু বা তার নির্দিষ্ট উপাদানের নিরাপদ উপস্থাপনার মাধ্যমে দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করে।
এর ফলে ভবিষ্যতে একই বা সংশ্লিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া গড়ে উঠতে পারে।
মনে রাখুন
Antigen → Immune response → Antibody/immune cells → প্রতিরক্ষা
৩৮. ভিটামিন
ভিটামিন হলো শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাক ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব যৌগ, যা সাধারণত খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
ভিটামিন দুই ধরনের—
চর্বিতে দ্রবণীয়
A, D, E, K
পানিতে দ্রবণীয়
B-group ও C
ভিটামিন A
উৎস: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কলিজা, ডিমের কুসুম, দুধ ইত্যাদি।
কাজ: দৃষ্টিশক্তি, ত্বক ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভূমিকা।
অভাব: রাতকানা ও গুরুতর ক্ষেত্রে চোখের অন্যান্য সমস্যা।
ভিটামিন B
B-complex-এর বিভিন্ন ভিটামিনের বিভিন্ন কাজ আছে।
উৎস: শস্য, ডাল, ডিম, মাংস, দুধ, বাদাম ইত্যাদি।
অভাব: নির্দিষ্ট B ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। যেমন B1-এর অভাবে beriberi, B12-এর ঘাটতিতে রক্তস্বল্পতা ও স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।
ভিটামিন C
উৎস: পেয়ারা, আমলকি, লেবু, কমলা, অন্যান্য ফল ও সবজি।
কাজ: কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য, ক্ষত নিরাময় ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভূমিকা।
অভাব: স্কার্ভি, মাড়ির সমস্যা ও ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব।
ভিটামিন D
উৎস: সূর্যালোকের UVB-এর মাধ্যমে ত্বকে সংশ্লেষণ; এছাড়া মাছ, ডিমের কুসুম ও fortified খাবার।
কাজ: ক্যালসিয়াম-ফসফরাসের ভারসাম্য এবং হাড়ের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
অভাব: শিশুদের রিকেটস, প্রাপ্তবয়স্কদের osteomalacia হতে পারে।
ভিটামিন E
উৎস: উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম, বীজ ইত্যাদি।
কাজ: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন K
উৎস: সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি; অন্ত্রের কিছু ব্যাকটেরিয়াও K ভিটামিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
কাজ: রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
৩৯. খনিজ লবণ
খনিজ পদার্থ (Minerals) হলো দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অজৈব পুষ্টি উপাদান।
ক্যালসিয়াম — Ca
উৎস: দুধ, দই, ছোট মাছ, কিছু শাকসবজি।
কাজ:
- হাড় ও দাঁত গঠন
- পেশির সংকোচন
- স্নায়ুর কার্যক্রম
- রক্ত জমাট বাঁধা
অভাব: হাড় দুর্বল হতে পারে।
লৌহ — Fe
উৎস: কলিজা, মাংস, ডাল, শাকসবজি ইত্যাদি।
কাজ: হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
অভাব: Iron-deficiency anemia বা লৌহঘটিত রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
আয়োডিন — I
উৎস: আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক খাদ্য ইত্যাদি।
কাজ: থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে প্রয়োজনীয়।
অভাব: থাইরয়েডের কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে গলগণ্ড (Goiter) এবং শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে সমস্যা হতে পারে।
সোডিয়াম — Na
কাজ:
- শরীরের তরল ভারসাম্য
- স্নায়ু সংকেত
- পেশির কার্যক্রম
অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পটাশিয়াম — K
কাজ:
- স্নায়ু সংকেত
- পেশির কার্যক্রম
- কোষের তরল ও আয়নিক ভারসাম্য
ফসফরাস — P
হাড় ও দাঁত, ATP এবং DNA/RNA-সহ বিভিন্ন জৈব অণুর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজের তালিকা
| খনিজ | প্রধান কাজ | ঘাটতির উদাহরণ |
| Ca | হাড়, দাঁত, পেশি | হাড় দুর্বল |
| Fe | হিমোগ্লোবিন | রক্তস্বল্পতা |
| I | থাইরয়েড হরমোন | গলগণ্ড |
| Na | তরল ভারসাম্য, স্নায়ু | দুর্বলতা/ভারসাম্যহীনতা |
| K | পেশি ও স্নায়ু | পেশি দুর্বলতা |
| P | হাড়, ATP, DNA | ঘাটতি তুলনামূলক বিরল |
৪০. খাদ্য ও পুষ্টি
খাদ্য হলো এমন পদার্থ যা দেহ শক্তি, বৃদ্ধি, মেরামত ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য ব্যবহার করে।
পুষ্টি (Nutrition) হলো খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ, হজম, শোষণ, ব্যবহার ও দেহে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সামগ্রিক প্রক্রিয়া।
প্রধান পুষ্টি উপাদান
১. শর্করা
২. আমিষ বা প্রোটিন
৩. চর্বি
৪. ভিটামিন
৫. খনিজ
৬. পানি
১. শর্করা
শর্করা বা Carbohydrate দেহের একটি প্রধান শক্তির উৎস।
উৎস: ভাত, রুটি, আলু, গম, ভুট্টা, ফল ইত্যাদি।
শর্করার উদাহরণ—
- Glucose
- Fructose
- Sucrose
- Starch
দেহ জটিল শর্করা ভেঙে গ্লুকোজসহ ছোট অণু তৈরি করে এবং কোষীয় শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারে।
২. আমিষ বা প্রোটিন
প্রোটিন অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে গঠিত।
উৎস: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি।
কাজ
- পেশি ও টিস্যু গঠন
- ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত
- এনজাইম তৈরি
- কিছু হরমোন ও অন্যান্য কার্যকরী প্রোটিন তৈরি
- অ্যান্টিবডি তৈরিতে ভূমিকা
৩. চর্বি
Fat/Lipid দেহের গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস ও শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যম।
উৎস: উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম, বীজ, মাছ, দুধজাত খাবার ইত্যাদি।
কাজ
- শক্তি সরবরাহ
- দীর্ঘমেয়াদি শক্তি সঞ্চয়
- কোষঝিল্লি গঠনে ভূমিকা
- কিছু হরমোন তৈরিতে ভূমিকা
- চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K শোষণে সাহায্য
৪. ভিটামিন
ভিটামিন অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন—
A → দৃষ্টি
B → বিপাক ও স্নায়বিক কার্যক্রমের বিভিন্ন ভূমিকা
C → কোলাজেন ও ক্ষত নিরাময়
D → হাড় ও ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ
K → রক্ত জমাট বাঁধা
৫. খনিজ
যেমন—
Ca → হাড় ও দাঁত
Fe → হিমোগ্লোবিন
I → থাইরয়েড হরমোন
Na/K → স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রম
৬. পানি
পানি দেহের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান।
এর কাজ—
- শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
- পুষ্টি ও বর্জ্য পরিবহন
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যম
- রক্ত ও অন্যান্য দেহীয় তরলের প্রধান উপাদান
- কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা
সুষম খাদ্য
সুষম খাদ্য (Balanced Diet) হলো এমন খাদ্যব্যবস্থা যাতে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে শক্তি, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ, পানি ও খাদ্যআঁশ থাকে।
পুষ্টির মূল সম্পর্ক
খাদ্য → পরিপাক → শোষণ → কোষে ব্যবহার → শক্তি + বৃদ্ধি + মেরামত + দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম
৪১. এনজাইম
এনজাইম (Enzyme) হলো জীবদেহে উৎপন্ন জৈব অনুঘটক, যা নিজে স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত না হয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়। অধিকাংশ এনজাইমই প্রোটিন; তবে কিছু RNA অণুও অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এনজাইমের বৈশিষ্ট্য
- বিক্রিয়ার গতি বাড়ায়।
- সাধারণত খুব নির্দিষ্ট substrate-এর ওপর কাজ করে।
- অল্প পরিমাণ এনজাইমও কার্যকর হতে পারে।
- এনজাইমের কাজের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা ও pH প্রয়োজন।
- এনজাইম বিক্রিয়ার শেষে স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায় না।
এনজাইম কীভাবে কাজ করে?
এনজাইমের নির্দিষ্ট অংশকে active site বলা হয়। এখানে substrate যুক্ত হয়।
Enzyme + Substrate → Enzyme–Substrate complex → Product + Enzyme
এনজাইম বিক্রিয়ার activation energy কমিয়ে দেয়।
গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম ও কাজ
| এনজাইম | কোথায়/কীভাবে কাজ করে | প্রধান কাজ |
| Amylase | মুখ ও ক্ষুদ্রান্ত্র | স্টার্চ ভাঙে |
| Pepsin | পাকস্থলী | প্রোটিন ভাঙে |
| Trypsin | ক্ষুদ্রান্ত্র | প্রোটিন পরিপাকে সাহায্য করে |
| Lipase | ক্ষুদ্রান্ত্র | চর্বি ভাঙে |
| Maltase | ক্ষুদ্রান্ত্র | Maltose → Glucose |
| Lactase | ক্ষুদ্রান্ত্র | Lactose → Glucose + Galactose |
| Peptidase | ক্ষুদ্রান্ত্র | Peptide → Amino acid |
এনজাইমের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে
তাপমাত্রা: অতিরিক্ত তাপে অনেক এনজাইমের গঠন নষ্ট বা denaturation হতে পারে।
pH: প্রতিটি এনজাইমের একটি উপযোগী pH range থাকে। যেমন পাকস্থলীর Pepsin অম্লীয় পরিবেশে ভালো কাজ করে।
৪২. অণুজীববিজ্ঞান
অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology) হলো অণুজীব ও অতি ক্ষুদ্র জীব/জৈবিক এজেন্টের অধ্যয়ন।
প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ব্যাকটেরিয়া
- ভাইরাস
- ছত্রাক
- প্রোটোজোয়া
- অন্যান্য অণুজীব
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাকটেরিয়া এককোষী প্রোক্যারিওটিক জীব।
উপকারী ব্যাকটেরিয়া
- দই তৈরিতে সাহায্য করে
- কিছু ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেন চক্রে ভূমিকা রাখে
- মৃত জৈব পদার্থ পচনে সাহায্য করে
- শিল্পে বিভিন্ন পদার্থ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া
কিছু ব্যাকটেরিয়া—
- যক্ষ্মা
- কলেরা
- টাইফয়েড
ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
ভাইরাস
ভাইরাস কোষীয় জীব নয় এবং বংশবৃদ্ধির জন্য জীবন্ত কোষের ওপর নির্ভরশীল।
উদাহরণ—
- Dengue virus
- Influenza virus
- Rabies virus
ছত্রাক
ছত্রাক ইউক্যারিওটিক জীব। কিছু ছত্রাক পরিবেশে মৃত জৈব পদার্থ পচায় এবং কিছু খাদ্য ও ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
আবার কিছু ছত্রাক মানুষের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রোটোজোয়া
প্রোটোজোয়া সাধারণত এককোষী ইউক্যারিওটিক জীব।
উদাহরণ—
Plasmodium → ম্যালেরিয়া
অণুজীবের গুরুত্ব
অণুজীব—
- রোগ সৃষ্টি করতে পারে
- খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়
- পচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে
- পরিবেশের পুষ্টি চক্রে গুরুত্বপূর্ণ
- শিল্প ও ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়
- জৈবপ্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান
৪৩. জীবপ্রযুক্তি
জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology) হলো জীব, কোষ, এনজাইম বা জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য বা প্রযুক্তি তৈরি ও উন্নয়নের বিজ্ঞান।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
Genetic engineering হলো কোনো জীবের DNA-তে নির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা বা নির্দিষ্ট জিন অন্য কোষে স্থানান্তর করার প্রযুক্তি।
সাধারণভাবে ধাপগুলো হতে পারে—
কাঙ্ক্ষিত জিন নির্বাচন → DNA পৃথক/পরিবর্তন → উপযুক্ত কোষে প্রবেশ করানো → কোষের বৃদ্ধি → কাঙ্ক্ষিত পণ্য/বৈশিষ্ট্য
ব্যবহার
- ইনসুলিন উৎপাদন
- কিছু টিকা ও ওষুধ উৎপাদন
- রোগ নির্ণয়
- কৃষিতে উন্নত বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ তৈরি
- গবেষণা
ক্লোনিং
Cloning হলো জেনেটিকভাবে অভিন্ন বা প্রায় অভিন্ন কোনো জৈবিক কপি তৈরির প্রক্রিয়া।
ক্লোনিংয়ের বিভিন্ন ধরন আছে। যেমন—
- Gene cloning
- Cell cloning
- Organism cloning
Dolly
Dolly ছিল একটি বিখ্যাত ভেড়া, যা somatic cell nuclear transfer পদ্ধতিতে ক্লোন করা হয়েছিল। এটি প্রাণী ক্লোনিং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
জীবপ্রযুক্তির গুরুত্ব
- চিকিৎসা
- কৃষি
- খাদ্য উৎপাদন
- পরিবেশ ব্যবস্থাপনা
- শিল্প
- রোগ নির্ণয়
৪৪. পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র
পরিবেশ (Environment) হলো জীবকে ঘিরে থাকা জীবজ ও অজীব সব উপাদানের সমষ্টি।
বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীবসমাজ এবং তাদের অজীব পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্কের কার্যকর ব্যবস্থা।
বাস্তুতন্ত্রের উপাদান
১. জীবজ উপাদান
- উৎপাদক
- ভোক্তা
- বিয়োজক
২. অজীব উপাদান
- আলো
- পানি
- বায়ু
- মাটি
- তাপমাত্রা
- খনিজ
- pH
বাস্তুতন্ত্রের কার্যপ্রবাহ
সূর্যের শক্তি → উৎপাদক → প্রাথমিক ভোক্তা → দ্বিতীয়/উচ্চতর ভোক্তা → বিয়োজক
শক্তি একদিকে প্রবাহিত হয়, কিন্তু পদার্থ যেমন কার্বন, নাইট্রোজেন ও পানি বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে পুনরায় পরিবেশে ফিরে আসে।
৪৫. জীববৈচিত্র্য
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) হলো পৃথিবীতে বিদ্যমান জীবের বৈচিত্র্য। এর মধ্যে সাধারণত তিনটি স্তর গুরুত্বপূর্ণ—
- Genetic diversity — একই প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য
- Species diversity — বিভিন্ন প্রজাতির বৈচিত্র্য
- Ecosystem diversity — বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের বৈচিত্র্য
জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব
পরিবেশগত গুরুত্ব
জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
- খাদ্য
- ওষুধ
- কাঠ
- আঁশ
- মৎস্য
- কৃষি সম্পদ
বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
বিভিন্ন প্রজাতি গবেষণা ও নতুন জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দেয়।
জীববৈচিত্র্যের হুমকি
- বন উজাড়
- আবাসস্থল ধ্বংস
- দূষণ
- অতিরিক্ত শিকার
- অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য
- জলবায়ু পরিবর্তন
- আগ্রাসী বহিরাগত প্রজাতি
সংরক্ষণ
In-situ conservation
প্রজাতিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলেই সংরক্ষণ করা।
উদাহরণ: জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
Ex-situ conservation
প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে সংরক্ষণ করা।
উদাহরণ:
- চিড়িয়াখানা
- উদ্ভিদ উদ্যান
- Seed bank
- Gene bank
৪৬. খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল
খাদ্যশৃঙ্খল
Food chain হলো একটি বাস্তুতন্ত্রে খাদ্য ও শক্তি এক জীব থেকে অন্য জীবে স্থানান্তরের ধারাবাহিক পথ।
উদাহরণ:
ঘাস → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
এখানে—
- ঘাস = উৎপাদক
- ঘাসফড়িং = প্রাথমিক ভোক্তা
- ব্যাঙ = দ্বিতীয় স্তরের ভোক্তা
- সাপ = উচ্চতর ভোক্তা
- ঈগল = শীর্ষ ভোক্তা
উৎপাদক
উৎপাদক নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে।
উদাহরণ:
- সবুজ উদ্ভিদ
- শৈবাল
সাধারণত সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
ভোক্তা
অন্য জীবের ওপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে।
প্রাথমিক ভোক্তা
উদ্ভিদভোজী প্রাণী।
যেমন—হরিণ, ঘাসফড়িং।
দ্বিতীয় স্তরের ভোক্তা
প্রাথমিক ভোক্তাকে খায়।
যেমন—ব্যাঙ।
উচ্চতর ভোক্তা
খাদ্যশৃঙ্খলের ওপরের স্তরের প্রাণী।
যেমন—সাপ, ঈগল।
বিয়োজক
ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকসহ বিভিন্ন বিয়োজক মৃত জীব ও জৈব পদার্থ ভেঙে সরল পদার্থে পরিণত করে।
এতে পুষ্টি আবার পরিবেশে ফিরে আসে।
খাদ্যজাল
বাস্তবে একটি প্রাণী শুধু একটি প্রজাতির ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে Food web বা খাদ্যজাল তৈরি করে।
খাদ্যশৃঙ্খল = একটি প্রধান পথ
খাদ্যজাল = বহু আন্তঃসংযুক্ত খাদ্যশৃঙ্খল
৪৭. পরিবেশ দূষণ
পরিবেশ দূষণ হলো পরিবেশের বায়ু, পানি, মাটি বা অন্যান্য উপাদানের স্বাভাবিক গুণমান ক্ষতিকরভাবে পরিবর্তিত হওয়া।
১. বায়ুদূষণ
প্রধান দূষক—
- PM2.5 ও PM10
- Carbon monoxide
- Sulfur dioxide
- Nitrogen oxides
- Ozone
- বিভিন্ন জৈব দূষক
উৎস
- যানবাহন
- শিল্পকারখানা
- ইটভাটা
- জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো
- বর্জ্য পোড়ানো
প্রভাব
- শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা
- হৃদ্রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি
- চোখ ও শ্বাসনালিতে জ্বালা
- পরিবেশের ক্ষতি
২. পানিদূষণ
উৎস—
- শিল্পবর্জ্য
- পয়ঃবর্জ্য
- কৃষিজ সার ও কীটনাশক
- প্লাস্টিক
- তেল ও অন্যান্য রাসায়নিক
প্রভাব
- পানিবাহিত রোগ
- মাছ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি
- পানির অক্সিজেন কমে যাওয়া
- Eutrophication
৩. মাটিদূষণ
উৎস—
- অতিরিক্ত কীটনাশক
- শিল্পবর্জ্য
- প্লাস্টিক
- ভারী ধাতু
- অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা
প্রভাব
- মাটির উর্বরতা কমতে পারে
- উদ্ভিদ ও মাটির জীবের ক্ষতি
- খাদ্যশৃঙ্খলে দূষক প্রবেশ করতে পারে
দূষণ নিয়ন্ত্রণ
Reduce → Reuse → Recycle
এ ছাড়া—
- পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার
- বর্জ্য শোধন
- গণপরিবহন
- বৃক্ষরোপণ
- শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ
গুরুত্বপূর্ণ।
৪৮. বিবর্তন
বিবর্তন (Evolution) হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোনো জনসংখ্যার বংশগত বৈশিষ্ট্য ও জিনগত গঠনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।
ডারউইন ও বিবর্তন
Charles Darwin প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন।
তাঁর ধারণার প্রধান বিষয়—
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে।
- জীবেরা অধিক সন্তান উৎপাদনের সম্ভাবনা রাখে।
- সম্পদ সীমিত হওয়ায় প্রতিযোগিতা হয়।
- কিছু বংশগত বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট পরিবেশে সুবিধা দিতে পারে।
- সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবদের বেঁচে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
- বহু প্রজন্ম ধরে এর ফলে জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
প্রাকৃতিক নির্বাচন
Natural selection হলো পরিবেশগত পরিস্থিতির ফলে কিছু বংশগত বৈশিষ্ট্যধারী জীবের তুলনামূলক বেশি টিকে থাকা ও প্রজননের মাধ্যমে সেই বৈশিষ্ট্যের জনসংখ্যায় বেশি প্রচলিত হওয়ার প্রক্রিয়া।
এটি বুঝতে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যক্তি জীব নিজের জীবদ্দশায় বিবর্তিত হয় না; জনসংখ্যার জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরিবর্তিত হয়।
বিবর্তনের অন্যান্য প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে—
- Mutation
- Genetic drift
- Gene flow
- Natural selection
- Sexual selection
৪৯. প্রাণীর আচরণ
প্রাণীর আচরণ (Animal Behaviour) হলো কোনো প্রাণী কীভাবে তার পরিবেশ, অন্য প্রাণী এবং নিজের দেহের পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানায় তার অধ্যয়ন।
আচরণের ধরন
১. সহজাত আচরণ
জন্মগতভাবে নির্ধারিত আচরণ।
উদাহরণ:
- পাখির বাসা তৈরির কিছু আচরণ
- নবজাতকের কিছু স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া
২. শেখা আচরণ
অভিজ্ঞতা ও পরিবেশ থেকে শেখা আচরণ।
উদাহরণ:
- প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোনো আচরণ শেখা
- অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খাদ্য সংগ্রহের কৌশল পরিবর্তন
পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক
প্রাণীর আচরণ তার পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের অংশ হতে পারে।
উদাহরণ—
- পরিযায়ী পাখির ঋতুভিত্তিক স্থান পরিবর্তন
- শিকারির হাত থেকে বাঁচতে প্রাণীর সতর্কতা
- খাদ্যের সন্ধানে দলবদ্ধ আচরণ
- দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সক্রিয় হওয়া
অভিযোজন
অভিযোজন (Adaptation) হলো এমন বংশগত বৈশিষ্ট্য, যা কোনো পরিবেশে জীবের টিকে থাকা ও প্রজননে সহায়ক হতে পারে।
উদাহরণ—
- মেরু অঞ্চলের প্রাণীর ঘন লোম ও চর্বির স্তর
- মরুভূমির কিছু প্রাণীর পানি সংরক্ষণের ক্ষমতা
- জলজ প্রাণীর সাঁতারের উপযোগী দেহগঠন
আচরণ ও অভিযোজন
পরিবেশের পরিবর্তন → আচরণগত/শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া → টিকে থাকার সম্ভাবনা
তবে কোনো আচরণকে অভিযোজন হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তার বংশগত ও বিবর্তনীয় ভিত্তি এবং প্রজননগত সুবিধার প্রমাণ বিবেচনা করা হয়।
৫০. বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য
বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও এর নদী, হাওর, বিল, উপকূল, পাহাড়, বন ও সুন্দরবন—বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের কারণে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশের প্রধান বাস্তুতন্ত্র
- বনভূমি
- নদী ও মিঠাপানির জলাভূমি
- হাওর ও বিল
- উপকূলীয় অঞ্চল
- সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ
- পাহাড়ি বন
- সামুদ্রিক ও মোহনা অঞ্চল
সুন্দরবন
Sundarbans বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এর বড় অংশ অবস্থিত।
সুন্দরবনের বৈশিষ্ট্য
- ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ
- জোয়ার-ভাটার প্রভাব
- লবণাক্ত ও মিঠা পানির মিশ্র পরিবেশ
- নদী ও খালবেষ্টিত ভূপ্রকৃতি
উল্লেখযোগ্য প্রাণী
- রয়েল বেঙ্গল টাইগার
- চিত্রা হরিণ
- বন্য শূকর
- বানর
- কুমির
- বিভিন্ন প্রজাতির সাপ
- অসংখ্য পাখি ও মাছ
উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ
- সুন্দরী
- গেওয়া
- গরান
- কেওড়া
- গোলপাতা
বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের অন্যান্য উদাহরণ
স্তন্যপায়ী
- রয়েল বেঙ্গল টাইগার
- হাতি
- চিত্রা হরিণ
- মায়া হরিণ
- বানর
- শুশুক
পাখি
বাংলাদেশে পরিযায়ী ও স্থানীয়—উভয় ধরনের বহু পাখি দেখা যায়।
মাছ
নদী, হাওর, বিল ও উপকূলীয় জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যায়।
উদ্ভিদ
বাংলাদেশে রয়েছে—
- ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ
- চিরসবুজ ও অর্ধচিরসবুজ বন
- পত্রঝরা বন
- জলজ উদ্ভিদ
- কৃষিজ উদ্ভিদ
বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের হুমকি
১. বন উজাড়
২. আবাসস্থল ধ্বংস
৩. জল ও বায়ুদূষণ
৪. অতিরিক্ত মাছ ধরা ও শিকার
৫. অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য
৬. জলবায়ু পরিবর্তন
৭. নদী ও জলাভূমির পরিবর্তন
৮. প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য
৯. বহিরাগত আগ্রাসী প্রজাতি
সংরক্ষণের উপায়
- জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য সংরক্ষণ
- বন ও জলাভূমি রক্ষা
- বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করা
- অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ
- প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধার
- স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
- পরিবেশবান্ধব কৃষি ও মৎস্যচর্চা
- জীববৈচিত্র্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি